কিছু মনের সত্যি কথা - অধ্যায় ৫০
যাপন
ক্যালেন্ডারের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়েছিলেন অসীম বাবু।
তিন সপ্তাহ হয়ে গেল অমিতাভ চলে যাবার পর।
কেন যে সেই দিন টা এসেছিল... তরতাজা জোয়ান ছেলেটাকে...ঘাতক ট্রাক এসে...এখনও ভাবলে শিউরে ওঠেন উনি। পাড়ার বন্ধুদের সাথে পিকনিক করতে গেছিল অমিতাভ। ফেরার পথেই হয়েছিল দুর্ঘটনা টা। যখন খবরটা পেয়েছিলেন, তখন গিন্নি আর বৌমা মিলে রাতের খাবার বানাচ্ছিলেন, বছর শুরুর দিনে একটু ভালোমন্দ আয়োজন ও হয়েছিল... আর তারপরই তো...
চোখ থেকে নেমে আসা জলটা তর্জনী দিয়ে মুছলেন অসীম বাবু।
অপঘাতে মৃত্যু, তাই কাজ মিটে গেছে চারদিনের মাথাতেই। আর তারপর থেকেই অবিরাম শূন্যতা। কিভাবে যে সকাল হয়...রাত্তির আসে...খেয়াল ই থাকে না। প্রথম প্রথম লোকজন আসত বাড়িতে, সময় কেটে যেত নিজের নিয়মে। কিন্তু এখন...লোক আসা কমে গেছে অনেক...আর তাই সময় কেটে যেত নিজের মনে...কিন্তু এখন তো লোকের যাতায়াত কমে গেছে, সময় কাটতেই চায় না। তাই এই দিন দুয়েক হলো বাড়ির কাছের মন্দিরে যাওয়া শুরু করেছেন উনি। সময় ও কাটে, আবার ধর্মের তত্ত্ব শুনে পোড়া মনকে শান্ত ও করা যায়।
আজ ও সেখানেই গেছিলেন। ফেরার পথে থমকে গেলেন হঠাৎ।
পুকুরধারে সাদা শাড়ি পরে...বউমা না?
এই অন্ধকারে পুকুর ধারে কেন? ভুলভাল কিছু করবে না তো মেয়ে?
দ্রুতপায়ে এগিয়ে গেলেন উনি। আর তারপর ই থমকে গেলেন।
বাঁধানো ঘাটের ধাপিতে বসে আছে বউমা, হাতে একটা ঠোঙা... কিছু একটা খাচ্ছে...
নিমিষে মাথায় এলো একটা কথা...বাড়িতে ঠিকভাবে রান্না হয় না কতদিন হল...খোকা যেদিন চলে গেল, সেদিন মাংস রান্না হচ্ছিল...কিন্তু সেটাও... আর এখন তো শুধুই একসিদ্ধ ভাত খেয়ে দিনযাপন... মাত্র পঁচিশ বছরের মেয়ে...পেট, মন মানে? তাই হয়ত...
গলার কাছটা দলা পাকিয়ে গেল ওঁর।
বাড়ির দিকে না গিয়ে আবার বাজারের পথ ধরলেন অসীম বাবু। যা হোক একটু আমিষ কিনে নিয়ে যেতে হবে... ছেলেটা গেছে...বউমা...না, না, মেয়েটা তো আছে...ওর জন্য...ওর জন্য...