ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ] - অধ্যায় ৮৭

Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74238-post-6291666.html#pid6291666

Posted on Thu Aug 20 2026 by indonetguru (Profile)

387 words / 2 min read

Parent
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৪: অন্তিম যুদ্ধ) সপ্তাশীতি পরিচ্ছেদ: জেরা থানার জেরাঘর ছোট। সাদা আলো, ঠান্ডা দেয়াল। টেবিলের ওপর একটা ফাইল, এক গ্লাস জল, একটা রেকর্ডার। সূর্য মন্ডল হাতকড়া পরা অবস্থায় চেয়ারে বসে। শার্টের কলার ভিজে আছে। মুখ ফ্যাকাশে, চোখ গর্তে। অংশুমান সামনে বসে। দুই পুলিশকর্মী দরজার কাছে দাঁড়িয়ে, হাত পেছনে। অংশুমান ফাইল খুললেন। সিসিটিভির প্রিন্টআউট টেবিলে রাখলেন। রায় কেমিক্যালসের কাউন্টার। টুপি পরা লোকটা। আঙুল দিয়ে ছবিটা চাপলেন। “এটা তুমি,” তিনি বললেন। গলা শান্ত। “দশ দিন আগে। স্বীকার করো।” সূর্য কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। চোখ ছবির দিকে। তারপর মাথা তুললেন। “হ্যাঁ। আমি নিয়েছিলাম।” অংশুমানের চোখ সংকুচিত হল। তিনি চেয়ারে হেলান দিলেন না। “কেন? কী জন্য নিয়েছিলে?” সূর্য গলায় জল নামালেন। হাতকড়ার শব্দ হল। “দুটো টিউব পাঠিয়েছিলাম। অন্তরার… তোমাদের গুদামে। সেখানে রাখার কথা ছিল। আমি গাড়িতে কিছু রাখিনি। মিতালি সেনের গাড়ির কথা আমি জানি না। আমি জানি না কে ওখানে রেখেছে।” অংশুমান চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন। টেবিলের ওপর দুই হাত রাখলেন। শরীর এগিয়ে দিলেন। “মিথ্যা বলো না। মায়ের গাড়িতে যেটা পাওয়া গেছে, সেটা তোমারই। তুমিই রেখেছ।” সূর্য মাথা নাড়লেন। জোরে। “না। আমি গুদামে পাঠিয়েছি। দুটো। গাড়িতে রাখার কথা আমার ছিল না। আমি ওই গাড়ির কাছেও যাইনি সেদিন। আমি জানি না কে রেখেছে।” অংশুমান তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। বিশ্বাস হচ্ছিল না। তিনি আবার একই প্রশ্ন করলেন, অন্যভাবে। সময়, জায়গা, কে নিয়ে গেছে, কাকে দিয়েছে। সূর্য আবার একই কথা বলল। গুদাম। দুটো টিউব। গাড়ির কথা জানে না। গলায় ভয় আছে, কিন্তু গল্প বদলাচ্ছে না। অংশুমান ঘরের মধ্যে পায়চারি করতে লাগলেন। দাঁত চেপে ধরেছেন। তিনি চাইছিলেন সূর্যকে ভাঙতে। একবার জোরে ধমক দিলেন, একবার চুপ করে তাকিয়ে রইলেন। সূর্য প্রতিবারই একই উত্তর দিল। হাত কাঁপছে, কিন্তু কথা বদলায়নি। কিছুক্ষণ পর অংশুমান থামলেন। তিনি সূর্যের দিকে ফিরে বললেন, “গুদামের সিসিটিভি আছে। আমি দেখব। তুমি যদি মিথ্যা বলে থাকো, ধরা পড়বে।” সূর্য কিছু বলল না। শুধু মাথা নিচু করে রইল। কাঁধটা একবার কেঁপে উঠল। অংশুমান দরজার দিকে এগোলেন। পুলিশকর্মীদের ইশারা করলেন। “ওকে রাখো। কেউ দেখা করতে দেবে না।” বাইরে বেরিয়ে তিনি ফোন হাতে নিলেন। করিডোরের আলো সাদা। তিনি দেয়ালে হেলান দিয়ে একবার চোখ বন্ধ করলেন। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন—আজ রাতেই গুদামের ফুটেজ চেক করতে হবে। সূর্য যদি মিথ্যা বলে, ধরা পড়বে। যদি সত্যি বলে—তাহলে গাড়িতে টিউব রেখেছে অন্য কেউ। সেই চিন্তাটা তার বুকে একটা নতুন অস্থিরতা এনে দিল। মায়ের মৃত্যু। গাড়ির ভেতরের সেই দৃশ্য। আর এখন এই সম্ভাবনা—হত্যাকারী হয়তো অন্য কেউ। তিনি ফোনটা পকেটে রেখে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলেন। এবার গুদামে যেতে হবে।
Parent