ছিন্নমূল ঃ কামদেব - অধ্যায় ৪০

Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-47551-post-5029079.html#pid5029079

Posted on Thu Nov 17 2022 by kumdev (Profile)

Tags:romance
1131 words / 5 min read

Parent
চত্বারিংশৎ অধ্যায় সুখ উপুড় হয়ে শুয়ে আছে,ঘুমোচ্ছে না।কাকু তখন অফিসে না হলে দেখা করে আসতো।এখন মনে হচ্ছে টাকাটা নিয়ে নিলেই ভাল করতো।মামীর ব্যবহারে মাথাটা গরম হয়ে গেছিল।কি করে চলবে ভেবে দিশা পায় না।হাতের পুজি একমাসেই শেষ হয়ে যাবে।খোকনদা বলেছিল কোনো সমস্যা হলে জানাতে।মামার কথাটা একবার মনে হয়েছিল খোকনদাকে বলবে।পরে মনে হল পারিবারিক ব্যাপার খোকনদা হয়তো মামাকে ধরে হেনস্থা করবে ভেবে আর বলেনি।খোকনদা তার কোনো কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারে না?পার্টির লোকের শুনেছে অনেক ক্ষমতা। গ্রামে ফিরে যাবার কথা ভাবে। উপেনবাবু অফিস থেকে ফিরে চৌকিতে রঞ্জনকে দেখে একটু অবাক হলেন।আজকেই ফিরে এল?পোশাক বদলে তোয়ালে দিয়ে গা মুছতে মুছতে বললেন,কি ব্যাপার আজকেই ফিরে এলে? উপেনবাবুর গলা পেয়ে পালটি খেয়ে উঠে বসে সুখ। ফ্যাকাসে হাসল। মেস ছেড়ে দেবে এটা ফাইন্যাল? ভাবছি রেজাল্ট বেরনো অবধি থেকে যাই। রাইট।আমি তো সেই কথাই বলছি।তুমি কি করবে আগে থেকে ঘোষণা করার দরকার কি?গলা নামিয়ে বললেন,শোনো তোমায় একটা কথা বলি।ঐ আইটিরা তোমাকে নানাভাবে বোঝাবে আসলে ওদের কলিগকে এই মেসে আনার মতলব। কাকু আড়ালে ওদের বলেন আইটি।কাকু জানেন না বোঝালেও কোনো লাভ হবে না।এই মুহূর্তে মেস ছাড়া সুখর পক্ষে অসম্ভব।তার কোথাও যাবার জায়গা নেই।সেতো আর একমাস তারপর কি হবে ভেবে গায়ে জ্বর আসার উপক্রম।   সুধীনরা ঢুকতে উপেনবাবু চুপ হয়ে যান।পুতুলদি এসে গেছে।সুখকে দেখে সুধীন বলল,আরে আপনি? সুখ হাসল। কালই চলে যাবেন নাকি? এখনো ঠিক করিনি। মাস শেষ হতে আরও কদিন বাকী আছে।তাড়াহুড়র কিছু নেই।সুধীন বলল। পুতুলদি চা দিয়ে গেল।সুখ চায়ে চুমুক দেয়। সীতেশ বলল,ঘরবাড়ি ছেড়ে কেউ মেসে পড়ে থাকে।চাকরি করতে হয় তাই দায়ে পড়ে এখানে থাকা। আমি তো শনিবারের জন্য মুখিয়ে থাকি।সুধীন তাল দেয়। তাকে শুনিয়ে বলছে সুখ বুঝতে পারে।ওরা জানে না কেন মেসে পড়ে আছে।শনিবারের জন্য অপেক্ষা করে বাড়ী যাবার জন্য।সেও এক সময় শনিবারের জন্য অপেক্ষা করত।চা শেষ করে সুখ বেরিয়ে পড়ল।কলেজ স্ট্রিট বই পাড়ায় বিভিন্ন দোকানের সামনে ঘোরাঘুরি করে।এক একটা দোকানে তিন-চারজন কর্মচারী।কর্মচারীদের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে।এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করে রাতে ফিরে এল। রবিবারে পুতুলদি আসে না।মেস ফাকা এমন অবস্থায় আগে পড়েনি।বেরিয়ে একটা পাউরুটি দিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজ সারে।কদিন পর মাস শেষ হতে সবাই উপেনবাবুকে টাকা দেয় সুখকে টাকা দিতে দেখে সুধীন বিরক্ত হয়ে বলল,আপনি টাকা দিচ্ছেন? ভাড়া দিতে হবে না? আপনি যে বললেন মেস ছেড়ে দেবেন? উপেনবাবু বললেন,মেস ছেড়ে দিলে দেখতেই পেতেন। সুধীন আর কথা বাড়ায় না।