দাবার চাল - অধ্যায় ২৭
৮.৪
আখতার সাহেব বুঝতে পারছেন না তিনি এখানে কি করছেন! আর এই নারীই বা কে!
একে তো নাজনীনের মতো লাগছেনা!
সে সকালে ফোনে জাবেদের সাথে কথা বলেছেন,জাবেদ তাকে সেখানেই থাকতে বলেছে ৷
কিন্তু আখতার চৌধুরীর চোখের সামনে একটা হলোগ্রাফিক ইমেজ ভাসছে এবং সাথে
কারো যেনো হাসির শব্দ তার কানে ভেসে আসছে ৷
বিষয়টা বড়ই অদ্ভূত,
হাসান তাকে ড্রাইব করে এখানে কেনো নিয়ে আসলো, তাদের তো টেকনাফ থাকার কথা!
গেটের শব্দ শুনে মনে হলো কেউ এসেছে ৷
—জাবেদ! বলতো বাবা আমি এখানে কি করে আসলাম?
জাবেদ অনেকটাই ইতস্ততার মধ্যে ছিলো,
—তা আব্বা, আপনার কোথায় থাকার কথা?
—কেনো, টেকনাফ,তোর টিলার কাছে .......
জাবেদের জন্যে গলা শুকিয়ে আসলো,
—কি বলেন আব্বা,
—হ্যা, তুইনা বলেছিলো টেকনাফ একটা টিলে দেখেছিস কেনার জন্যে?
জাবেদ ঠিক বুঝার চেষ্টা করছে, তার বাবার কতটুকু কি জানা আছে!
—কি কথা বলছিসনা কেনো?
—আব্বা, সে গঠনার আজ ৮ মাস হয়ে গিয়েছে ৷
আপনার কি মনে পড়ছেনা?
—না!
এবার জাবেদের মাথা কাজ করে গেলো, সে বলতে লাগলো,
—মামার লোকেরা, টেকনাফ তোমায় হত্যার চেষ্টা করে,আপনার উপর গুলি চালায় এবং সেখানে হাসান চাচা ইন্তকাল করেছেন,এবং তখন আপনাকে আমি নিরপদ রাখার জন্যে বিভিন্ন জায়গায় রেখেছি এবং সবশেষ এখানে নিয়ে এসেছি ৷
আখতার সাহেব তার মাথার পিছনে হাতবুলাতেই বুলেটের ক্ষতের দাগ তার আঙ্গুল স্পর্শ হয় ৷
হাসনের মৃত্যু সংবাদে তিনি খুবই আহত হন ৷ খুবই বফাদার ছিলো সে ৷
আখতার সাহেব নিজেকে সামলে বললেন,
তোর আম্মা কোথায়?
—সবাই ঠিকআছে, তবে উনাকে আপনার দূর্ঘটনার সংবাদ শুনাইনি ৷
বলেছি আপনি ব্যবসার কাজে বাহিরে গিয়েছেন!
প্রথমে একটু রাগ করলেও পরবর্তীতে তিনি ছেলেকে বললেন,
—ঠিকি করেছিস, মহিলা মানুষ সুধুই চিন্তা করতো ৷
কিন্তু এই মহিলা কে?
জাবেদ — আসলে আব্বা, আপনি দীর্ঘ সময় ধরে স্মৃতি বিলোপ অবস্থায় ছিলেন তখন উনি ছিলো আপনার সেবিকা, কিন্তু একরাতে আপনি তার সাথে ........
—থাক,
—এরপর,আপনার ইচ্ছেতেই উনার সাথে আপনার বিয়ে হয়েছিলো ৷
আখতারের ভেবেই অবাক হলো!
কতগুলো সময় কেটে গিয়েছে, কতো কিছুই ঘটে গিয়েছে
তবে এসবের জন্যে সেই আততায়ী হামলাকারীই দায়ি ৷
আখতার তাকে ছাড়বেনা!
তার শালাদেরও না ৷