সুন্দর শহরের ঝাপসা আলো - অধ্যায় ৫১

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-20547-post-3370108.html#pid3370108

🕰️ Posted on Sun Jun 06 2021 by ✍️ Jupiter10 (Profile)

🏷️ Tags: None
📖 2271 words / 10 min read

Parent
সে একটু নড়েচড়ে বসে বলে, “আজ অনেক কিছু হয়েছে মা। কাজের ট্রেনিং হয়েছে। আমার ডকুমেন্টস গুলো নিয়েছে ওরা। ওতে করে ব্যাংকের একাউন্ট বানিয়ে দেবে। আর ঘর সংক্রান্ত রেসিডেন্টস প্রুফ ও চেয়ে ছিলো। কিন্তু আমাদের তো ঘর নেই, সেহেতু আমাদের হোম এলাউয়েন্সও দেওয়া হবে...”। ছেলের কথা শুনে সুমিত্রা মনে মনে হেসে তার দিকে বড়বড় চোখ করে তাকায়। সঞ্জয় নিজের কথা বলতে থাকে। সে বলে, “আমাদের দুজনের একটা নিজস্ব থাকার একটা ছাদ হলেই চলবে। দেখা যাক কত দিনে তা পুরন হয়। ওরা বলছে, অফিসের কাছাকাছি যেন বাড়ি থাকা হয়। যাতে করে আমি সময় মতো সেখানে পৌঁছাতে পারি আর সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারি”। সুমিত্রা গালে হাত রেখে প্রশ্ন করে, “এখান থেকে চলে যেতে হবে আমাদের? ওখানটা একটু দূর আছে না বাবু...?” সঞ্জয় বলে, “হ্যাঁ মা নিশ্চয়ই। আমরা আর এই এলাকায় থাকবো না। দূরে চলে যাবো। আমার অফিসের কাছাকাছি থাকবো কোনো একটা জায়গায়”। ছেলের কথা শুনে সুমিত্রা মুখ নামিয়ে বসে থাকে। তা দেখে সঞ্জয় পুনরায় তাকে জিজ্ঞেস করে। বলে, “কি হলো মা? তোমার মন খারাপ হয়ে গেলো? এখান থেকে চলে যাবো বলে”? সুমিত্রা বলে, “কলকাতায় এসে প্রথম এখানেই উঠে ছিলাম।এই চত্বরে আমি অনেকটা সময় কাটিয়েছি। এখানেই তোর জন্ম আর বেড়ে ওঠা”। মায়ের কথা শুনে সঞ্জয় নিজের হাত বাড়িয়ে মায়ের হাতের উপর হাত রেখে বলে, “কি করবে মা? এখনকার নিয়মিই এমন। ভাগ্য ভালো যে আমার পশ্চিমবঙ্গের বাইরে পোস্টিং হয়নি। তা না হলে আমাদের আরও সমস্যা হয়ে যেত”। ছেলের কথা শুনে সুমিত্রা একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে উঠে পড়ে বলে, “তুই যেখানেই নিয়ে যাবি, আমি সেখানেই যেতে রাজি আছি বাবু”। সঞ্জয় সুমিত্রার হাত ধরে বাধা দিয়ে বলে, “মা তুমি প্রতিদিন সকালে হাঁটতে যাচ্ছ তাই না”। ছেলের কথা শুনে সুমিত্রা মুখ নামিয়ে হাঁটা দিয়ে রান্না ঘরে প্রবেশ করে। সঞ্জয়ও তার পেছনে গিয়ে সেখানে হাজির হয়। সুমিত্রা, মেয়েদের জন্য জলখাবার রেডি করে। সঞ্জয় মায়ের পেছনে গিয়ে তার দুই কাঁধে হাত রেখে তার ডান কাঁধে থুতনি লাগিয়ে বলে, “বলোনা মা...?” সুমিত্রা বলে, “তু্ই কি করে জানলি? তুইতো ওই সময় পড়ে পড়ে ঘুমোস!!” “আমি একদিন দেখেছি!!” একটা উৎসাহিত ভাব করে বলে সঞ্জয়। সুমিত্রা ছেলের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয় না। মায়ের একমনা হয়ে কাজ করতে দেখে সঞ্জয় বলে, “সব ঠিক আছে মা...”। তারপর নিজের ডান হাত তার মায়ের চিবুকের নিচে নিয়ে গিয়ে বলে, “তবে এই থুতনির নীচের ভাঁজটা যেন ভ্যানিস না হয়ে যায়। এটা আমার বড্ড প্রিয়”। কাজ করতে করতে সুমিত্রা হাসে। সঞ্জয় মায়ের মাথার তালুতে একখানা চুমু খেয়ে বলে, “আমি যাই গো মা...। ওরা এসে পড়বে। রাতে খাবার পাঠিয়ে দিও”। আজ চারদিন হল সঞ্জয় অফিসে যাচ্ছে। সে এখন প্রতিদিন মায়ের হাতের রান্না খেয়ে সকাল সকাল অফিসের জন্য বেরিয়ে পড়ে।আবার সন্ধ্যা হলে সে ফিরে এসে মায়ের সঙ্গে সারাদিনের গল্প করে খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়ে। অফিসে কাজ করার অবসরে সঞ্জয় সহকর্মী দের সঙ্গে কথা বলে। কথায় কথায় জিজ্ঞেস করে এখনকার পার্শ্ববর্তী কোনো জায়গায় তাদের বাসস্থানের কোনও ব্যবস্থা করা যায় কি না । তাদের থেকেই সঞ্জয় একটা নতুন এপার্টমেন্টের সন্ধান পেল। শুনে সে মনে মনে ঠিক করল যে আগামী পরশু শনিবার ছুটির দিন সেখানে মায়ের সঙ্গে এসে অ্যাপার্টমেন্টটার খোঁজ নিয়ে যাবে । সেদিন সন্ধ্যায় ফিরে এসে সে সুমিত্রার সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করল, “মা আমাদের অফিসের কাছে একটা অ্যাপার্টমেন্টের খবর পেয়েছি, পরশু শনিবার দেখে আসি? কি বলো?” সুমিত্রা রাজি হয়, “সেতো খুব ভাল কথা, চল দেখে আসি”। “ঠিক আছে, সকাল দশটার মধ্যে রেডি হতে পারবে তো?” সঞ্জয় শুধোয়। “সাড়ে দশটা বলিস ওদের, সকালে অনেক কাজ থাকে জানিস তো!” সুমিত্রা বলে সঞ্জয় তার স্মার্ট ফোনে কথা বলে। এই ফোনটা সঞ্জয় তার টিউশনির টাকা জমিয়ে কিনেছিল, সুমিত্রার মনে পড়ে। দশ হাজার টাকা দাম। একটা ফোন, তার আবার এত দাম! সুমিত্রা যারপরনাই আশ্চর্য হয়েছিল। নতুন যুগ তার কখনো কখনো অপরিচিত মনে হয়। শঙ্কা হয়, তার বাবু পারবে তো লড়াই করতে? সঞ্জয় কথা বলতে চমক ভাঙ্গল সুমিত্রার। শুনতে পেল সঞ্জয়া বলছে, “মা, কি ভাবছ তুমি, হ্যাঁ ওরা বলল, বেলা সাড়ে এগারোটায় ওদের ম্যানেজার থাকবে। সুতরাং আমাদের সকাল সাড়ে দশটায় বেরোলেই হবে” পরের শনিবার সঞ্জয় যথারীতি গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল মার অপেক্ষায়।