সুখ বুঝতে পারে ওরা তার উপর খুব রেগে গেছে কিন্তু তার কিছু করার নেই।সে ভাবছে এইমাসের পর কি হবে।একবার গ্রামে গিয়ে খোকনদাকে গিয়ে ধরবে?রেজাল্ট না বেরনো অবধি সুখ উচ্চ মাধ্যমিক পাস।এভাবে দিন কাটতে থাকে।সবাই অফিস বেরিয়ে গেলে সুখও বেরিয়ে পড়ে।কোনোদিন হাটতে হাটতে সেন্ট্রাল এভেনিউ ধরে শ্যাম বাজার পর্যন্ত গিয়ে বিধান সরণী ধরে ফিরে আসে আবার কোনোদিন গঙ্গার ধার দিয়ে বাগ বাজার তারপর সার্কুলার রোড ধরে ফিরে আসে মেসে।রাস্তার দুপাশে সারি সারি দোকান।দোকানে কর্মচারীরা ব্যস্ত খদ্দের নিয়ে।যতক্ষন বাইরে থাকে ভাল থাকে মেসে ফিরলেই একরাশ চিন্তা মাথা চেপে ধরে।একজন ঘনিষ্ঠ কেউ নেই যাকে মনের কথা বলে একটু সান্ত্বনা পেতে পারে। মাসের শেষ দিকে এক রবিবার।সবাই দেশে চলে গেছে।মেস একেবারে ফাকা, পুতুলদিও আসবে না।সুখ স্নানে যাবার তোড়জোড় করছে। সেদিনের পর থেকে আইটিরা তার সঙ্গে কথা বলে না।  গোবরডাঙ্গা থেকে সুদীপাকে দেখতে আসার কথা।সুবীর রায় বনগাঁ স্টেশনে গিয়ে পাত্র পক্ষের জন্য অপেক্ষা করছে।এই সময় মনু থাকলে ভাল হতো।ছেলেটা বড় গোয়ার।তেজ করে টাকা নিল না।কোথায় আছে কে জানে।সুদীপাকে ঘুমোতে বলেছে ওর মা।ঘুমোলে মুখটা বেশ ফোলা ফোলা লাগে।মাঝে মাঝে জানলায় দাঁড়িয়ে দেখছে পাত্রপক্ষ আসছে কিনা।চারজন আসার কথা সেই মত মিষ্টি আনিয়ে রেখেছে। স্নান সেরে সুখ বেরোবার জন্য তৈরী হতে থাকে।সকালে চা-ও খাওয়া হয়নি।জানলায় চোখ রেখে বসুমতী দেখছে সুখ বুঝতে পারে।এক্টু পরেই দরজা দিয়ে ঢুকে জিজ্ঞেস করলেন,রঞ্জন তুমি দেশে গেলে না? মা নেই কি জন্য যাব। ওতো সহি বাত।এখুন তুমি একেলি।বসুমতী চলে গেলেন। সুখ তৈরী হয়ে বেরিয়ে পড়ল।কলকাতার পথে ঘুরতে ঘুরতে সব কিছু ভুলে থাকা যায়।হ্যারিসন রোড ধরে শিয়ালদার দিকে হাটতে থাকে। অনেকে ফুটপাথে পশরা সাজিয়ে বসেছে।দেখতে দেখতে মনের মধ্যে ঝিলিক দিয়ে উঠল।পরমুহূর্তে চুপষে যায়।পশরা নিয়ে বসতে গেলেও পুজি লাগে।এখন মনে হচ্ছে মামার দেওয়া টাকাটা ফিরিয়ে দিয়ে ভুল করেছে।শিয়ালদা পৌছে ফুটের একটা দোকানে চারটে কচুরীর ফরমাস করে।কচুরি খেয়ে ঢক ঢক করে অনেকটা জল খেল।ব্যাস লাঞ্চ শেষ।এবার কি করবে?সার্কুলার রোড ধরে দক্ষিন দিকে হাটতে শুরু করল। বনগাঁয় ট্রেন ঢুকতে সুবীররায়ের তীক্ষ্ণ নজর যাত্রীদের দিকে।বাবা মা ছেলেকে নামতে দেখে সুবীর রায় দ্রুত এগিয়ে গেলেন।সঙ্গে আরেকজন মহিলা। জোর হস্তে হেসে সুবীর রায় বলল,আসুন। স্টেশন হতে বেরিয়ে একটা ভ্যান রিক্সায় ওদের তুলে দিয়ে আগে আগে সুবীর রায় সাইকেলে চলেছে। জানলা দিয়ে ওদের আসতে দেখে আশালতা মেয়েকে ঘুম থেকে তুলে তৈরী হতে বলল।দরজা খুলে হেসে অভ্যর্থনা করে ভিতরে নিয়ে বাসাল।পরস্পর আলাপে জানা গেল সঙ্গে মহিলা প্রতিবেশিনী।আশালতা কিছুটা বিরক্ত এই প্রতিবেশীরাই ব্যাগড়া দেয়।আশালতা চারটে প্লেটে মিষ্টি সাজিয়ে নিয়ে ওদের সামনে রাখল। আবার এসব কেন? এটুকু তো করতেই হয়। মিষ্টি খেতে খেতে আলাপ চলতে থাকে।  মৌলালীতে এসে এদিক ওদিক দেখে তারপর ডান দিকে বাক নিয়ে ধর্মতলার ফুটপাথ ধরে হাটতে থাকে।এদিকটায় দোকানপাট কম।ফুটপাথ দিয়ে লোকজন হেটে চলেছে।