দ্বিতীয় মায়ের ভালোবাসা - অধ্যায় ১০
মাথায় এখনো শতশত প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আয়াত আবার আমার হাত ধরলো, চোখ খুলে দেখলাম গাড়ী থেমেছে রাস্তার এক পাশ হয়ে। পাশেই একটা ছোট চায়ের দোকান মনে হচ্ছে।
-অনেক স্ট্রেস গিয়েছে আপনার (মিষ্টি গলায় আয়াতের কন্ঠ ভেসে আসলো কানে), চলুন গাড়ি থেকে বের হয়ে কিছুটা প্রাকৃতিক বাতাস খেয়ে আসি। চা বা কফি চলবে তো? জবাবে আমিও মৃদু হাসি দিয়ে মাথা এক পাশে নাড়ালাম, যার অর্থ "অবশ্যই"।
ভাগ্য ভালো আমাদের, কফি পাওয়া গেলো, তবে গরম পানিতে মিনিপ্যাক দিয়ে বানানো। আমি র' নিলাম এক কাপ, কফির দুইটা মিনিপ্যাক দিয়ে বানাতে বললাম দোকানের মালিককে, আয়াত নিলো র' চা, হালকা আদা দেয়া, কেউই চিনি নিলাম না, চিনির বিষয়টা মিল থাকায় পরস্পরের চোখাচোখি হয়ে গেলো। দু'জনেই মুচকি হাসি দিলাম। পান পর্ব শেষে রাস্তা ধরে দুজনে কিছুটা হাটতে লাগলাম। সূর্য অনেকটাই পশ্চিমের আকাশে হেলে পরেছে, রোদ একদম নেই বললেই চলে। হালকা বাতাসে হাঁটতে ভালোই লাগছে।
বাতাসে আয়াতের শাড়ির আচল উড়ছে, খোলা পিঠের অনেকটাই দেখা যাচ্ছে, বাতাসে শাড়ি সরে গিয়ে ফর্সা তলপেটের কিছু অংশ বেরিয়ে গিয়েছে, মাঝে মাঝে তার কালো গর্তের নাভী দৃশ্যতঃ হচ্ছে। তার মিষ্টি পারফিউমের গন্ধটা থেকে থেকে নাকে লাগছে, আশপাশের কিছু লোক আমাদের দিকে কৌতুহল নিয়ে তাকিয়ে আছে। অবশ্য আমাকে দেখছে বলে মনে হয় না, কোন জলজ্যান্ত দেবী ধরণীতে নেমে এলে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রহরীকে আর কে দেখে!
-কিছু মনে না করলে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
-(আয়াতের মুখে সেই লাস্যময়ী হাসি ফিরে এলো, আমার দিকে না তাকিয়েই) নিরদ্বিধায়।
-আপনার সাথে প্রথম কবে এমন হলো?
-্দআসলে আমার ঠিক দিন তারিখ মনে নেই, তবে আমার মেয়ের ক্লাস এইটের বছরে এটা মনে আছে। ওর বাবা সকালে কলেজে দিয়ে যেত আর আমি দুপুরে গিয়ে নিয়ে আসতাম। এমনই একদিন আমি বাসা থেকে বের হওয়ার আগে হাত মুখ ধুচ্ছি, চোখ বন্ধ করে মুখে পানি দিচ্ছি, পানি ছিটিয়ে চোখ খুলে দেখি আমি কোন অপরিচিত এক জায়গায়, বিশাল এক পুকুরের কোনায় কোমর সমান পানিতে নেমে মুখে পানি ছিটাচ্ছি। ডানে বামে কোথাও কেউ নেই, পুকুরের সব দিকে ঘন গাছের সারি, বাইরের দিকে কিছুই দেখা যায় না। আমি কিছুটা ভীত হয়ে উঠে যেতে লাগলাম, তখনই "মম, আমার টাওয়েল কোথায়" বলে আমার মেয়ের কন্ঠ শুনলাম। তাকিয়ে দেখি সেও আমার পাশে এসে গোসলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারও শরীরেই.....
-বলতে হবে না, বুঝতে পেরেছি।