রাহুলের বন্ধু রোহন ও তার মা - অধ্যায় ২০
বাবার বেলের আওয়াজটা যেন বজ্রপাতের মতো লাগল তাদের কাছে।
দিং-ডং… দিং-ডং…
রোহন, সুজাতা আর রিনা আন্টি তিনজনেই চমকে উঠল। শ্যামল পিছনের বারান্দা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর মাত্র এক মিনিট হয়েছে।
সুজাতা দ্রুত রিনা আন্টিকে বলল, “তুমি রোহনের ঘরে গিয়ে বসো। দরজা ভেজিয়ে রাখো।”
রিনা আন্টি দ্রুত রোহনের ঘরে ঢুকে দরজা আধখোলা করে রাখল। রোহন দ্রুত লাইটের সুইচ অন করল, কিন্তু লোডশেডিং চলছে। সে দুটো মোমবাতি জ্বালিয়ে ডাইনিং টেবিলে রাখল। হলুদ আলোয় পুরো ঘরটা অদ্ভুতভাবে ছায়া-ছায়া হয়ে গেল।
সুজাতা দরজার কাছে গিয়ে গভীর শ্বাস নিয়ে দরজা খুলল।
বাবা — অরুণ — দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে। তার চুল আর কোট বৃষ্টিতে ভিজে সপসপ করছে। হাতে একটা বড় ট্রলি ব্যাগ আর ল্যাপটপের ব্যাগ। মুখে ক্লান্তি, কিন্তু চোখে স্বাভাবিক হাসি।
“কী রে? এত দেরি করলি দরজা খুলতে?” অরুণ ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল। তার গলায় সামান্য সন্দেহের ছোঁয়া।
সুজাতা জোর করে হাসল, “না… লোডশেডিং হয়েছে তো, অন্ধকারে খুঁজে পাচ্ছিলাম। এসো, ভিজে গেছ যে!”
অরুণ জুতো খুলতে খুলতে চারপাশে তাকাল। তার চোখটা একটু সরু হয়ে গেল।
“ঘরের মধ্যে এত গরম লাগছে কেন? আর এই অদ্ভুত গন্ধটা কীসের?”
সুজাতা দ্রুত বলল, “আজকে রান্না করতে গিয়ে একটু ধোঁয়া হয়েছে। জানালা খুলে দাও।”
রোহন এগিয়ে এসে বাবার ব্যাগ নিতে গেল। “বাবা, তুমি তো বলেছিলে পরশু আসবে?”
অরুণ কোট খুলতে খুলতে বলল, “হ্যাঁ, কিন্তু মিটিংটা ক্যানসেল হয়ে গেল। তাই তাড়াতাড়ি ফিরে এলাম।”
সে হঠাৎ থেমে গিয়ে নাক কুঁচকাল। “এই গন্ধটা… খুব চেনা চেনা লাগছে। মেয়েলি পারফিউমের মতো?
অরুণ সোফায় বসে পা ছড়িয়ে দিল। তার চোখটা ঘরের চারপাশে ঘুরছিল। মেঝেতে একটা ছোট্ট দাগ — গত রাতের কোনো রসের দাগ, যেটা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। অরুণ সেটার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল।
“রোহন, তোর ঘরে আলো জ্বলছে কেন? লোডশেডিং তো সারা বিল্ডিংয়ে।”
রোহন দ্রুত বলল, “না বাবা, আমি মোমবাতি জ্বালিয়েছি।”
অরুণ উঠে দাঁড়াল। “আমি হাত-মুখ ধুয়ে আসি। তারপর খাবার দাও। খুব খিদে পেয়েছে।”
সে বাথরুমের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ রোহনের ঘরের দরজার সামনে থেমে গেল। দরজাটা আধখোলা। ভিতরে রিনা আন্টি চুপ করে বসে আছে।
অরুণ দরজাটা আরেকটু ঠেলে ভিতরে উঁকি দিল।
“রিনা? তুমি এখানে?”
রিনা আন্টি জোর করে হাসল, “হ্যাঁ… সুজাতার সাথে গল্প করছিলাম। লোডশেডিংয়ে একা বসে থাকতে ভয় লাগছিল।”
অরুণ কয়েক সেকেন্ড তাদের দিকে তাকিয়ে রইল।