সকলেই কিছু না কিছু চিন্তা করতে করতে চলেছে।কারো সঙ্গে কারো চিন্তার মিল নেই।সুখ ভাবে তার মত অবস্থা কারো নয়।এসপ্লানেডে এসে কার্জন পার্কে ঢোকার মুখে দেখল একটা লোক সামনে কাপড় বিছিয়ে ভিক্ষে করছে।সুখ হাসল এই একটা পেশা কোনো পুজি লাগে না।পার্কে ঢুকে পশ্চিমদিকে একটা খালি বেঞ্চ দেখে বসল।এখানে ওখানে দু-একজন ঘুমোচ্ছে।সুখ আন্দাজ করার চেষ্টা করে এদের কিভাবে চলে?এদের পেশা কি?   পার্কের দক্ষিন দিকে রাস্তা মুখো রাণী রাসমণির মূর্তি।রাস্তার বিপরীত দিকে শেষ প্রান্তে একটা টয়লেট।লোকে ঢূকছে বেরোচ্ছে।সূর্য রাজভবনের দিকে হেলে পড়েছে।অনেক বেলা হল।এবার ওঠা যাক।তলপেটের নীচে মৃদু বেদনা অনুভব করে।পার্ক থেকে বেরিয়ে টয়লেটের দিকে এগিয়ে যায়।ভিতরে ঢুকে একটায় ঢুকে জিপার খুলে পেচ্ছাপ করতে থাকে।নজরে পড়ল পাশের লোকটি উচু হয়ে উকি দিয়ে দেখছে।বেশ ধোপ দুরস্ত পোশাক।পেচ্ছাপ করছি না অন্য কিছু দেখছে হয়তো।ইচ্ছে করল চোয়ালে টেনে এক ঘুষি কষায়।লোকটি চলে গেল।দেখে তো ভদ্রলোক বলে মনে হল একী অসভ্যতা।পেচ্ছাপ হয়ে গেলে ঝাকিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে বেরিয়ে এল।রাস্তার উলটো দিকে একটা গাড়ীতে হেলান দিয়ে সেই লোকটা দাড়িয়ে।চোখাচুখি ইশারায় ডাকলেন।আশপাশে তাকিয়ে বুঝতে পারে তাকেই ডাকছেন। দ্বিধা হলেও রাস্তা পেরিয়ে সুখ লোকটার কাছে যেতে জিজ্ঞেস করল,কি করো? চেনে না জানে না এ প্রশ্ন কেন?সুখ বলল,কিছু করিনা। পড়াশুনা কতদূর? সুখ যেন ক্ষীন আলোর দেখা পেল উৎসাহের সঙ্গে বলল,এবার ইংরেজী অনার্স নিয়ে বিএ পরীক্ষা দিয়েছি। বাড়ী কোথায়? মুখে এসে গেছিল গোপাল নগর বলল,হ্যারিসন রোড।রেজাল্ট বেরোলে আমি সিয়োর পাস করে যাবো। ভদ্রলোক একটা কার্ড এগিয়ে দিয়ে বললেন,কাজ করার ইচ্ছে থাকলে কাল দশটার মধ্যে দেখা কোরো। দরজা খুলে উঠে পড়তেই গাড়ী চলতে শুরু করে।ইস ভদ্রলোকের নামটা জিজ্ঞেস করা হল না।কার্ডটা চোখের সামনে তুলে ধরতে দেখল, ইংরেজীতে লেখা Pleasure Poly Clinic. পলি ক্লিনিক--এই ভদ্রলোক কি তাহলে ডাক্তার?তাহলে গাড়ীতে লাল ক্রশ চিহ্ন থাকার কথা।ভাল করে খেয়াল করেনি। কার্ডটা পকেটে রেখে হাটতে শুরু করল।এক্টু আগে যা ঘটল তাকি সত্যি?বিশ্বাস করতে পারছে না।মনে মনে স্থির করে চাকরি হোক না হোক কাল সে যাবেই।গিয়ে দেখবে এই ঠিকানায় এরকম কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।তাহলেও গিয়ে দেখতে কি হয়েছে।একটা কথা মনে হতে ঠোটে হাসি ফোটে,ন্যাংটার নেই বাটপাড়ের ভয়।তার কি এমন ক্ষতি হতে পারে।কাকু কাল বাড়ি থেকে সরাসরি  অফিস গিয়ে সন্ধ্যেবেলা ফিরবে।না হলে কাকুর সঙ্গে আলোচনা করা যেতো। মেসে ঢোকার মুখে ভাবে রাতে হোটেলে খাবে কিনা?পর মুহূর্তে মনে হল চাকরি যদি হয়ও বেতন হবে একমাস পরে।দুটো আটার রুটি তরকারি পাচ টাকা খরচ করে কিনে মেসে ঢুকলো।লাইট জ্বেলে পকেট হতে কার্ডটা বের করে ভাল করে দেখতে থাকে।আবার যত্ন করে রেখে দিল।কাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে যেতে হবে।সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্টটা আর বিএ-র এ্যাডমিট কার্ডটাও  নিতে হবে।    
Parent