অঘটনঘটন পটিয়সী (নতুন আপডেট ৩৭) - অধ্যায় ২৪০

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-52771-post-6289777.html#pid6289777

🕰️ Posted on Mon Aug 17 2026 by ✍️ কাদের (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1417 words / 6 min read

Parent
জ সাবরিনা মাহফুজ বের হতেই সিনথিয়া দরজা লাগিয়ে দিল। সাফিনা ডাইনিং টেবিলের সামনে দাঁড়ানো ছিলেন। সিনথিয়ার দৃষ্টি দেখে বুঝলেন সিনথিয়া দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। মায়ের দিকে তাকিয়ে সিনথিয়া বলল মাহফুজ আর এক দেড় ঘন্টার আগে আসবে না। সাফিনা বললেন ওকে তবে একটু দাড়া। বেডরুম থেকে ঘুরে আসলেন আগে। মিজবাহ অঘোরে ঘুমাচ্ছে। দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে ড্রয়িংরুমে সোফার উপর এসে বসলেন। তার পায়ের কাছে এসে বসল সিনথিয়া। মা বল এইবার। সাফিনা বললেন, কি শুনতে চাস? সিনথিয়া বলে সবকিছু শুরু থেকে। সাফিনা এরপর শুরু করেন। তার বিয়ে হয়েছে কম বয়সে। বাচ্চা হয়েছে কম  বয়সে। বাচ্চা নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। শ্বশুড়, শাশুড়ি, দেবর, ননদ, বাচ্চা সামলে চাকরি নিয়েছেন। পিএইচডি করেছেন। একটা সময় সাবরিনা আর সিনথিয়া যত বড় হলো, শ্বশুড় শাশুড়ি মারা গেলেন। দেবর ননদরা বিয়ে করে কেউ আলাদা হলো কেউ বিদেশ গেল । মিজবাহ অফিসের কাজে আর বিজি হয়ে গেলেন। এই সময় উনি এক ধরনের একাকীত্ব ফিল করতে শুরু করলেন। এই একাকীত্বের অনুভূতির শুরু আর ছয় সাত বছর ধরেই। সিনথিয়া যখন ইলাভেন টুয়েলেভে পড়ে সেই সময় থেকে। সময়ের সাথে সাথে আর বড় হয়েছে এই একাকীত্ব। মিজবাহের ছেলে না হওয়া নিয়ে এক ধরনের যে কমপ্লেক্স আছে সেটা এড়িয়ে গেলেন সযতনে। মেয়ে যত বড় হোক সব শেয়ার করা যায় না মেয়ের সাথে। কিভাবে তার এখন মাঝে মাঝে এত বছর পর মনে হয় কাজল দা মারা না গেলে কি হতো? সেটাও বলতে পারলেন না। তাই চাকরিতে নানা অপ্রাপ্তি কিভাবে তাকে আঘাত করেছে সেটা বললেন। তার সমবয়সীরা যেখানে প্রমোশন পাচ্ছে কলেজের প্রিন্সিপাল হয়ে যাচ্ছে সেখানে ফ্যামিলি অবলিগেশনের কারণে ঢাকা ছাড়তে পারছেন না বলে তার প্রিন্সিপাল হওয়া অনেক দূরের ব্যাপার। রাজধানী শহরে তার বয়সে প্রিন্সিপাল হওয়া যাবে না। আবার পরে যখন বয়স বাড়বে তখন অভিজ্ঞতা নেই বলে তখনো এই ঢাকা শহরের বড় বড় কলেজগুলোতে প্রিন্সিপাল হতে পারবেন না। সিনথিয়া মায়ের কথা অবাক বিস্ময়ে শুনছে। এতদিন ধরে যে মা কে মনে হত পাহাড়ের মত অবিচল সেই মায়ের মনের ভিতর কতকিছু খেলা করে গেছে এতটা বছর তা জানতেও পারেনি পাশে