বন্ধুকে বৌ ধার দিলাম full story - অধ্যায় ৫

Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-17169-post-1000800.html#pid1000800

Posted on Sun Oct 20 2019 by Raj1100 (Profile)

Tags: None
703 words / 3 min read

Parent
"হাসের মাংসের রোস্ট আর নান রুটি...খাবার দিয়ে দিবো, টেবিলে?" "আমরা খাওয়ার পর ও কিছু মাংস রয়ে যাবে, নাকি অল্প করে রান্না করেছো?" "না, অল্প না, পুরো একটা হাস রান্না করেছি...আমরা কাল ও খেতে পারবো...কেন, তুকি কি কাউকে দাওয়াত দেয়ার চিন্তা করছো?" "কাউকে না জান..."-লতিফ একটু চিন্তা করে বললো, "আমরা খাওয়ার পরে যেটুকু থাকে তুমি ওটা কবিরের বাসায় গিয়ে ওকে দিয়ে আসলে, আর আমি এই ফাঁকে সব কিছু গুছিয়ে রাখলাম। এর পরে তুমি ফিরলে আমরা ঘুমিয়ে পরবো""হঠাৎ করে কেন এই চিন্তা এলো তোমার?"-সুহা একটু ভ্রু কুচকে জানতে চাইলো। "কবিরের সাথে তোমার অনেকদিন দেখা হয় নাই, তাই না?" "হ্যাঁ, মলি মারা যাবার পর আর দেখা হয় নাই..." "সে তো প্রায় এক মাস হতে চললো, আজ তুমি ওকে দেখলে একদম অবাক হয়ে যাবে, ওর ওজন কমে গেছে, চোখ, চুল, শরীর যেন একদম ভেঙ্গে পড়েছে..." "কিন্তু তুমি নিজে ওর জন্যে খাবারা নিয়ে না গিয়ে আমাকে যেতে বলছো কেন?" "কারন, আমি জানি ও ঠিক মত খাবার খাচ্ছে না...দু দিন আগে ওকে জিমে দেখে আমি নিজে ও খুব কষ্ট পেয়েছি...ওর একটু ভালো খাওয়া দরকার..." "ঠিক আছে, তুমি নিয়ে যাও খাবারটা...""আমার সাথে তো ওর প্রতি সপ্তাহেই দেখা হয়, তোমার সাথে হয় না...আর আমি জানি তুমি মানুষকে কথা দিয়ে বুঝানোর ব্যাপারে বেশ দক্ষ। আর কবির ও তোমাকে বেশ পছন্দ করে, ওকে বিভিন্ন কথা বলে একটু বুঝাতে চেষ্টা করো, ওকে একটু হাসানোর চেষ্টা করো, ওকে কিছু আশাব্যঞ্জক কথা শুনিয়ে চাঙ্গা করতে চেষ্টা করো, আমি জানি তুমি এসব কাজ করতে পছন্দ করো...তাহলে ও হয়ত একটু নিজের দিকে ফিরার চেষ্টা করবে, ওর মনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে..." "ওয়েল... আমার মনে হয় তুমি ঠিকই বলছো...ওকে কিছুটা বিভিন্ন কথা বলে বুঝানো দরকার, যেন ও নিজের দিকে একটু খেয়াল করে, এভাবে চললে তো ও মানসিক রোগী হয়ে যাবে..." "ওর সাথে খুব ভালো ব্যবহার করো সুহা... ওকে কিছুটা স্নেহ দেয়ার চেষ্টা করো"-লতিফ বেশ নিচু স্বরে সুহার দিকে না তাকিয়ে কথাটি বললো। "এটা কি বললে? এর মানে কি?"-সুহা আবার ও স্বামীর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো।"এর মানে কিছু না, জান, কিছু না...