সুমিত্রার আসতে দেরি হল। সে একটু বিরক্ত হয়ে মোবাইলে সময় দেখে আর একবার সামনে দিকে তাকিয়ে দেখে যে তার মা কখন আসবে। কিছুক্ষণ পর সুমিত্রা বেশ পরিপাটি করে বাইরে বেরিয়ে এল। সঞ্জয় বলল, “বড্ড দেরি করে দিয়েছ মা তুমি...”। ছেলের কথা শুনে সুমিত্রা মৃদু হেসে বলল, “বাহঃ রে আমার কাজ থাকে না বুঝি??” সঞ্জয়ও হেসে উত্তর দিল, “তুমি সব বারই দেরি কর মা...। এতে নতুন কিছু নেই। এবার চলো , শিগগির চলো”। ছেলের কথা শুনে সুমিত্রা তার সঙ্গে হাঁটতে থাকে। সামনে মেইন রোড থেকে বাস ধরবে। প্রায় কুড়ি মিনিট পর তারা সেখানে গিয়ে এপার্টমেন্টর অফিসে আসে। সঞ্জয় ঘড়ি দেখল। নাঃ নির্ধারিত সময়ের মিনিট দশেক আগেই এসে পড়েছে তারা। সুমিত্রা সঞ্জয়কে ঘড়ি দেখতে দেখে মৃদু হেসে ফুট কাটল, “দেখলি বাবু আগেই এসে পড়েছি। আর তুই মিছিমিছি চোটপাট করছিলি!” সঞ্জয়ের মুখ বুজে মায়ের অনুযোগ হজম করা ছাড়া উপায় ছিল না। অ্যাপার্টমেন্টের অফিসে গেল তারা। সঞ্জয় এগিয়ে গিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলল। তিনি তাদের সাদর আপ্যায়ন করলেন, “আসুন ম্যাডাম। আসুন স্যার। আমি আপনাদের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী ফ্ল্যাট দেখাবো। সেরা ইন্টিরিয়র। অসাধারণ পজিশন। আসুন উপরে চলুন”। ফ্ল্যাটটা সদ্য তৈরী হয়েছে। তাই তার কিছু বিশেষ বাড়ি গুলোতে লোক জন চলে এসেছে। আট তলা ফ্ল্যাট। প্রতি ফ্ল্যাটের জন্যেই নিচে কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে। ম্যানেজার তাদেরকে চার তলায় একটা 2bhk ফ্ল্যাট দেখান। “এই দেখুন ম্যাডাম। সেরা ইন্টিরিয়র। সেরা মেটেরিয়াল দিয়ে বানানো। দুটো রুম। একটা হল। তিনটে বাথরুম। সব কটাই অ্যাটাচড আর একটা কমন। পয়ত্রিশ ফুটের লম্বা হল। আর রুম গুলোও বেশ বড় পাবেন। সঙ্গে দু দুটো ব্যালকনি দাদা আর কি চাই?” তা শুনে সঞ্জয় ম্যানেজার কে জিজ্ঞেস করে, “তা বুঝলাম দাদা। কিন্তু আপনি হাউস রেন্ট টাই তো বললেন না”। ম্যানেজার বলে, “বেশি নয় স্যার মাত্র ফিফটিন থাউজ্যাণ্ড পার মান্থ সঙ্গে মেইন্টেন্যান্স কস্ট আলাদা”। তা শুনে সুমিত্রা একটু অবাক হয়। সে সঞ্জয়ের দিকে তাকিয়ে নীচু গলায় বলে, “আমাদের দুটো মানুষের এতো বড় ঘর নিয়ে কি হবে?” সুমিত্রা নিচু স্বরে কথাটা বললেওসেটা বোধহয় ম্যানেজারের কানে গেছিল। তিনি সঞ্জয়ের দিকে তাকিয়ে সুমিত্রা কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনার স্ত্রী বুঝি!!!” ম্যানেজারের কথায় সঞ্জয় কি বলবে ভেবে পায়না। অপর দিকে সুমিত্রা নিজের হাসি চেপে রাখে। মুখ নামিয়ে অন্য দিকে চলে যায়। ম্যানেজার