২টি ছাদ ও কয়েকটি বিকেল... - অধ্যায় ১১

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-73110-post-6247566.html#pid6247566

🕰️ Posted on Thu Jun 25 2026 by ✍️ Dead people (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1599 words / 7 min read

Parent
 পর্ব: ১১ আদালত চত্বরের ভেতরে মানুষের ভিড়, কৌতূহলী দৃষ্টি, ফিসফাস—সবকিছু মিলিয়ে একটা টানটান পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলছে না, কিন্তু প্রত্যেকে জানে—আজ এমন একটা কথা শোনা যাবে, যা কারও জীবনে স্বস্তি এনে দেবে, আবার কারও জীবনে একটা দীর্ঘ অন্ধকারের শুরু হয়ে যাবে। কোর্টরুমের ভেতরে বসে থাকা মানুষগুলোর মুখে আলাদা আলাদা ভাব। কেউ কাগজ উল্টাচ্ছে, কেউ নিচু গলায় কথা বলছে, কেউ শুধু চুপচাপ সামনে তাকিয়ে আছে। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার আড়ালে একটা অদৃশ্য অপেক্ষা কাজ করছে—যেন সময়টা একটু থমকে আছে, ঠিক সেই মুহূর্তটার জন্য। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছে বাপ্পি। তার মুখে কোনো স্পষ্ট অভিব্যক্তি নেই, কিন্তু চোখদুটো বলে দিচ্ছে—সে অনেক দূর চলে এসেছে। কয়েকদিন আগেও যে ছেলেটা সহজে রেগে যেত, হাসত, চিৎকার করত—আজ তার ভেতরে সেই তাড়না নেই। বরং একটা ক্লান্ত স্থিরতা, একটা মেনে নেওয়া নীরবতা। এতদিন ধরে প্রতিটা দিন তাকে ভেঙেছে, আবার গড়েছে—শেষ পর্যন্ত সে বুঝে গেছে, এখানে আশা ধরে রাখা মানে নিজেকে প্রতিদিন একটু করে ভাঙা। তাই সে এখন আর আশার ওপর দাঁড়িয়ে নেই—সে দাঁড়িয়ে আছে ফলাফলের সামনে, যেটা আসবে, সেটাকেই মেনে নেবে। বিচারক যখন রায় পড়া শুরু করলেন, তখন পুরো কোর্টরুম নিস্তব্ধ হয়ে গেল। শব্দগুলো ধীরে ধীরে বাতাসে ভেসে উঠতে লাগল—প্রতিটা শব্দ যেন আলাদা করে শোনা যাচ্ছে, যেন প্রতিটা শব্দের আলাদা ওজন আছে। কেউ নড়ছে না, কেউ কাশছে না, এমনকি শ্বাস নেওয়ার শব্দও যেন কমে গেছে। এই কয়েকটা মুহূর্তের ভেতরেই একটা জীবনের দিক নির্ধারিত হবে—এই বোধটা সবাইকে একসাথে চুপ করিয়ে দিয়েছে। “…অভিযুক্ত বাপ্পি… ইচ্ছাকৃত খুন নয়… ঘটনাটি আকস্মিক…” এই কথাগুলো শোনার সাথে সাথে কোর্টরুমের ভেতরে একটা অদ্ভুত ঢেউ বয়ে গেল। কেউ একটু সামনে ঝুঁকল, কেউ চোখ তুলে তাকাল। আশার একটা ক্ষীণ আলো যেন হঠাৎ কোথাও জ্বলে উঠল—কিন্তু সেটা পুরোপুরি আলো না, আবার অন্ধকারও না। মাঝামাঝি একটা জায়গা, যেখানে মানুষ ঠিক বুঝে উঠতে পারে না—খুশি হবে, নাকি ভয় পাবে। “…আত্মরক্ষামূলক পরিস্থিতি বিবেচনায়…” বাপ্পির বুকের ভেতরটা ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠল। সে মাথা নিচু করল না, আবার পুরোপুরি সোজাও হয়ে দাঁড়াল না। যেন শরীরটা মাঝখানে আটকে আছে। তার মনে হচ্ছিল—এই কথাগুলো তার জন্য, কিন্তু তবুও পুরোপুরি তার না। যেন কেউ তার জীবনের গল্পটা বলে দিচ্ছে, কিন্তু তার ভেতরের সত্যিটা কেউ পুরোটা জানে না। তারপর এল সেই শব্দগুলো—যেগুলোর জন্য সবাই অপেক্ষা করছিল। “…১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড…” এই কথাটা শোনার পর সময় যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। কেউ চিৎকার করল না, কেউ হাততালি দিল না, কেউ প্রতিবাদ করল না। কারণ এই রায়টা এমন—যেখানে পুরোপুরি খুশি হওয়া যায় না, আবার পুরোপুরি ভেঙেও পড়া যায় না। এটা এমন একটা জায়গা, যেখানে মানুষ শুধু চুপ করে যায়। বাপ্পি ধীরে মাথা নিচু করল। তার ঠোঁটের কোণে একটা অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল—যেটা ব্যাখ্যা করা কঠিন। সেখানে দুঃখ আছে, কিন্তু পুরো দুঃখ না। স্বস্তি আছে, কিন্তু পুরো স্বস্তি না। যেন সে নিজের ভেতরে বলছে—“এইটাই হওয়ার ছিল।” তার চোখ একবার উঠে বাইরে গেল। রহিম চাচা দাঁড়িয়ে আছেন। তার চোখ ভেজা, ঠোঁট শক্ত করে চেপে রাখা। কিছু বলতে পারছেন না, কিন্তু সবকিছু তার চোখেই লেখা। দুইজনের চোখ আবার একবার মিলল। এইবার কোনো প্রশ্ন নেই, কোনো অভিযোগ নেই। শুধু একটা নীরব স্বীকারোক্তি—সবকিছু বদলে গেছে। আর আগের মতো কিছুই ফিরবে না। কোর্টরুম থেকে বের হওয়ার পর মানুষজন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। কেউ বলছে—“কম হইছে।” কেউ বলছে—“এইটাই ঠিক।” বিচার সবসময় সবার কাছে একরকম মনে হয় না। প্রত্যেকেই নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচারকে দেখে, নিজের মতো করে মাপ দেয়। কিন্তু এই কথাগুলোর বাইরে, আসল ভারটা পড়ে অন্য জায়গায়—যেখানে এই রায়ের প্রভাব গিয়ে লাগে। রকিকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।  সেদিন সন্ধ্যায় নীলার বাড়িটা এমনভাবে নিঃশব্দ ছিল, যেন সেই নীরবতা শুধু শব্দের অনুপস্থিতি না—বরং একটা ভেঙে পড়া জীবনের প্রতিধ্বনি। এই নীরবতা ঝড়ের আগের না, বরং ঝড় চলে যাওয়ার পরের, যখন সবকিছু ভেঙে পড়ে আছে, কিন্তু কেউ এখনো সেই ভাঙনের হিসাব করতে বসেনি। ঘরের ভেতরে বাতাসও যেন ভারী হয়ে আছে—চলছে, কিন্তু চাপা। ড্রয়িংরুমের মাঝখানে সোফায় বসে আছেন কাদের সাহেব। তার সামনে খবরের কাগজ খোলা, পাতাগুলো অল্প বাতাসে নড়ছে, কিন্তু তিনি পড়ছেন না। চোখ কাগজের ওপর স্থির, অথচ মন অনেক দূরে—সম্ভবত এমন এক জায়গায়, যেখানে তিনি নিজের সিদ্ধান্তগুলোকে বারবার যাচাই করছেন, কিন্তু স্বীকার করতে পারছেন না যে কোথাও কিছু ভেঙে গেছে। তার মুখে যে শক্ত ভাবটা, সেটা আসলে রাগের না—বরং একধরনের জোর করে ধরে রাখা নিয়ন্ত্রণ। মানুষ যখন ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে, তখন অনেক সময় সে বাইরে আরও শক্ত হয়ে ওঠে। যেন নিজেকে বোঝাতে চায়—“আমি ঠিক আছি।” কিন্তু সেই শক্ত মুখের নিচে একটা অদৃশ্য চাপা আতঙ্ক লুকিয়ে থাকে—যদি সবকিছু হাতের বাইরে চলে যায়? নীলা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল অনেকক্ষণ। ভেতরে ঢোকার আগে সে নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু আসলে প্রস্তুত হওয়ার মতো কিছু আর বাকি নেই তার ভেতরে। তার চোখদুটো ফাঁকা, যেন সে অনেক কিছু দেখেছে, কিন্তু এখন আর কিছু অনুভব করতে পারছে না। ধীরে ধীরে সে ভেতরে ঢুকল, পায়ের শব্দও যেন খুব মৃদু—যেন সে নিজেই নিজের উপস্থিতি লুকাতে চাইছে। কাদের সাহেব তাকালেন না। যেন তিনি জানেন—কে এসেছে, কেন এসেছে, কী বলবে—সবই আগেই ঠিক