আমার ছেলে শ্যামল....।।।।। - অধ্যায় ৫
আমিও গোসল করছিলাম ঠিক তখনই কেউ আমার মোবাইলে কল করলো। সাধারণত আমার মোবাইলে আর কারও কল আসে না, তার মানে এটা শ্যামলের কল। মানে সে গতকালের কথা পালন করছে। আমিও তাই তাড়াতাড়ি গোসল করতে লাগলাম কিন্তু গোসল করতে তো একটু সময় লাগেই। তবে এই সময়ের মাঝেই সে ৩ বার ফোন করেছিল। তাই গোসল করে এসেই তাকে কল করলাম।
শ্যামলঃ কি হলো? ফোন ধরছিলে না কেন? এটুকুতেই বিরক্ত হয়ে গেলে?
আমিঃ তা না। আসলে আমি গোসল করছিলাম। তাই কল ধরতে পারিনি।
শ্যামলঃ এখন তো সকল কাজ আমি কল করলেই হবে।
আমিঃ সত্যিই আমি গোসল করছিলাম।
শ্যামলঃ প্রমাণ কি? আমি কিভাবে বিশ্বাস করবো?
আমিঃ তাহলে তুই বল কি প্রমাণ চাই?
শ্যামলঃ না কোনো প্রমাণ লাগবে না। আমি আমার মাকে বিশ্বাস করি।
কিন্তু আমি তাকে প্রমাণ দেবোই। তাই তাকে বললাম।
আমিঃ দাড়া ১ সেকেন্ড।
বলে আমি নিজের একটি ছবি তুলে শ্যামলকে পাঠিয়ে দিলাম। কিন্তু আমি তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে ভুলে গেছিলাম যে আমার চুলের চারপাশে তোয়ালে জড়িয়ে আছে কিন্তু নিচে শুধু পেটিকোট পরে আছি। আসলে কল ধরার জন্য তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে আমি শুধু পেটিকোট পরে বেরিয়ে এসেছি। আর ছবি তোলার সময় আমি সে কথা মনে হতেই আমার মুখ হা হয়ে গেল।
শ্যামলঃ তুমি মুখ হা করে আছো কেন মা?
আমিঃ ওসব বাদ দে। এখন কি প্রমাণ পেয়েছিস?
শ্যামলঃ আমি আমার মাকে বিশ্বাস করি, তাই এর দরকার ছিলোনা।
আমিঃ না এখন আমাদের প্রমাণ দিতে হবে, যদি একজন একজন আরেকজনের কল ধরতে দেরি হয়। কারণ যে কল করে তার খুব চিন্তা হয়।
শ্যামলঃ যেমন তোমার ইচ্ছা। যাও এখন তুমি কাপড় পরে নাও না হলে তোমার ঠান্ডা লেগে যাবে।
আমিঃ আমি কাপড় পরেছি, তাই তুই কথা বলতে পারিস।
শ্যামলঃ কিন্তু তুমি তো এখন শুধু পেটিকোট পরে ছিলে?
আমিঃ ছিলাম! কিন্তু এখন কাপড় পরে নিয়েছি।
শ্যামলঃ প্রমাণ দাও!
আমিঃ এই নে প্রমাণ।
আমি তাকে আমার ছবি তুলে পাঠালাম। আসলেই আমি ইতোমধ্যে কাপড় পরে নিয়েছিলাম।
শ্যামলঃ আরে মা আমি তো ভুলই গেছিলাম যে লাউড স্পিকারেও কথা বলা যায়। কিন্তু তুমি কখন কল লাউড স্পিকার করে কাপড় পরলে?
আমিঃ আমি তোর মা! বুঝতে হবে।
শ্যামলঃ হ্যাঁ তুমি আমার মা, অন্য কারোনা। তাহলে রাখি আমি এখন অফিসে যাবো।
আমিঃ ঠিক আছে রাখ। আর সাবধানে অফিস যাস। আর অফিসে গিয়ে আমাকে কল করিস।
শ্যামলঃ ওকে মা বাই!
আমিঃ বাই!
শ্যামল কল কেটে দিলো আর আমি বাড়ির কাজে লেগে পরলাম।