কিছু মনের সত্যি কথা - অধ্যায় ২০৬

Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-30209-post-3968794.html#pid3968794

Posted on Tue Nov 16 2021 by ddey333 (Profile)

Tags: None
406 words / 2 min read

Parent
অশান্তিটা পাকল রানামামা লাঞ্চ করে অফিসে নিজের টার্মিনালে ফেরার পর। মেলের ইনবক্স খোলা। সাতষট্টিটা নতুন মেল। ঢেকুরটা তুলতে গিয়ে গিলে ফেললেন। আসার কথা পঞ্চাশটা, চলে এল সাতষট্টিটা! কিছু ক্ষণ হাঁ করে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আরও দুটো ঢুকে এল। এ কী! রানামামা ভাগ্নে আবিরকে ফোন লাগালেন, “কী রে, এ তো এসেই চলেছে।” “আসতে দাও।” “ফাজলামি মারিস না।” বহু দিন ধরেই রানামামার মেলবক্স ভর্তি হয়ে নোটিফিকেশন এসে চলেছে— হয় খালি করুন, না হয় পয়সা দিয়ে আরও জায়গা কিনুন। খালি করা অসম্ভব। রানামামার যাবতীয় তথ্য ও নথি মেলে ঠাসা। তার মধ্যে এলআইসি-র প্রিমিয়াম সার্টিফিকেটও যেমন আছে, তেমনই পনেরো বছর আগের আদিসপ্তগ্রাম ভ্রমণের ছবিও আছে। কম্পিউটারে ভাইরাস ধরতে পারে, হার্ড ডিস্ক বা পেনড্রাইভ বিগড়োতে পারে এবং সিডি হারাতে পারে ধরে নিয়ে রানামামা মেলেই ভরসা রাখেন। এখন, ভর্তি হয়ে গেলে কী করণীয় জানতে চাওয়ায় আবির বলেছিল— “অন্য মেল আইডি ক্রিয়েট করে এগুলো সেখানে ফরোয়ার্ড করে দাও।” ভাল বুদ্ধি! কিন্তু কাঁহাতক ধরে ধরে পাঁচ হাজার মেল ফরোয়ার্ড করা যায়। এক সঙ্গে অনেকগুলো কী করে পাঠানো যায় জানতে চাওয়ায় লায়েক ভাগ্নে ‘গেঁড়িগুগলি’ বলে একটা সফট্ওয়্যারের খোঁজ দেয়। তাতে বিনা খরচে রোজ পঞ্চাশটা করে মেল একবারে ফরোয়ার্ড করা যাবে। আর তার বেশি চাইলে পয়সা দিতে হবে। পঞ্চাশটাই যথেষ্ট ভেবে ইনস্টল করা হল। একেবারে প্রথম থেকে পঞ্চাশটা সিলেক্ট করে নতুন মেলের ঠিকানা টাইপ করা হল। অতঃপর ‘গো’। দিব্যি গুটিগুটি চলে যাচ্ছে দেখে সন্তুষ্ট হয়ে লাঞ্চে যাওয়া হল, এবং ফিরে এসে সাতষট্টিটা নতুন মেল দেখে হতবাক হওয়া হল! আপাতত বাহাত্তর নম্বর ঢুকছে। একটু ইতস্তত করলেন রানামামা। নিজে নিজেই… যাই হোক, যেহেতু তারই পুরনো মেল থেকে নতুন মেলে এসে ঢুকছে, ফলে শাপে বর। শুধু ব্যাপারটাকে কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না, এই যা। এক বার ক্যানসেল করার অপশনও খুঁজলেন। পেলেন না। যাকগে, দ্বিপ্রাহরিক কাজে মন দিলেন রানামামা— এবং সেই কাজ মাথায় উঠল বিকেল চারটে তেত্রিশে। অ্যাকাউন্টসের নরোত্তম দাস এসে রীতিমতো বাজখাঁই গলায় বললেন, “শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম পাঠিয়েছেন? তাও আমায়? হঠাৎ কৃষ্ণ আপনাকে এ মতি দিলেন কেন?” নরোত্তম একে কড়াপাকের নাস্তিক, তায় ঠোঁটকাটা! রানামামা “হা মধুসূদন!” বলার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন। বহু প্রাচীন এক পুঁথি থেকে এই একশো আট নাম প্রায় আট বছর আগে ছবি তুলে মেলে সেভ করে রেখেছিলেন। গন্ডগোলটা ঠিক কোথায় পেকেছে, সেটা আন্দাজ করে তড়িৎ গতিতে পুরনো মেলটা খুলেই মামার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেল। মেল শুধু রানামামার সিলেক্ট করা নতুন অ্যাকাউন্টেই যাচ্ছে না— যত্র তত্র সর্বত্র ফরোয়ার্ড হয়ে চলেছে। আশু বিপদ আঁচ করে আমতা আমতা করলেন, “না মানে ঠিক…” “মানে-টানে আপনি বুঝুন। ওই কেষ্টই হোক আর বিষ্টুই হোক, আমার ঠিকানায় দয়া করে পাঠাবেন না। যত সব বস্তাপচা বিষয় নিয়ে— এই জন্যই দেশটার আর কিছু…”
Parent