বলেন, “আমি বোধহয় আপনাদের ভুল বাড়ি দেখিয়ে ফেলেছি। আসুন উপরে আসুন। একেবারে টপ ফ্লোরে”। সুমিত্রা সঞ্জয় তাকে অনুসরণ করে। আট তলায় তাদেরকে নিয়ে আসা হয়। ঘরের দরজা খুলে ম্যানেজার তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে বলে। “আসুন ম্যাডাম ভেতরে আসুন। প্লিজ কাম। আমি ভুলে গিয়েছি। আপনারা হয়তো নিউলি ম্যারেড। তাই এর থেকে ভালো কামরা আর হতে পারে না”। তারা ভেতরে প্রবেশ করে দেখে সত্যিই বাড়িটা খুব সুন্দর। ম্যানেজার বলে, “এতেও আপনি পঁচিশ ফুটের লম্বা হল ঘর পাচ্ছেন। সঙ্গে ওপেন কিচেন। চাইলে আপনি এটাকে হলের সঙ্গে ম্যানেজ করে নিতে পারেন। এতেও দুটো ব্যালকনি। একটা এই হল ঘরের সামনে দিয়ে এগিয়ে। আর একটা বেড রুমের সঙ্গে। অসাধারণ ভিউ পাবেন আপনারা।চব্বিশ ঘন্টা ঠান্ডা বাতাস এবং শব্দ দূষণ বিহীন”। সুমিত্রা দেখে, বাড়িটা বেশ উঁচুতে হলেও ভালো। নিরিবিলি। বেডরুমটি বেশ বড়সড়, ভালো। বেডরুমের লাগোয়া বাথরুমটিতে এক ইউরোপিয় ধরনে কোমোড ও চান করার জন্যে আধুনিক কায়াদায় বাথটাব রয়েছে। কোমোডের বিপরীতে রয়েছে ওয়াশ বেসিন কাউন্টার ও বড় আয়না। বসার ঘরের লাগোয়া বাথরুমটিতেও কোমোড ও ওয়াশ বেসিন, আয়না। এই বাথরুমটায় অবশ্য বাথটব নেই, তবে শাওয়ার ও হ্যান্ড শাওয়ার রয়েছে। সুমিত্রা রান্নাঘরটাকে ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলো। ঢুকেই কালো গ্রানাইট পাথরের কিচেন টেবিল, তার উপরে গ্যাসের পাইপ লাগানোর ছিদ্র আছে। বাম দিকের দেয়ালে মডিউলার কিচেন ক্যাবিনেট। ডান দিকের দেয়াল ফাঁকা। ডান দিকের দেয়ালের কাছে কিচেন সিঙ্ক। তারপাশে জলের ফিল্টার লাগানো আছে। সঞ্জয় মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার মুখের প্রসন্ন ভাব জানিয়ে দিচ্ছিল যে এই ফ্ল্যাট টা তার পছন্দ হয়েছে। ম্যানেজার সঞ্জয়ের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে বলেন, “ফ্ল্যাট টা ম্যাডামের পছন্দ হয়েছে মনে হয়। আপনি কি বলেন স্যার...?” সঞ্জয় বলে, “হ্যাঁ সেটাই তো দেখছি। ওনার পছন্দ হলেই আমারও পছন্দ....। তবে আসল কথা টাই তো বললেন না”। সঞ্জয়ের কথা শুনে ম্যানেজার একটু হাসি মুখেই বলেন, “তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। এটা আপনি উইদিন টেন থাউজ্যাণ্ড এর মধ্যে পেয়ে যাবেন। আর ওয়ান ইয়ার মেইন্টেন্যান্স কস্ট ফ্রি”। ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে তারা নিচে নেমে আসে। ম্যানেজার বলল, “আপনার সঙ্গে একটা এগ্রিমেন্ট পেপার সাইন করে নিলেই ফ্ল্যাটের চাবি আপনাকে দিয়ে দেওয়া হবে। আপনি আসুন কোনো এক দিন সব বন্দোবস্ত করে দেবো”। মায়ের ফ্ল্যাট টা পছন্দ হয়েছে জেনে সঞ্জয় আর ইতস্তত করলো না। সে এই ফ্ল্যাট টাই বুক করে নিল। সেদিন বিকেলের মধ্যেই ফ্ল্যাটের মালিকের সঙ্গে এগ্রিমেন্ট সই সাবুদও হয়ে গেল। এবার শুধু এক এক করে জরুরি আসবাবপত্র গুলো কিনে ফেলতে হবে। কারণ ফ্ল্যাট সেমি ফারনিশড, অর্থাৎ কেবল কিচেন ক্যাবিনেট এবং প্রতি ঘরে আলো ও সিলিং ফ্যান রয়েছে। সুমিত্রা আগেই ছেলেকে বলে দিয়েছিল যে তার লোন নেবার কোনো প্রয়োজন নেই। তার জমানো টাকা দিয়েই সবকিছু কেনা হবে। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রতিমাসে একটু একটু করে সুমিত্রা হাজার তিনেক টাকা কাছেরই সরকারি ব্যাঙ্কে রেকারিং ডিপোজিট করে জমিয়েছে। ফ্ল্যাটের চাবি পাওয়ার পর মা ছেলে মিলে তারা কী কী আসবাবপত্র কিনবে এখনই তার একটা লিস্ট বানায়ঃ ১) একটি বড় খাট, তোশক, চারটি বালিশ, একটি কোলবালিশ, চারটি বিছানার চাদর, একটি জানালার পর্দা, সদর দরজার একটি পর্দা, ২) একটি স্টিলের আলমারি, ৩) একটি আলনা, 8) একটি ড্রেসিং টেবিল, ৫) একটি তিনজনের বসার জন্যে সোফা, ৬) একটি ফ্রিজ, ৭) একটি কাপড় কাচার ওয়াশিং মেশিন 8) রান্নার জন্যে বাসন কোসন ৯) ঠাকুরের আসন দুজনে, বিভিন্ন দোকান ঘুরে, হিসেব করে দেখল মোটামুটি লাখখানেক টাকার একটু বেশি খরচ করলেই এই প্রাথমিক আসবাবপত্র গুলি কেনা যাবে। বাকি গুলো আর যা লাগবে – টেলিভিশন, ডিশ ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি পরে সঞ্জয়ের বেতন পাওয়ার পর কেনা যাবে বলে ঠিক করল। পরদিন রবিবার সকাল সকাল তারা ফার্নিচারের বেশ কয়েকটা দোকান ঘুরে আসবাবপত্রের দাম জিজ্ঞেস করে। একটি দোকানের দাম ও ডিজাইন পছন্দ করে সুমিত্রা। আলমারি, সোফা, ড্রেসিং টেবিল,আলনা, ঠাকুরের আসনের ডেলিভারি করার অর্ডার, ও সকল সামগ্রীর দাম দিয়ে আসে। সুমিত্রা আসবাব বহনকারী লোকদের বুঝিয়ে দেয়, তারা তাদের সামগ্রী গুলো কোন্ ঠিকানায় যাবে। দোকানের মালিক তাদের বলেন যে ঘন্টা তিনেকের মধ্যে ডেলিভারি হয়ে যাবে। অতঃপর তারা যায় ওয়াশিং মেশিন, ফ্রিজের দোকানে। সেখানেও ও দুটি কিনে, আজই ডেলিভারি করার অর্ডার দেয়। দোকান থেকে বলে দেয় বেলা বারোটার মধ্যে ডেলিভারি দিতে পারবে তারা। এরপর রান্নার গ্যাস ও সিলিণ্ডারের জন্যে সুমিত্রা সঞ্জয়কে বলে খোঁজ নিতে। সঞ্জয় ফ্ল্যাটের অফিসে গিয়ে বলে, “আচ্ছা, কোন্ ডিলারশিপ থেকে গ্যাসের সাপ্লাই