কিছু মনের সত্যি কথা - অধ্যায় ১৮৬
আমরা সবাই জানতুম 'রতন' ফেল করবে কারণ সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেতো।
মুশকিল হলো সৌম্যও সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেতো কিন্তু পরীক্ষায় ফার্স্ট হতো.....!!!
আমরা, যারা গড়ে ৩৫ থেকে ৫৫ নম্বর পেতুম, তারা কিছুতেই বুঝতে পারতুম না........সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া ঠিক না ভুল, পাপ না পুণ্য......!!!
এমতাবস্থায় পুজোর আগে কুল স্পর্শে বিরত থাকাই শ্রেয় ছিল।
রতন কিন্তু বলতো.. "তোরা ভাবিস কুল খাই বলে ফেল করি....., তা নয় রে বোকা।
বাবা বিছানায় তিন বছর, হাত পায়ে সাড় নেই।
লেখাপড়ার সময় কই......গ্যারেজে রাতদিন কাজ না করলে খাব কী.....!!!"
সৌম্যও বলতো একই কথা...., কুল খাওয়া না খাওয়ার সঙ্গে নাকি রেজাল্টের কোন সম্পর্ক নেই।
কিন্তু আমরা মন থেকে একথা কখনও মেনে নিতে পারিনি।
সৌম্য এখন খুব বড় ডাক্তার। ভাল পসার। খুব নামডাক।
আর রতনের বিশাল ব্যবসা, চারটে জেলায় মারুতির ডিলার।
- 'কুল' তালে কোন ফ্যাক্টর নয় মানছো.....???
" ফ্যাক্টর বৈকি, এই যে আমি হরিপদ কেরানী........আজ এই বয়সে এসেও সরস্বতী পুজোর আগে 'কুল' খাই না কারণ ভয়........ছেলেটা যদি "নাইন থেকে টেনে" উঠতে গিয়ে ফেল করে যায়......!!!
কুল হলো গিয়ে আদতে 'মধ্যবিত্ত' ফ্যাক্টর......!!! "