করা। তিনি শুধু বললেন, “মামলা শেষ।” কথাটা এমনভাবে বলা, যেন এটা কোনো আবেগহীন তথ্য, কিন্তু এই দুইটা শব্দের ভেতরে একটা চূড়ান্ততা আছে। একটা দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। আরেকটা খুলতে যাচ্ছে—কিন্তু সেটা আলোয় না, অন্ধকারে। তিনি একটু থামলেন, তারপর খুব ঠাণ্ডা, স্থির গলায় বললেন, “এইবার তোর বিয়া। এইবার আর কোনো কথা নাই।” এই কথাটার ভেতরে কোনো অনুরোধ নেই, কোনো প্রশ্ন নেই—শুধু নির্দেশ। যেন একজন বাবা তার মেয়ের সাথে কথা বলছেন না, বরং একজন বিচারক তার রায় ঘোষণা করছেন। নীলা চুপ করে রইল। তার ভেতরে যে ঝড় ওঠার কথা—রাগ, কান্না, প্রতিবাদ—কিছুই হলো না। সে শুধু দাঁড়িয়ে রইল, যেন তার শরীর এখানে, কিন্তু মন অনেক আগেই এই ঘর ছেড়ে চলে গেছে। তার মনে হচ্ছিল, এই কথাগুলো সে নিজের জীবনের জন্য শুনছে না—কেউ যেন অন্য কারও জন্য সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, আর সে শুধু সেই গল্পের একটা চরিত্র। কাদের সাহেব এবার তাকালেন। তার চোখে অস্থিরতা, বিরক্তি—“চুপ কইরা থাকলে চলবো না। যা বলতেছি, সেইটাই হইবো।” তার কণ্ঠে এমন একটা চাপা তাড়না, যেন তিনি ভয় পাচ্ছেন—যদি এই মেয়ে এখন কিছু বলে, কিছু ভেঙে পড়ে। নীলা ধীরে বলল, “আচ্ছা।” এই শব্দটা তার নিজের মনে হলো না। যেন সে বাইরে থেকে নিজের কণ্ঠ শুনছে। যেন তার ভেতরের মানুষটা চুপ করে আছে, আর বাইরে কেউ তার হয়ে কথা বলছে। এই “আচ্ছা” কোনো সম্মতি না—এটা আত্মসমর্পণ। এই এক মুহূর্তে কাদের সাহেব নিজেও একটু থমকে গেলেন। তিনি হয়তো আশা করেছিলেন—নীলা কিছু বলবে, তর্ক করবে, কাঁদবে। কারণ সেই প্রতিক্রিয়াগুলো স্বাভাবিক। কিন্তু এই নিঃশব্দ মেনে নেওয়াটা অস্বাভাবিক। এটা ভয়ংকর। কারণ যখন মানুষ আর প্রতিবাদ করে না, তখন বুঝতে হয়—সে ভেতরে ভেতরে সব ছেড়ে দিয়েছে। রাতে নিজের ঘরে বসে ছিল নীলা। আলো নিভানো। জানালার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে আছে। শহর ঠিক আগের মতোই চলছে—লাইট জ্বলছে, গাড়ি যাচ্ছে, দূরে কোথাও হাসির শব্দ ভেসে আসছে। এই স্বাভাবিকতা তার কাছে অদ্ভুত লাগছে। মনে হচ্ছে—কিভাবে সবকিছু এত স্বাভাবিক থাকতে পারে, যখন তার ভেতরে সবকিছু থেমে গেছে? সে নিজের হাতের দিকে তাকাল। হাতদুটো খুব চেনা, অথচ আজ অচেনা লাগছে। খুব আস্তে করে সে বলল, “আমি কি কারও জীবন নষ্ট করে দিচ্ছি?” প্রশ্নটা সে কারও কাছে করছে না। নিজের কাছেই। কিন্তু উত্তর নেই। শুধু নীরবতা। তার মাথায় একে একে কয়েকটা মুখ ভেসে উঠল—রাফি, যার চোখে সে একসময় নিজের ভবিষ্যৎ দেখেছিল; বাপ্পি, যে আজ জেলের ভেতরে, আর তার জীবনের একটা অংশ হয়ে থেকেও কিছুই ধরে রাখতে পারেনি; আর তার নিজের বাবা, যিনি তাকে ভালো রাখতে চান, কিন্তু সেই ভালো রাখার পথটাই তাকে ভেঙে দিচ্ছে। এই তিনটা মানুষ, তিনটা আলাদা গল্প—কিন্তু কোথাও গিয়ে তারা সবাই তার সাথে জড়িয়ে গেছে। আর সেই জড়িয়ে যাওয়াটাই এখন তাদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে ভাবল—“আমি না থাকলে হয়তো সহজ হইতো…” এই চিন্তাটা হঠাৎ আসে, আবার মিলিয়ে যায়। কিন্তু পুরোপুরি যায় না। একটা ছায়ার মতো