বন্যা - সিকদার অনি ( completed ) - অধ্যায় ৪০
সারারাত মাথা থেকে এসব উদ্ভট চিন্তা সরাতে চেয়েছি, অথচ পারিনি। তাই এই সকাল থেকেই অফিসে কোন কাজ উঠছেনা হাতে। আমি শুধু ঘন ঘন রেষ্টরুমে গিয়ে সিগারেট টানতে থাকলাম।
সাড়ে নয়টার দিকেই দেখলাম, লতিফকে নিয়ে রেষ্টরুমে ঢুকছে শফিক সাহেব। অথচ, আমার চোখের সামনে আমাকে ডিঙিয়ে খানিকটা দূরের একটা বেঞ্চিতে গিয়ে বসলো। ব্যপারটা বুঝলাম না। আমাকে কি এড়িয়ে গেলো? নাকি দেখেনি?
আমি উঠে গিয়ে, তার পাশেই বসলাম। লক্ষ্য করলাম, লতিফের সাথে আলাপ নিয়েই ব্যস্ত শফিক সাহেব। আমার দিকে তাঁকানোরও ফুরসৎ করছে না। আমি বললাম, সালাম হয়েছিলো কিন্তু!
শফিক সাহেব এবার আমার দিকে তাঁকিয়ে খ্যাক খ্যাক করে হাসতে হাসতে বললো, ওহ, অনি! তুমি নাকি ঐদিন ক্যাবিন এ ঢুকেছিলা?
আমি খানিকটা লজ্জিত হয়ে, মাথা নীচু করে বললাম, না মানে?
শফিক সাহেব বললো, আমি নাগপুরে এসেছি দু বছর হয়ে গেছে। ধরতে গেলে শুরু থেকেই প্রতি সপ্তাহে সুর লাভার্স ক্লাবে যাচ্ছি। আমার কখনো ক্যাবিনে ঢুকার সাহস হয়নি। আর, লতিফ ধরতে গেলে শৈশব থেকেই এখানে আছে। লতিফ, তুমি কখনো ক্যাবিনে ঢুকেছো?
লতিফ বললো, না, ক্যাবিনে যা খরচ! বেতনের টাকা এক রাতেই শেষ হয়ে যাবে! সংসার চালাবো কি দিয়ে?
আমি আবারো বলতে চাইলাম, না মানে?
শফিক সাহেব আবারো আমার মুখের উপর বললো, লুনা তো তোমাকে মেইল করেছিলো! উত্তর দাওনি কেনো?
আমার মনে পরে পরশু দিনের কথা। ইয়াহিয়া সাহেবের বোনের বাসায় যাবার কারনে, তার সাথে মেইল চালা চালি করতে গিয়ে, লুনার মেইলটার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। সুযোগ পেয়ে আমি বললাম, এরই মাঝে আবারও গিয়েছিলেন নাকি? কিন্তু, লুনা তো বলেছিলো উইক এন্ড ছাড়া সে ক্লাবে থাকেনা!
শফিক সাহেব খ্যাক খ্যাক করে হাসতে হাসতেই বললো, তুমি কি ঐসব লাভার্স গার্লদের কথা বিশ্বাস করো? ওরা তোমাকে বলবে উইক এন্ড, আমাকে বলবে সোমবার, লতিফকে বলবে বুধবার, আবার অন্য কাউকে বলবে মঙ্গলবার!
শফিক সাহেব এর কথা শুনে, লুনার উপর প্রচন্ড রাগ হলো আমার। এমনতরো ফাঁকি সে আমাকে দিতে পারলো? আমি হাতের অর্ধ সমাপ্ত সিগারেটটাতে কষে দুটো টান দিয়েউঠে দাঁড়ালাম। তারপর বললাম, উইকলী রিপোর্ট লিখতে হবে, এখন আসি।
এই বলে হন হন করেই ছুটতে থাকলাম। শফিক সাহেব পেছন থেকে ডাকলো, অনি, শোনো! আমার কথা শোনো!
আমি ফিরে এসে বললাম, কি বলেন! আমার একটু তাড়া আছে!
শফিক সাহেব বললো, আরে তাড়া তো আমারও আছে। বসো!
আমি বসতেই বললো, তোমাকে একটু বাজিয়ে দেখলাম। আমিও যেমনি এর মাঝে লাভার্স ক্লাবে যাইনি, লুনাও উইক এন্ড ছাড়া লাভার্স ক্লাবে আসেনা। আসলে, তুমি মেইলের উত্তর দাওনি বলে, এই একটু আগেই সে আমাকেই মেইল করেছে।
শফিক সাহেব তার মোবাইলটা খোলে দেখালো। আমি দেখলাম, তাতে লেখা, শফিক, অনি কি আবারও ব্যস্ত? নাকি আমার উপর রাগ করে আছে? মেইল করলাম, উত্তর পাইনি। আসলে, সেদিন ওকে ক্যাবিনে নিয়ে যাওয়া উচিৎ হয়নি। সাংঘাতিক ম্যুডি ছেলে। ওর প্রতি শুভেচ্ছা রইলো। -লুনা।
মেইলটা পড়ে খানিকটা স্বস্তি খোঁজে পেলাম। তবে, শফিক সাহেব বললো, তোমার পাংকুর কি খবর বলো?