দাঁড়িয়ে। ওদের কে যখন সব বিপদ আপদে রক্ষা করেছে মা তখন তার ভিতরটা একটু একটু করে একাকীত্বে হারিয়ে গেছে। বাবার উপর রাগ হয় সিনথিয়ার। ওর বাবা ভাল মানুষ জানে ও। তবে এত ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড হয়ে কি হয়েছে। কি হবে যদি কোম্পানির সিইও হয়? বেতন বাড়বে স্ট্যাটাস বাড়বে কিন্তু এই যে মা একা হয়ে যাচ্ছে  আর দিন দিন সেদিকে কি খেয়াল করবে না। সিনথিয়া বলল বাবাকে তুমি বল নি এইসব? সাফিনা বললেন সরাসরি বলতে পারি নি। আমরা মেয়েরা অনেক সময় আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের জিনিসটা আর মুখ ফুটে বলতে পারি নি। যত দিন গেছে তোর বাবা তত বেশি ক্যারিয়ারে মনযোগ দিয়েছে। তোর বাবা খুব ভাল মানুষ। সন্দেহ নেই। ক্যারিয়ারে উপর উঠতে থাকলে এই বয়সে মানুষ অনেক রকম বাজে অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে। মিজবাহের সেই অভ্যাস নেই। তবে মানুষটা ঠিক অনেক সময় ঘরের দিকে মনযোগ দিতে ভুলে যায়। মায়ের কথা শুনতে শুনতে সিনথিয়ার চোখে পানি আসে। জড়িয়ে ধরে মা কে। মায়ের মাথায় চুমু খায়। এরপর বলে মা, এতদিন তোমাকে অনেক জ্বালিয়েছি। তুমি যদি উত্তর বলতে আমি তাহলে দক্ষিণ বলতাম শুধু তোমার বিরোধীতা করবার জন্য। তখন এত কিছু ভাবি নি। শুধু ভেবেছি তুমি বুঝি আমাকে আটকে রাখতে চেয়েছ নিয়ম কানুনের শৃংখলে। এই বাড়িতে অন্য কেউ আমাকে আটকাতে পারে নি শুধু তুমি পারতে আমাকে বাধতে। তাই আমার সব বিদ্রোহ ছিল তোমার বিরুদ্ধে। এই সময় আমি না বুঝে তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। তবে প্রথম যখন তোমাদের ছাড়া বিদেশ গিয়ে একা একা থাকতে শুরু করলাম তখন প্রথম বুঝলাম টান কি জিনিস। তোমার কথা ভেবে ভেবে মাঝে মাঝে কান্না আসত। আর আজকে যখন তুমি তোমার কষ্ট বলা শুরু করলে তখন আমি টের পেলাম তুমি খালি একজন মা না, তুমি একজন নারী। একজন মানুষ। আমাদের মত তোমার সখ আল্লাদ, কষ্ট, আনন্দ সব আছে। জন্ম থেকে তোমাকে দেখেছি কিভাবে এক হাতে এই পুরো পরিবার সামলে নিজের চাকরি, পিএইচডি সব করেছ। আমার বয়সে তোমার দুই দুইটা সন্তান হয়ে গিয়েছিল আর  আমি এই বয়সে শুধু নিজেকে সামলাতে হবে এটা করতেই আমার জান বের হয়ে যায় কোন কোন সাপ্তাহে। এরপর থেকে আসলে আমি টের পেয়েছি তুমি খালি আমাদের মা না, তুমি একজন আলাদা মানুষ। আপু, বাবা, আমি কেউ তোমাকে তোমার প্রাপ্য সময়টুকু দিতে পারি নি এত বছর। তবু তুমি আমাদের জন্য সব করে যাচ্ছ, পর্দার আড়ালে থেকে সব সামলে যাচ্ছ। সিনথিয়ার কথায় এইবার সাফিনার চোখে পানি চলে আসে। সাবরিনা সব সময় বাধ্য মেয়ে। তার সব কথা সব সময় মেনে চলে এসেছে।  