ছায়ার আড়ালে আগুন -Crime Thriller [Part-3: অন্ধকারের অধিশ্বর] - অধ্যায় ৫১

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-71326-post-6240878.html#pid6240878

🕰️ Posted on Wed Jun 17 2026 by ✍️ indonetguru (Profile)

🏷️ Tags:
📖 693 words / 3 min read

Parent
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৩: অন্ধকারের অধীশ্বর)  একান্নতম পরিচ্ছেদ: গণনার দিন সকাল সাড়ে আটটা। জেলা শাসকের কার্যালয়ের বড় হলঘরে ভোট গণনা শুরু হয়। ঘরের ভিতরটা আগে থেকেই উত্তেজনায় ভরা ছিল। টেবিলের পর টেবিল সাজানো, প্রত্যেক টেবিলে গণনাকারী, প্রিসাইডিং অফিসার আর প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা বসে আছে। চারপাশে নিরাপত্তারক্ষীদের কড়া নজরদারি। প্রথমে শুরু হয় পোস্টাল ব্যালটের গণনা। প্রথম রাউন্ড শেষ হতেই দেখা গেল, মিতালি সেন এগিয়ে আছেন। দ্বিতীয় রাউন্ডেও তার লিড বাড়ল। তৃতীয় রাউন্ডে মিতালি সেনের ভোট ১৮০০ পার হয়ে গেল, যেখানে রানি সামন্ত ছিলেন মাত্র ৯০০-এর কাছাকাছি। বিন্দুবালা দেবী হলঘরের পাশের একটা ছোট ঘরে বসে ছিলেন। তার পাশে ব্রজদাসী। রানি সামন্ত একটা চেয়ারে বসে ছিল, মাথা নিচু করে। অংশুমান দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল, হাতে মোবাইল। বিন্দুবালা দেবী চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে বললেন, “পোস্টালে আমরা পিছিয়ে আছি।” অংশুমান শান্ত গলায় বলল, “পোস্টাল ব্যালট শুধু শুরু মাসী। আসল খেলা এখনো বাকি।” বিন্দুবালা চুপ করে রইলেন। তার চোখে এখনো আত্মবিশ্বাস ছিল, কিন্তু মুখের ভাবটা একটু গম্ভীর হয়ে এসেছে। সকাল ১০:০০ — দুপুর ১২:৩০ (হাড্ডাহাড্ডি লড়াই) EVM গণনা শুরু হতেই ছবিটা বদলে যেতে লাগল। প্রথম দুই রাউন্ডে মিতালি সেন এগিয়ে থাকলেও, তৃতীয় রাউন্ড থেকে রানি সামন্তের ভোট বাড়তে শুরু করে। চতুর্থ রাউন্ডে রানি প্রথমবারের মতো লিড নিয়ে নিলেন। হলঘরের ভিতরটা চমকে উঠল। পঞ্চম রাউন্ডে আবার মিতালি সেন ফিরে এলেন। ষষ্ঠ রাউন্ডে রানি, সপ্তম রাউন্ডে মিতালি — লিড বারবার বদলাচ্ছিল। প্রতি রাউন্ড শেষে হলঘরের ভিতরে একটা অদ্ভুত চাপা উত্তেজনা তৈরি হচ্ছিল। বিন্দুবালা দেবী এবার হলঘরের দরজার কাছে এসে দাঁড়ালেন। তার মুখ গম্ভীর। তিনি অংশুমানকে বললেন, “দেখছিস? লিড বারবার বদলাচ্ছে।” অংশুমান চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। সে শুধু বলল, “হ্যাঁ মাসী।” দুপুর একটার দিকে রানি সামন্ত ধীরে ধীরে লিড নিতে শুরু করলেন। প্রতি রাউন্ডে তার ব্যবধান বাড়ছিল। মিতালি সেনের সমর্থকদের মুখে উদ্বেগ দেখা দিতে লাগল। সাংবাদিকরা ক্যামেরা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছিল। বিন্দুবালা দেবী অংশুমানের দিকে তাকিয়ে বললেন, “এখন তো রানি এগিয়ে আছে।” অংশুমান শান্ত গলায় বলল, “হ্যাঁ মাসী।” বিকেল ২:০০ — অপ্রত্যাশিত উত্থান গণনার শেষের দিকে হঠাৎ করে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করে। রুবিনা বেগম, যিনি প্রথম দিকে পঞ্চম স্থানে ছিলেন, হঠাৎ করে দ্রুতগতিতে উপরে উঠতে শুরু করলেন। প্রথমে তিনি চতুর্থ স্থানে চলে