থেকে যায়। অন্ধকারে, চুপচাপ। তার চোখে পানি আসে না। কাঁদতে পারছে না সে। এই না-কাঁদতে পারাটা আরও ভয়ংকর। কারণ কষ্ট যখন বের হতে পারে না, তখন সেটা ভেতরে জমে জমে মানুষকে ভেতর থেকেই ফাঁকা করে দেয়। সাইফের বাড়ি। ড্রয়িংরুমের আলো জ্বলছে, কিন্তু পরিবেশ ভারী। তার বাবা সামনে বসে আছেন, মুখ গম্ভীর, চোখে একধরনের কঠোরতা—যেটা আসলে অভ্যাসের, বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা। “তুই কি বললি?”—তার কণ্ঠে অবিশ্বাস, যেন তিনি ঠিক শুনতে চাননি। সাইফ শান্তভাবে বলল, “আমি এই বিয়াটা করব না।” কথাটা বলার সময় তার গলা কাঁপেনি। কিন্তু তার ভেতরে একটা অদ্ভুত টান অনুভব করছিল। কারণ সে জানে—এই একটা বাক্য তার জীবনের অনেক কিছু বদলে দেবে। তার মা আস্তে বললেন, “কেন? সমস্যা কী?” তার কণ্ঠে উদ্বেগ, আবার একটু ভয়ও। সাইফ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, “কারণ সে অন্য কাউরে ভালোবাসে।” এই কথাটা বলার সময় তার মনে হচ্ছিল—সে শুধু নীলার কথা বলছে না, নিজের কথাও বলছে। কারণ সে জানে—ভালোবাসা জোর করে হয় না। তার বাবা ধীরে বললেন, “বিয়া মানে শুধু ভালোবাসা না। দায়িত্ব আছে, সম্মান আছে।” এই কথাটা তিনি বিশ্বাস করেন। তার কাছে জীবন মানে নিয়ম, কাঠামো, সামাজিক অবস্থান। সাইফ মাথা নাড়ল—“আমি জানি।” তারপর একটু থেমে বলল, “কিন্তু আমি আরেকটা মানুষরে ভাঙতে পারব না।” এই কথাটার ভেতরে তার নিজের অতীত লুকিয়ে আছে—আরিবার স্মৃতি, সেই দুর্ঘটনা, সেই হারিয়ে যাওয়া মুহূর্ত, যেটা সে আজও ভুলতে পারেনি। তার মনে পড়ে—আরিবার হাসি, তার চোখের ভেতরের স্বপ্ন। আর তারপর হঠাৎ একদিন সব শেষ হয়ে যাওয়া। সেই দিন থেকে তার ভেতরে একটা অপরাধবোধ বাসা বেঁধে আছে। সে নিজেকে বারবার প্রশ্ন করে—“আমি যদি একটু বেশি কেয়ারফুল হতাম?” এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই, কিন্তু এটা তাকে ছাড়ে না। রাত গভীর হলে সে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। শহরের আলো নিচে ছড়িয়ে আছে—ছোট ছোট বিন্দুর মতো। তার মাথায় বারবার একটা মুখ ভেসে উঠছে—শিউলি। তার সরলতা, তার সরাসরি কথা বলা, তার চোখের ভেতরের অদ্ভুত শক্তি। সাইফ বুঝতে পারে—এই মেয়েটার সাথে থাকলে তার আবার বাঁচতে ইচ্ছে করে। আবার হাসতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেই সাথে একটা ভয়ও কাজ করে—সে কি আবার কাউকে হারাবে? আবার কাউকে কষ্ট দেবে? এই ভয়টা তার পিছু ছাড়ে না। রাতটা খুব লম্বা। সময় এগোচ্ছিল, কিন্তু যেন ধীরে। একদিকে জেলের ভেতরে বাপ্পি চুপচাপ শুয়ে ছিল। ১২ বছর—সংখ্যাটা ছোট না। কিন্তু সে তবুও মেনে নিয়েছে। কারণ কখনো কখনো মানুষ বাঁচার জন্য না, মেনে নেওয়ার জন্য বাঁচে। অন্যদিকে, একটা অন্ধকার ঘরে নীলা বসে আছে—নিজেকে হারিয়ে ফেলছে ধীরে ধীরে। তার ভেতরে আলো নিভে যাচ্ছে, কিন্তু বাইরে কেউ সেটা দেখতে পাচ্ছে না। আরেকটা বারান্দায় দাঁড়িয়ে সাইফ ভাবছে—সে কি নিজের সত্যিটা বেছে নেবে, নাকি আবার চুপ করে থাকবে? তিনটা আলাদা জায়গা, তিনটা আলাদা মানুষ—কিন্তু তাদের গল্পগুলো একসাথে বাঁধা। অদৃশ্য সুতোয়। (চলবে...)
Parent