বিপদের বন্ধু - অধ্যায় ২০

Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-72878-post-6167521.html#pid6167521

Posted on Sun Mar 22 2026 by Mr. X2002 (Profile)

547 words / 2 min read

Parent
**পর্ব ২৩: কলেজের উদ্দেশ্যে** গ্রামের রাস্তা ধুলোমাখা, সূর্যের তাপে যেন গরম হাওয়া উঠছে। তিনজন হাঁটছে—রাহার কোলে রাফা, ছোট্ট হাত দিয়ে মায়ের গলা জড়িয়ে। রামু পাশে, খোঁড়াতে খোঁড়াতে, লাঠির সাহায্যে এক পা টেনে টেনে এগোচ্ছে। রাহার মুখ পাথরের মতো শক্ত। চোখ দুটো নিচু, কিন্তু ভিতরে যেন আগুনের গোলা ঘুরছে। রামু মাঝে মাঝে তার দিকে তাকাচ্ছে—চোখে একটা অদ্ভুত মিশ্রণ, বিজয়ের হাসি আর গভীর ক্ষুধা। রাফা কোলে বসে মায়ের চুল নিয়ে খেলছে। হঠাৎ রামু রাফার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল, “দাদু রাফা, কলেজে কিন্তু আমাকে দাদু ডাকবা না।” রাফা মাথা তুলে অবাক চোখে তাকাল। “দাদু না? তবে কী ডাকব?” রামু একটু থেমে, তারপর ধীরে ধীরে বলল, “বাবা ডাকবা। আব্বু বলে ডাকবা।” রাহার শরীর যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গেল। সে তাড়াতাড়ি রাফার দুই কান চেপে ধরল, যেন কথাটা মেয়ের কানে না ঢোকে। চোখে আগুন জ্বলে উঠল। “কী বলছ তুমি আজেবাজে?” কথাটা তার গলা দিয়ে বেরোল যেন ফোঁস করে উঠা সাপের হিসহিস। রামু থামল না। খোঁড়াতে খোঁড়াতে আরও কাছে এল। গলা নামিয়ে, কিন্তু স্পষ্ট করে বলল, “ছোট সাহেবা, শান্ত হন। কলেজে যদি রাফা আমাকে বাবা না ডাকে, তাহলে তো ধরা পড়ে যাব। প্রধান শিক্ষক, অন্য অভিভাবকরা—সবাই বুঝে যাবে রাফা আমার মেয়ে না। তখন কাগজপত্র দেখে কী হবে? সব ফাঁস হয়ে যাবে।” রাহা চুপ করে গেল। তার হাত রাফার কান থেকে সরে এল। মনে মনে সে জানে—রামু ঠিক বলছে। এই মিথ্যের জাল আরও গভীর করতে হবে। রাফাকে শেখাতে হবে। কিন্তু এই চিন্তাটা তার বুকের মধ্যে ছুরির মতো বিঁধছে। রাফা চুপ করে রইল। তার ছোট্ট মাথাটা একবার রামুর দিকে, একবার মায়ের দিকে ঘুরল। তারপর আবার জিজ্ঞেস করল, গলায় একটা নিষ্পাপ কৌতূহল, “বাবা কেন? বাবা তো আছে আমার বাসায়। তুমি তো আমার দাদু।” রামু হাসল। হাসিটা নরম, কিন্তু তার মধ্যে একটা ছুরির ধার লুকিয়ে। সে রাফার দিকে হাত বাড়িয়ে আলতো করে গালে হাত রাখল। “কলেজে আমিই তোমার বাবা। আর বাসায় যে বাবা আছে, তাকে বাবা ডাকবা। দুইটা বাবা থাকতে পারে। একজন কলেজের বাবা, আরেকজন বাসার বাবা।” রাফা একটু ভেবে দেখল। তার ছোট মাথায় এই জটিলতা ঢোকানো সহজ নয়। কিন্তু সে রামুর চোখে তাকিয়ে দেখল—সেখানে একটা আশ্বাস। তারপর ছোট্ট গলায় বলল, “আচ্ছা… বাবা।” রামু হেসে উঠল। হাসিটা গভীর, যেন অনেক দিনের জমা হাসি একসঙ্গে বেরিয়ে এল। রাফাও হাসল—নিষ্পাপ, খুশির হাসি। দুজনের হাসি মিলে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ল। কিন্তু রাহার মুখে কোনো হাসি নেই। তার চোখ দুটো জ্বলছে। দাঁতে দাঁত চেপে সে মনে মনে বলল, ‘রামু, তুমি একটা চাকর। সাব্বিরই রাফার আসল বাবা। তুমি শুধু… একটা ছায়া। একটা মিথ্যে।’ তার বুকের মধ্যে যেন আগুন জ্বলছে। রামুর হাত যখন রাফার গালে ছিল, রাহার শরীর কেঁপে উঠেছিল। সে চায় না রামুর আঙুল তার মেয়ের গায়ে লাগুক। চায় না রাফা ওকে ‘বাবা’ বলে ডাকুক। কিন্তু এই মুহূর্তে তার কোনো উপায় নেই। সে নিজের হাতে এই ফাঁদ পেতেছে। রাস্তা শেষ হল। কলেজের লাল ইটের গেট দেখা যাচ্ছে। রাফা কোল থেকে নেমে দৌড়াতে চাইল। রাহা তাকে ধরে রাখল। তার হাত কাঁপছে। রামু পাশে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখে একটা অদ্ভুত আলো—যেন সে জিতে গেছে। রাহা মনে মনে বলল, ‘এটা শুধু কাগজে-কলমে। শুধু আজকের জন্য। কিন্তু রামু… তুমি যদি আরও এক পা এগোও… আমি তোমাকে শেষ করে দেব।’ তার চোখে আগুন জ্বলছে। কিন্তু সেই আগুনের পেছনে লুকিয়ে আছে একটা গভীর ভয়। ভয়—যে এই মিথ্যে আরও বড় হয়ে উঠবে। যে রামুর দাবি আরও বাড়বে। যে রাফা হয়তো কোনোদিন বুঝে ফেলবে। তারা তিনজন গেটের দিকে এগোল। রাফা মাঝখানে, এক হাতে মা, আরেক হাতে… ‘বাবা’। কিন্তু মনে মনে রাহা জানে—ঠিক করার জন্য যে পথ আছে, সেটা তার কাছে অন্ধকার।
Parent