হয় এই সোসাইটিতে?” অফিসের কেরানি ভদ্রলোক ভারি উপকারী মানুষ। তিনি বললেন, “দাদা, এখানে ভারত গ্যাস চলে। আপনি ওদের ফোন নম্বর লিখে নিন” সঞ্জয় ও সুমিত্রা ফোন করে ডিলারশিপের অফিসে যায় ও বেল এগারোটার মধ্যে তারা অটো করে দুটো গ্যাস সিলিণ্ডার, ওভেন ও পাইপ এবং ভাল্ভ নিয়ে তাদের নতুন ফ্ল্যাটে ঢোকে। বেলা সাড়ে বারোটায় উপস্থিত হয় আসবাবপত্র ডেলিভারির গাড়ি। প্রথমে ঘরে ঢোকে সোফা। সুমিত্রা সেটিকে বসার ঘরে স্থাপন করতে বলে বহনকারীদের। এবার পরপ্র অন্যান্য সামগ্রী ঘরে ঢুকতেই সুমিত্রা খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়ে, বহনকারীদের তদরকি করতে। মায়ের এমন ব্যস্ততা দেখে সঞ্জয় বলে, “মা তুমি চিন্তা করোনা। এই বিষয়ে ওনারা এক্সপার্ট। তুমি শুধু সোফার মধ্যে চুপটি করে বস। আর দেখতে থাকো। তারা কি কি করে....”। ছেলের কথা শুনে সুমিত্রা বলে, “বাহঃ রে...। আমার ঘর আমি গোছাবো না বলছিস!!” মায়ের কথা শুনে সঞ্জয় একটু মৃদু হেসে বলে, “তা বলতে যাবো কেন, আমার জননী। এটা তো তোমারই ঘর। তুমিই থাকবে সারাক্ষণ। আর সাজাবে তুমিই মা”। সোফার মধ্যে গালে হাত দিয়ে সুমিত্রা বসে থাকলেও তাদের আসবাব পত্র রাখার দিকে নজর যায় সুমিত্রার। কিছুক্ষণের মধ্যেই বহনকারীরা আসবাব ডেলিভারি দিয়ে চলে যায়। তারা চলে যেতেই সুমিত্রা সোফা ছেড়ে উঠে বেড রুমের দিকে পা বাড়ায়। সেখানে দেখে পূর্বে জানালার বাম পাশে তাদের বিশাল সাত বাই পাঁচ ফুটের ডিভান খাটটা রাখা হয়েছে। যার বাম পাশের দরজা দিয়ে বেলকনি তে যাওয়া যায়। এবং বিপরীতে লিভিং রুম যাবার দরজা। তার ডান পাশে কিচেন এবং মুখোমুখি বিপরীতে বাথরুম। লিভিং রুমের ডান পাশে আরও একটা ব্যালকনি। সুমিত্রা বেড রুমে দাঁড়িয়ে থেকে চার দিকে তাকিয়ে লিভিং রুমে চলে এসে সঞ্জয় কে বলে, “চল এবার ফিরে চল।” ইতিমধ্যে ফ্রিজ আর ওয়াশিং মেসিনের ডেলিভারিও করে দিয়ে চলে গেল আর এক দল। সুমিত্রা তাদের বললেছিল, “ফ্রিজটি রাখুন রান্নাঘরের পাশের দেয়ালের ধারে, আর ওয়াশিং মেশিন রাখুন বাইরের বাথরুমে” যথারীতি তারা সেই নির্দেশিত দুটি স্থানেই রাখে যন্ত্রদুটিকে। একইসঙ্গে টেকনিশিয়ান এসে সেই দুটি মেশিনকে চালুও করে দিয়ে যায়। সঞ্জয় নিজেই রান্নাঘরের দেয়ালের পাশ দিয়ে গ্যাসের পাইপলাইন টেনে নেয়। রান্নাঘর এখন পুরো তৈরি। সুমিত্রা বেড রুমে দাঁড়িয়ে থেকে চার দিকে তাকিয়ে লিভিং রুমে চলে এসে সঞ্জয় কে বলে, “চল এবার ফিরে চল। প্রায় বিকেল হয়ে গিয়েছে খিদেও পেয়েছে বড্ড”। সিঁড়ি দিয়ে নামবার সময় ছেলে কে বলে, “এবার মেসে গিয়ে সবার সঙ্গে দেখা করে আগামী শনিবার আমরা এই ফ্ল্যাটে চলে আসবো। কি বলিস বাবু”? সঞ্জয় মায়ের কথা শুনে হাঁফ ছেড়ে বলে, “হ্যাঁ মা...। এই চার পাঁচ বছর ধরে আমাদের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে সেখানে।