অন্য দিকে সিনথিয়া ছিল পরিবারের বিদ্রোহী সন্তান। সব সময় বাবা মায়ের ইচ্ছার উলটো কিছু একটা তার করতে হবে। সেই সিনথিয়া গত দুই বছরে হঠাত অনেক বড় হয়ে গেছে। বড় মেয়ে সাবরিনা কে যে কথা বলতে পারেন নি তার ছোট মেয়ে সিনথিয়া কে গড়গড় করে সেইসব কথা বলে ফেলেছে্ন আজ। বলার পর অবশ্য হালকা লাগছে বুকে। মেয়েরা আসলে একটা সময়ে মায়েদের বন্ধু হয়ে যায়। সাফিনা সিনথিয়ার চোখের কোণায় জল মুছে দিতে দিতে বলেন, জানিস এই কথা গুলো সাবরিনাকেও বলা হয় নি। সিনথিয়া এইবার দুষ্ট হাসি দিয়ে বলে, এই একটা বার অন্তত আপুর আগে তুমি আমাকে চুজ করলে। সাফিনা মেয়ের পিঠে আস্তে একটা কিল দিয়ে বলেন খালি কম্পারিজন বোনের সাথে। তোদের দুইজনকে আমি সমান ভালবাসি। সিনথিয়া হেসে বলে উহু, আপুকে বেশি ভালবাস। আর এত বছর ধরে সব সময় আপু কে ফাস্ট বানিয়ে আজকে একদিন আমার সাথে কথা শেয়ার করলে হবে? সাফিনা বলেন সাবরিনা কে বেশি আদর করি এইজন্য ওর সাথে অনেক সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আলোচনা করতাম এমন না। তুই তো জানিস তোর আপু কলেজ লাইফ থেকে অনেক ম্যাচিউরড। পরিবারের জিনসপত্র ভাবে। তাই ওর সাথে আলোচনা করতাম আমি আর তোর বাবা। অন্যদিকে তুই ছিলি এক্সট্রোভার্ট। ঘরের জিনিসে তোর নজর কম ছিল তাই তোকে এইসব বিষয়ে অত জ্বালাতন করা হয়নি। এইবার সিনথিয়া জিজ্ঞেস করে তাহলে আপুর সাথে শেয়ার কর নি কেন এইসব? সাফিনা ভাবেন কয়েক মূহুর্ত। তারপর বলেন তোদের কে বড় করতে গিয়ে সব সময় নিজেকে তোদের রোলমডেল হিসেবে দাড় করাতে চেয়েছি। নিজের দূর্বলতা গুলো সব সময় তোদের থেকে আড়াল করে তোদের কে ভাল জিনিস দেখাতে চেয়েছি। এই অভ্যাস থেকে হয়তো নিজের এই মানসিক জ্বালাপোড়া গুলো আর শেয়ার করতে চাই নি সাবরিনার সাথে। কি দরকার। এমনিতে কত কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমার এই মন খারাপের বিষয়গুলো ওকে বলে শুধু শুধু ওকে আর ব্যস্ত করতে চাই নি। সিনথিয়া, সাফিনার মত আগের যুগের মানুষ না। ওর কাছের বন্ধুদের ডিপ্রেশনে ভুগতে দেখেছে। জ্বলজ্যান্ত তাজা মানুষ কিভাবে এই অসুখে ভুগে ভুগে মানসিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে সেটা দেখেছে। ওর মায়ের কাছে তাই নিজের অসুখ কে ছোট করার চেষ্টা ভাল লাগে না। ওর মাকে বুঝাতে থাকে, চেনা বন্ধু বান্ধবদের যাদের ডিপ্রেশন আছে তাদের গল্প বলতে থাকে। সাফিনা কে সর্তক করতে চায় মেয়ে, যেন তার সদা হাস্যজ্বল মা বিষাদের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে। তবে সাফিনার ভিতরের এখনো