দাবার চাল - অধ্যায় ৪
৪
আমার মা খুব কমেই নানার বাড়িতে যেতো, আর বাবার কথা নাহয় বাদেই দি, কারন বাবাও সব সময় ব্যাবসা নিয়ে ব্যাস্ত ছিলেন, আর এখন ইবাদাত নিয়ে ৷ মায়ের ধারনা ছিলো, "বিয়ের পর স্বামীর বাড়িই মেয়েদের সব " ৷ আবার নানানানী ও বেচেঁ ছিলেন না, এ কারনেও মায়ের অনিহা ছিলো নানা বাড়ির প্রতি,
কিন্তু তাই বোলে যে আমরা একেবারেই নানার বাড়ি যেতাম না তা নয়, শুধুমাত্র দাওয়াত টাওয়াতে বছরে হয়তো দু তিন বার যেতাম ৷
আজ এমনি একটি দাওয়াত, নানার জমির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে মামারা আমাদের দাওয়াত করেছিলেন ৷
নানাজান মাওলানা হলেও, আমার মামারা ছিলেন অনেক উশৃঙ্খল প্রকৃতির, এলাকার মানুষ তাদের খুবি ভয় পেতো,
নানার বাড়িতে পৌছানোর পর, হালকা নাস্তা করে বৈঠক শুরু হয়ে গেলো,
বৈঠকের মাঝখানেই মামাদের সাথে বাবার কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়, বিষয়টা ছিলো আমার ছোট খালাকে নিয়ে ৷
ছোট খালারা আর্থিকভাবে দূর্বল ছিলো, যার কারনে বাবা, চেয়েছিলেন তাদের যে অংশ তা যেনো পুরুটাই তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু মামারা বলছেন অর্ধেকের বেশি দেওয়া হবে না ৷ বাবা তখন উত্তেজিত হয়ে পড়লেন, মামারাও উত্তেজিত,
আমারা ততক্ষনাৎ, সেখান থেকে চলে আসলাম ৷বাবার এক কথা, যেখানে তার কথার মূল্য নেই সেখানে তিনি একমুহূর্তও থাকবেন না ৷ মা তো এর আগেই এক পায়ে খাড়া ৷ বাবার অপমান তিনি সহ্য করতে পারেন না ৷ আমি বেচারা আর কি করি, বড়মামিকে জড়িয়ে ধরে বাড়াটা তার তলপেটে ঠেকিয়ে সালাম দিয়ে বিদায় নিয়েএসে গাড়িতে উঠি ৷
ড্রাইভার হাসান কাকা, গাড়ি স্টার্ট দিয়ে দিলেন ৷
আমি গ্লাসে খালি মাকেই দেখছিলাম, বাবার সাথে কথা বলার সময় তাকে হেব্বী লাগছিলো ৷ গোলাপি ঠোঁট, দেখলেই যেকারো কিস করতে ইচ্ছে হবে ৷
যায় হোক, মাকে পেতে হলে আমাকে প্ল্যান মাফিক কাজ করতে হবে ৷ তাই তার থেকে চোখ সরিয়ে চোখ বন্ধ করে প্ল্যানটা সাজিয়ে নিলাম ৷
মাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,
আমি—মামারা কিন্তু কাজটা ভালো করেনি, মা ৷
তারা আজ বাবাকে সবার সামনে শাসিয়েছে, কাল নাজানি কি করে বসে!
বাবা— কি, আর করবে? তাদের মুরোদ আমার জানা আছে, এরা সুধু শাসাতেই পারবে ৷ কিছু করার মতো জিগার, এদের নেই ৷
মা কিন্তু চুপ চাপেই ছিলো ৷ তিনি জারা কে সামলাচ্ছেন, কিন্তু তাকে দেখে ভীত মনে হচ্ছে ৷
এর মানে আমার কথা কাজে দিয়েছে .......
আমরা বাড়ির ভেতরেই চলে আসলাম,
সবার মন মেজাজ খারাপ হয়ে আছে ৷
আমি এমন একটা সুজোগের অপেক্ষাতেই ছিলাম ........
,
বাবা টেবিলে বসে ,তার পরিচিত উকিলদের ফোন করছিলেন, ছোট খালাদের হকের ব্যাপারে কথা বলার জন্যে,
এর মধ্যে, আমি আমার ভার্সিটির কিছু কাগজ পত্র বাবার কাছে নিলাম সাইন করাবার জন্যে, সাথে টেকনাফে নতুন যে টিলাটা কিনেছি, তার কাগজও ছিলো ৷
—আব্বু,
টেকনাফে যে টিলাটা তোমার নামে কিনেছি তাতে তোমার সাইন লাগবে, আর সাথে আমার ভার্সিটির কিছু কাগজ পত্র আছে ৷
—আচ্ছা, তাড়াতাড়ি দে ৷
পড়ে দেখার ফুরসতও বাবার ছিলো না,
তিনি তড়িঘড়ি করে সবগুলো কাগজে সাইন করে দিলেন ৷ তিনি টেরও পেলেন না, তিনি কি করলেন!
এসব কাগজের মধ্যে ছিলো, আমাদের সকল সম্পত্তি আর বাবার ব্যাংকের কাগজ, সাথে মায়ের ডিভোর্স পেপার ................