সৃষ্টি (সমাপ্ত) - অধ্যায় ২৭
কয়েক মাস আগে বইমেলা হয়ে গিয়েছে কলকাতার বুকে। বিগত বেশ কয়েক বছর হয়ে গেলো ব্যক্তিগত কারনের জন্য আমি আর বইমেলা যাই না। সর্বোপরি বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতাও ওখানকার ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে যাওয়ার আরেকটা কারণ।
এই ফোরামের এক সদস্য বিচিত্র - যাকে আমি ভাইটু বলে সম্মোধন করি। সে যাকে বলে একদম বইয়ের পোকা .. বইমেলা তার প্রাণ। সকাল-বিকেল-সন্ধ্যা তার মুখে একটাই কথা "কি মজা বইমেলা এসে গেছে, আমিও যাবো .. আপনি কবে আসবেন? আপনার ছেলেকে নিয়ে একদিন আসুন"। তারপর প্রতিদিন রাতে বইমেলা থেকে ফিরে এসে .. আজ কি কি বই কিনলো, কোন কোন সেলিব্রেটির সঙ্গে দেখা হলো, তাদের সঙ্গে তোলা সেলফি, বইয়ের ছবি -- এই সবকিছু হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেখতে হতো আমাকে।
পোস্ট অপারেশন সিচুয়েশনে এখন ক'দিন বাড়িতেই আছি। তবে চুপচাপ বাড়িতে বসে থাকার বান্দা আমি নই। পারি আর নাই পারি, সর্বদা কিছু সৃষ্টিমূলক কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাই আমি। গতকাল সারা বিকেল বসে বসে এই স্কেচটা করলাম আর এই ছড়া'টা লিখলাম। দু'দিন আগে ভাইটুর জন্মদিন গেলো, কাকতালীয়ভাবে একই দিন আমার ছেলেরও জন্মদিন ছিলো। এই ফোরাম থেকে বেশ কিছু বন্ধু পেয়েছি আমি, যাদের মধ্যে বিচিত্র একজন। ওর জন্মদিনে আমার তরফ থেকে একটা ছোট্ট উপহার বলা যেতে পারে।
আর পাঠক বন্ধুদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলার আছে - আমি আবার খুব বেশিদিন আপনি-আজ্ঞে করতে পারি না কাউকে। তোমরা অনেকেই আমায় ভালবেসেছো, আবার অনেকে ঘৃণাও করেছো, শুধু একটাই অনুরোধ আমাকে ভুলে যেওনা কখনো। আর অবশ্যই জানিও আমার আঁকা এবং ছড়া'টি কেমন লাগলো।
ছোট্ট ভাইটুর বইমেলা দর্শন
- বুম্বা -
বইমেলার পদযাত্রা
এটা আবার কি?
ভেবে ভেবে ভাইটুর মাথায়
বুদ্ধি জোটে নি।
'বই এর জন্য হাঁটুন'
ওরা বলছে বারে বারে,
বইমেলারই মাঠে সবাই
চলছে সারে সারে।
বাবু আছে, দাদা আছে
দিদিও আছে সাথে,
কি যেন সব লেখা আছে
সবার হাতে হাতে।
পেছন পেছন এসে ভাইটুর
চক্ষু হলো স্থির,
সারি সারি দোকানগুলোয়
কেবল বইয়ের ভিড়।
একটা যদি কিনে নিত
হ'তো মজা কতই না,
ভাবতে গিয়ে চোখ ভিজে যায়
পড়তে সে তো জানেই না।
|| সমাপ্ত ||