মেসের দিদা। তোমার ওই দুটো মাসি এবং ধনঞ্জয় মামাবাবু। সবার সঙ্গে শেষ বিদায় জানিয়ে এখানে আসবো”। সুমিত্রা বলে, “হ্যাঁ রে বাবু। তু্ই ঠিক বলেছিস। এবার থেকে হয়তো তোর মা আর কারও জন্য রান্না করবে না, শুধু তোর জন্য ছাড়া”। মায়ের কথার মধ্যে একটু আড়ষ্ট ভাব দেখে সঞ্জয় জিজ্ঞাসা করে, “কি হলো মা...? তোমার গলার স্বরে এমন একটা ভারী ভাব কেন? সুমিত্রা বলে, “এতো দিন ধরে কাজ আমি করে আসছিলাম, যে কাজ করে আমি তোকে বড় করেছি। সেটা হঠাৎ করে ছাড়তে কেমন লাগছে বাবু...”। মায়ের কথা শুনে সঞ্জয় সিঁড়ির মধ্যে থমকে দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে তার দিকে তাকিয়ে তার দুই কাঁধে হাত রেখে বলে, “হ্যাঁ মা তোমার এমন ভাবটা স্বাভাবিক। তবে চিন্তা করোনা। এটারও কোনো উপায় বের করে নেবো আমরা”। ছেলের কথা শুনে সুমিত্রা একটু আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করে, “কি উপায় বাবু...”? সঞ্জয় বলে, “ইউ টিউব চ্যানেল”। সুমিত্রা কিছু বুঝবার আগেই বাস চলে আসে। সে বাসে তারা উঠে বেরিয়ে পড়ে। রাতে সুমিত্রা সঞ্জয় কে জিজ্ঞেস করে, হ্যাঁরে বাবু তোর কি আগামী বৃহস্পতিবার অফিস আছে...? সঞ্জয় বলে, হ্যাঁ মা, অফিস আছে তো! আমাদের ছুটি সপ্তাহে দুই দিন, শনি এবং রবিবার। কেন জিগ্যেস করছো মা? সুমিত্রা বলে, আগামী বৃহস্পতিবার। শুভ দিন। তাই ভাবছি তোকে নিয়ে মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে আসব। গৃহ প্রবেশের আশীর্বাদ নিয়ে আসি। মায়ের কথা শুনে সঞ্জয় দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তার মুখের ভাষা তৎক্ষণাৎ পড়ে নেয় সুমিত্রা। বলে, ঠিক আছে রে, আমি নিজেই চলে যাব। পুজো দিয়ে আসব মায়ের মন্দিরে । তোকে চিন্তা করতে হবে না। তুই নিশ্চিন্তে অফিস যা। পরেরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তারা মেসে জানিয়ে দেয় যে আগামী শনিবার, ৫ই মার্চ তারা এখান থেকে চলে যাবে। যদিও সুমিত্রা মেসের মালকিন কে অনেক আগের থেকেই জানিয়ে রেখে ছিলো যে ছেলের চাকরি হলেই সে রান্নার কাজ ছেড়ে দেবে। তারপর সঞ্জয় মাকে বাসে তুলে দিয়ে নিজেও রওনা দেয় অফিসের দিকে।
Parent