ছায়ার আড়ালে আগুন -Crime Thriller [Part-3: অন্ধকারের অধিশ্বর] - অধ্যায় ৩৯

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-71326-post-6235105.html#pid6235105

🕰️ Posted on Tue Jun 09 2026 by ✍️ indonetguru (Profile)

🏷️ Tags:
📖 355 words / 2 min read

Parent
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৩: অন্ধকারের অধীশ্বর)  উনচল্লিশতম পরিচ্ছেদ: ফোনের হুমকি মিতালি সেন তাঁর NGO অফিস ঘরে দাঁড়িয়ে ফোনটা কানে লাগিয়ে ছিলেন। তাঁর গলার স্বর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি তীক্ষ্ণ ও কড়া। ঘরের ভিতরে তাঁর পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছিল, যেন তিনি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। “আপনি কি আমাকে বাচ্চা মেয়ে পেয়েছেন, সোমদেববাবু?” — মিতালি সেন বললেন, “আমি যদি আপনার পার্টি থেকে টালিগঞ্জের টিকিট না পাই, তাহলে আপনার কিন্তু অনেক কিছু হারানোর আছে।” অন্যপ্রান্ত থেকে শাসক দলের সভাপতি সোমদেব চ্যাটার্জি কিছু বলার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু মিতালি সেন তাকে কথা বলতে দিচ্ছিলেন না। “আপনার ছেলে যখন আপনার বাড়ির পরিচারিকাকে জোর করে… তখন সেই মেয়েটার পরিবার যখন মামলা করতে যাচ্ছিল, তখন কে সেই কেসটা চেপে দিয়েছিল? কার কথায় পুলিশের রিপোর্টটা ‘অস্পষ্ট’ করে দেওয়া হয়েছিল? আর কে সেই মেয়েটার পরিবারকে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করিয়েছিল?” তিনি একটু থেমে আবার বললেন, গলা এবার আরও নিচু ও ভয় দেখানো: “আপনি হয়তো ভুলে গেছেন, কিন্তু আমি ভুলিনি। সেই কেসটা যে আপনার ছেলের করা, সেটা আপনি খুব ভালো করেই জানেন। আর সেই কেসটা আমি নিজে মিটমাট করিয়ে দিয়েছিলাম। এখন যদি আপনি আমাকে টালিগঞ্জের টিকিট না দেন, তাহলে আমি সেই পুরনো কেসটা আবার তুলে ধরব। আমার এনজিওকে রাস্তায় নামিয়ে দেব। দেখবেন, আপনার দল তখন কেমন অবস্থায় পড়ে।” অন্যপ্রান্ত থেকে সোমদেব চ্যাটার্জি এবার কিছু বলার চেষ্টা করলেন। তাঁর গলায় চাপা অস্বস্তি স্পষ্ট হচ্ছিল। মিতালি সেন চেয়ারে বসে পড়লেন এবং শান্ত, কিন্তু দৃঢ় গলায় বললেন, “সূর্য মন্ডলের সাথে কথা বলার দায়িত্ব আমার। আমার সাথে তার সম্পর্ক ভালো। আমার এনজিও তাকে অনেক সাহায্য করেছে — পার্টির বিভিন্ন ক্যাম্প বসানো, কর্মীদের জন্য ফান্ড দেওয়া, এসব কাজে। এখনো যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে যত টাকা লাগে আমি তাকে দেব। কিন্তু টিকিটটা আমার চাই।” তিনি একটু থেমে আবার বললেন, “আপনার মনে রাখা উচিত, আপনি এর বদলে আমাকে টিকিট দিতে চেয়েছিলেন। এখন যদি আপনি সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারেন, তাহলে আমিও আমার দেওয়া সাহায্যের কথা ভুলে যাব না।” অন্যপ্রান্ত থেকে সোমদেব চ্যাটার্জি এবার কিছু বললেন। তাঁর গলায় চাপা অস্বস্তি স্পষ্ট হচ্ছিল। মিতালি সেন ফোনটা নামিয়ে রাখলেন। কয়েক সেকেন্ড চুপ করে বসে রইলেন। তারপর জানালার দিকে তাকালেন। তাঁর মুখে কোনো উত্তেজনা ছিল না, শুধু একটা শান্ত কিন্তু দৃঢ় অভিব্যক্তি। "সোমদেব চ্যাটার্জি! মাই ফুট"! এই বলে মিতালি সেন মুখে একটা সিগারেট ধরায়।
Parent