কাজল নদী Written By Tumi_je_amar - অধ্যায় ৮
(#০২)
মানসী ভাবে একটা ছেলে ওকে কালো বলে নাক শিঁটকালো না আর ও এইরকম মন দিয়ে ফেলল! তারপর ভাবে বোন নিহারিকার ভাগ্য কি ভাল, যে স্বপনের মত ছেলে পেয়েছে। ইস্* যদি ওর ভাগ্যে স্বপন আসতো। একবার একটু হিংসা হয় বোনের জন্য। তারপরেই নিজে নিজেকে তিরস্কার করে। বোনকে ও খুব ভাল বাসে। সেই বোনের বন্ধু যে কিনা বোনকে বিয়ে করবে, তার দিকে চোখ দিচ্ছে। ছিঃ মানসী ছিঃ – আবার নিজেকেই ধিক্কার দেয়। আবার ভাবে আর একবার যদি স্বপন বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরত। কি শান্তি ওর বুকের মধ্যে হারিয়ে যেতে। স্বপনের হাত যখন নিজের দুই বুকে চেপে ধরেছিল ওর মন চাইছিল স্বপন ওর বুক দুটোকে দুমড়ে মুচড়ে দিক। কিন্তু স্বপন এত ভাল ছেলে যে ওইসবের কোন লক্ষণই দেখাল না। স্বপন এখন মা বাবার সাথে কথা বলছে। স্বপন ফেরার সময় ওকে নিজেই জড়িয়ে ধরবে। ওর বুকের মধ্যে নিজের বুক দুটো চেপে ধরবে। স্বপন ভাববে বন্ধু ভেবে জড়িয়ে ধরেছি। বাকি সবাইও তাই ভাববে। ও নিজেও তাই ভাববে। শুধু ওর শরীর অন্য কিছু ভেবে নেবে। বুঝতে পারে নিজের মনে বড় বেশী স্বপন স্বপন করে ফেলছে। তাড়াতাড়ি বৌদির কাছে পালিয়ে যায়।
সুলগ্না – কি হল আমার রাঙা দিদির ?
মানসী – কিছু না
সুলগ্না – নেহার বয় ফ্রেন্ড খুব ভাল ছেলে
মানসী – (লজ্জা লজ্জা মুখ করে) হ্যাঁ খুব ভাল ছেলে
সুলগ্না – তুমি লজ্জা পাচ্ছ কেন ?
মানসী – কই না তো, লজ্জা পাচ্ছি না তো।
বলতে বলতে মানসীর গলা লজ্জা আর কান্না মিশে ধরে যায়।
সুলগ্না – এই রাঙা দিদি কি হল
মানসী আর নিজেকে সামলাতে পারে না। বউদিকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। সুলগ্না একটু ভাবে তারপর বুঝতে পারে মানসীর মন।
সুলগ্না – কিন্তু রাঙা দি স্বপন নেহার বন্ধু, ওর সাথে বিয়ে করবে।
মানসী – হ্যাঁ সেটা জানি
সুলগ্না – কিন্তু ওকে দেখে তোমার মনে কি হল !
মানসী – এই প্রথম কোন ছেলে আমার সাথে এত ভাল ভাবে ব্যবহার করলো।
সুলগ্না – তা ঠিক। কিন্তু তাতে কি হল !
মানসী – স্বপন যখন আমাকে জড়িয়ে ধরল তখন আমার মনে হল আমি স্বর্গে পৌঁছে গিয়েছি। এই ভাবে ভালবেসে কেউ আমাকে ছোঁয় নি।
সুলগ্না – তুমি কি এই একটুতেই স্বপন কে ভালবেসে ফেললে ?
মানসী – সেইরকমই মনে হচ্ছে। যদিও আমি জানি ও নেহার বন্ধু। ও আমাকে ওইরকম কিছু ভাবে নি। কিন্ত ওর আলিঙ্গনে গিয়ে আমার মন জানলেও, শরীর মানতে চায় নি।
সুলগ্না – ও কিছু নয়। এটা সাময়িক ব্যাপার। তুমি ওকে বন্ধু হিসাবেই দেখবে।
মানসী – আমি সেটা বুঝি। তাই তোমার কাছে পালিয়ে এলাম, নিজেকে সামলিয়ে নেবার জন্য।
সুলগ্না – ভগবান তোমার জন্যেও ঠিক এইরকম একটা ছেলে বানিয়ে রেখেছেন। কোন না কোন দিন ঠিক তার খোঁজ পেয়ে যাবে।
মানসী – তোমার আশীর্বাদ থাকলে সব সম্ভব।