আগের সংস্কার মূল্যবোধ যায় না। তাই নিজের ডিপ্রেশনের খবর সবার সাথে শেয়ার করার ব্যাপারে ইতস্তত করতে থাকেন। তবে সিনথিয়া সে রাতে কথা আদায় করে মায়ের থেকে ওর সাথে এই ব্যাপারে আজ থেকে সব শেয়ার করবেন সাফিনা। তাই সাইকোলজিস্ট কি কি বলেছে এই ডিপ্রেশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হবার জন্য তা শুনতে চায় সিনথিয়া। সাফিনা একবার সব শেয়ার করবেন কিনা ভাবেন। তবে সিনথিয়ার জোরাজুরি জয়ী হ্য সেই রাতে। সাফিনা ভিতর থেকে ডাক্তারের কাগজ এনে দেখান। সব শেয়ার করেন। সাফিনার ডিপ্রেশন এখনো মাইল্ড পর্যায়ে আছে। এখনো কোন মেডিসিন দিতে চাচ্ছে না ডাক্তার। মাঝে সাইকেয়িট্রিস্টকে দেখানো হয়েছে। তিনিও সাইকোলজিস্ট এর সাথে একমত। আপাতত ঔষুধ দেওয়া হবে না। থেরাপি চলবে। এক্সারসাইজ করতে বলেছে নিয়মিত। শারীরিক পরিশ্রম শরীরে যে হরমোন নিঃসরণ ঘটায় সেটা ডিপ্রেশনের সাথে ব্যাটেলে সহায়তা করে। নিজের উপর আরো জোর দেওয়া। নিজের শখ আল্লহাদ পালন করার চেষ্টা করা। হাসিখুশি থাকা, ঘুরতে যাওয়া। এইসব প্রাথমিক বিষয়ে মনযোগী হতে হবে। সিনথিয়া মায়ের কথা মনযোগ দিয়ে শুনে। মায়ের মুখের দিকে দেখে। বুঝতে পারে এত সহজে মায়ের পুরান ধারণা ভাংগা যাবে না। সহজে তিনি কার সাথে তার কষ্ট শেয়ার করবেন না। আবার মিজবাহ বা সাবরিনা কার কাছে নিজের ভংগুরতা প্রকাশ করতে চান না। তাই কিভাবে সাফিনা কে হেল্প করা যায় ভাবে সিনথিয়া। নিজেও দেশের বাইরে চলে যাবে। ওর মাথায় সাহায্যকারী হিসেবে একজনের নাম উঠে আসে কিন্তু কিভাবে সে সাহায্য করতে পারে ওর মা কে? আর কয়েক দিন আছে দেশ ছাড়ার আগে। এর মাঝে এই ব্যাপারে ওর একটা প্লান দাড় করাতে হবে। এইসব ভেবে মা কে এইবার বলে সিনথিয়া মা একটু আগে তুমি বলেছিলে একটা বয়সে মায়েরা আর মেয়েরা বন্ধু হয়ে যায়। তাহলে কি আজকে থেকে তুমি আর আমি বান্ধবী? এই বলে মা কে জড়িয়ে ধরে। সাফিনা মেয়ের মাথায় বিলি কেটে দিতে দিতে বলেন আচ্ছা যা আজকে থেকে তুই আর আমি বান্ধবী। সিনথিয়া বলে তাহলে যদি কখনো তোমার সামান্য মন খারাপ হয় তাহলে আমাকে ফোন করবে। ইংল্যান্ডে রাত যতটা বাজুক না কেন আমি তোমার ফোন ধরব। আর আমি যা বলব যেভাবে বলব তা কিন্তু মানতে হবে মা। নাহলে আমি রাগ করব। হেসে উঠেন সাফিনা, বলেন বাহ একদম মায়ের মত ব্যবহার করছিস দেখি। এইবার সিনথিয়া গম্ভীর মুখ করে বলে একটা বয়সে সন্তানরা বাবা মা কে  শাসন করতে পারে জান না। সিনথিয়ার গম্ভীর মুখে বলা কথা আর চোখের কোণে ঝিলিক মারা দুষ্টমি হাসি দেখে হেসে গড়িয়ে পড়েন সাফিনা। তার জন্য এর থেকে ভাল ঔষুধ আর কি হতে পারে।
Parent