আমি বোঝাতে চেয়েছি যে, যদি ও আমি সামনে নেই, কিন্তু তুমি ওর প্রতি একটু মমতা বা দরদ দেখাতে পিছিয়ে যেও না। ওকে একটু জড়িয়ে ধরো, ওর মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিও, আসার আগে ওর গালে একটা চুমু দিও, যেন ও বুঝতে পারে যে, আমরা ওকে খেয়াল করি, যেমন মলি বেঁচে থাকতে আমরা করতাম ঠিক তেমনই..." সুহা তারপর ও কিছুটা সন্দেহের দৃষ্টিতেই লতিফের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ, সে এখন ও বুঝতে পারছে না যে লতিফ কেন ওকে এতো রাতে খাবার নিয়ে কবিরের বাসায় যেতে বলছে। কবিরের বাসায় সুহার যাওয়া নিয়ে আর কোন কথা না বলেই ওরা নিরবে খাওয়া শেষ করলো। খাওয়ার পরে, যেটুকু খাবার ছিলো সেটুকু সব খালি একটা বাটিতে ঢেলে, ফয়েল দিয়ে মুড়িয়ে, দুটো নান রুটি ও সাথে মুড়িয়ে প্যাকেট করে নিয়ে নিলো সুহা। এর পরে লতিফকে ঠোঁটে চুমু দিয়ে বিদায় জানিয়ে সে গাড়ীর চাবি হাতে নিয়ে বেড়িয়ে গেলো।কবিরের বাসা ওদের বাসা থেকে একদমই দূরে নয়, এই ১০ মিনিটের পথ। যেতে যেতে ও সুহার মনের ভিতর চলছিলো যে কেন লতিফ হঠাৎ করেই কবিরকে খাওয়ানোর জন্যে এমন উদগ্রীব হয়ে গেলো আর ওকেই কেন যেতে বললো। ওর স্বামী যে ওকে কবিরকে একটু জড়িয়ে ধরে, মাথায় হাত বুলিয়ে স্নেহ দেখাতে বললো, সেটার ভিতরের কথাটা কি সেটা ও বের করার চেষ্টা চলছিলো ওর মস্তিষ্কে। লতিফের কথাবার্তা ওর কাছে একটু কেমন যেন বিদঘুটে মনে হচ্ছিলো আজ। সুহা ওর গাড়ী পার্ক করে রাখলো কবিরের বাসার সামনে। যেহেতু কবিরের বাসা দোতলায়, তাই সে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি বেয়ে উঠে দরজায় কলিংবেল দিলো। প্রায় ৩০ সেকেন্ড কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে সুহা আবার ও বেল টিপলো, ভিতরে কিছু নড়াচড়ার শব্দ পেলো এবার সে, প্রায় ২০ সেকেন্ড পড়ে দরজা খুলে কিছুটা ফাঁক করে কবির ওর মাথা বের করে উঁকি দিলো। লতিফ ঠিকই বলেছে ওকে, কবিরকে দেখে চেনাই যাচ্ছে না, সব সময় কবির ওর পোশাক পরিচ্ছদ একদম চকচক করেই রাখতো আর ওর চেহারার সেই উজ্জ্বলতা একদম উধাও হয়ে গেছে। মনে হয় অনেক দিন ধরেই কবির সেভ করে না, ওর চুল পুরো উসকোখুসকো হয়ে আছে, চোখ দুটি কেমন যেন লাল, গালের চামড়া যেন ঝুলে গেছে, ওর বয়স যেন এক লাফে প্রায় ১০ বছর বেড়ে গেছে, এমনই মনে হলো সুহার কাছে।"সুহা, কি হয়েছে, এতো রাতে তুমি এখানে কেন?"-কবির যেন ওকে দেখে এক বিস্ময়ের ধাক্কা খেলো। "তুমি ভিতরে সমাদর করে ডেকে নিবে এই আশায় দাঁড়িয়ে আছি, কবির..."-সুহা একটা মজা করার গলায় বললো, "আমি তোমার জন্যে ডিনার নিয়ে এসেছি" "কি?...কেন?...ডিনার কেন?..."-কবির যেন কি বলবে বুঝতে পারছে না, ও কথা বলতে একটু তোতলাচ্ছে।
Parent