এলেন। তারপর তৃতীয় স্থানে। কয়েকটা রাউন্ডের মধ্যেই তিনি দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে গেলেন। হলঘরের ভিতরটা চমকে ওঠে। সাংবাদিকরা একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিল। বিন্দুবালা দেবী বিস্মিত হয়ে বললেন, “কে এই রুবিনা? ও তো পেছনে ছিল… এভাবে উঠে আসছে কী করে?” অংশুমান এখনো এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। তার মুখে কোনো আবেগ নেই। শুধু চোখ দুটো স্থির হয়ে রুবিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে আছে। বিন্দুবালা দেবী তার দিকে তাকিয়ে বললেন, “অংশু… এটা কী হচ্ছে?” অংশুমান শান্ত গলায় বলল, “গণনা এখনো শেষ হয়নি মাসী।” বিকেল ৪:৪৫ — ফলাফল ঘোষণা অবশেষে জেলা শাসক মাইকের সামনে এসে দাঁড়ালেন। হলঘরটা চুপ হয়ে গেল। শুধু ক্যামেরার শাটারের আওয়াজ আর কিছু লোকের ফিসফিসানি শোনা যাচ্ছিল। জেলা শাসক কাগজ দেখে ঘোষণা করলেন: “টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনে মোট বৈধ ভোট — ১,৮৭,৪৫৬।” “বিজয়ী প্রার্থী — রুবিনা বেগম (তালাচাবি প্রতীক) — ৭২,৩১০ ভোট।” হলঘরটা মুহূর্তে থমকে যায়। “দ্বিতীয় স্থান — রানি সামন্ত (ঢোল প্রতীক) — ৬১,৮৯০ ভোট।” “তৃতীয় স্থান — মিতালি সেন (হুইসেল প্রতীক) — ৪৩,২৫০ ভোট।” “চতুর্থ স্থান — অ্যাডভোকেট জগন্নাথ গাঙ্গুলী — ১০,০০৬ ভোট।” ঘোষণা শেষ হতেই হলঘরের ভিতরটা প্রথমে নিস্তব্ধ হয়ে যায়। তারপর বিন্দুবালা দেবীর সমর্থকদের মধ্যে থেকে ক্ষোভের চিৎকার উঠতে শুরু করে। কেউ কেউ “এটা কী হলো?” বলে চিৎকার করছিল। কেউ কেউ চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল, যেন এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না। বিন্দুবালা দেবী দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার মুখটা সম্পূর্ণ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। তিনি অংশুমানের দিকে তাকালেন। তার চোখে এখন আর শুধু বিস্ময় নেই — একটা গভীর, তীক্ষ্ণ সন্দেহ জন্ম নিচ্ছিল। রানি সামন্ত এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখে জল চলে এসেছে। সে অংশুমানের দিকে তাকিয়ে আছে, যেন কিছু একটা বুঝতে চাইছে। অংশুমান এখনো চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। তার মুখে কোনো আবেগ নেই। শুধু চোখ দুটো স্থির হয়ে মোবাইলের স্ক্রীনে রয়েছে। বিন্দুবালা দেবী ধীরে ধীরে অংশুমানের কাছে এসে দাঁড়ালেন। তার গলা কাঁপছিল। “অংশু… এটা কী হল?” অংশুমান তার দিকে তাকাল। তার মুখে এখনো কোনো আবেগ নেই। সে শান্ত গলায় বলল, “মাসী, আমাদের তো জেতারই কথা ছিল।” বিন্দুবালা দেবী তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার চোখে এখন আর শুধু বিস্ময় নেই — একটা গভীর, অজানা আতঙ্ক জন্ম নিচ্ছিল। বিন্দুবালা দেবী স্তম্ভিত। অংশুমান চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। আর রানি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। ভোটের ফলাফল সবাই জেনে গেছে। কিন্তু এর মধ্যে যে অংশুমান সেন এর কতো বড় বিশ্বাসঘাতকতা লুকিয়ে রয়েছে, সেটা সবার অজানাই রইল।
Parent