গোধূলি আলো'র গল্পগুচ্ছ - অধ্যায় ১০৪
পরদিন সকালে ঘুম ভাঙলো কোনো নারী কন্ঠের ডাকে। ধড়ফড়িয়ে ইজি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছি, দেখলাম সামনে মা দাঁড়িয়ে। দেখে বেশ অবাক হলাম। কারণ তাকে ঠিক আগের মতোই লাগছে যেমনটা অসুস্থ হবার আগে লাগতো। সদ্যই গোসল সেরে পরিপাটি করে শাড়ি পরেছেন। আর সামনে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে মিটিমিটি হাসছেন যেমনটি নতুন বৌরা করে বাসর রাত শেষে। আমার মনে হলো যেনো আমি স্বপ্ন দেখছি। গায়ে চিমটি কেটে দেখলাম ঠিকই ব্যথা করছে। তার মানে এসব সত্যি। আমি বোকার মতো মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। তিনি অনেকক্ষণ পর মুখ তুলে বললেন, পীর সাহেবের চিকিৎসা একদম সঠিক। আজ সকাল থেকেই একদম ফ্রেশ লাগছে। শরীরের কোথাও কোনো অস্বস্তি নেই।
তার কথা শুনে মনটা খুশিতে ভরে গেলো। এতো দিনের এতো সব ঝামেলা, কষ্ট সব ভুলে গেলাম। আত্মহারা হয়ে মাকে জড়িয়ে ধরলাম। ধরেই মনে হলো ভীষণ ভুল করেছি। তিনি হয়তো প্রচন্ড রাগে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেবেন আমাকে। কিন্তু না। তিনি তেমন কিছুই করলেন না। বরং নিজেও দু হাতে আমার পিঠ আঁকড়ে ধরলেন। আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে কিছু সময় পর তাকে ছেড়ে দিয়ে বললাম, রাগ করলে না যে!
মা আবার মাথা নিচু করে বললেন, রাগ করে আর কী হবে? বিয়ে, বাসর সব হয়ে গেছে। এখন এসবের উসিলায় শরীরও সুস্থ হয়ে গেলো। তাই বাস্তবতাকেই মেনে নিতে চাই।
আমি আবারো আনন্দে দিগ্বিদিক হয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বললাম, তুমি জানো না তুমি আমাকে কতোটা সুখী করেছ আজ।
মা আমার খোলা বুকে ধীরে ধীরে হাত রেখে বললেন, হুম। চলো এখন আমাদের সুখের অংশীদার বাড়ির সবাইকেও করি। একটা টি শার্ট গায়ে দাও। আগে তোমার বাবার ঘরে গিয়ে তাকে সব জানিয়ে সালাম করে আসি।
আমি টি শার্ট গায়ে দিয়ে মাকে নিয়ে বাবার ঘরে গিয়ে তাকে সব বলে দুজনে একসাথে বাবাকে সালাম করলাম। তিনি আমাদের দোয়া দিতে গিয়ে আনন্দে কেঁদে ফেললেন। এরপর বাড়ির অন্য সবাইকে ডাকলেন। বাবার ঘরটিতে আনন্দের বন্যা বয়ে গেলো। এতো দিন নতুন সম্পর্কটাকে মেনে নিতে সবার কষ্ট হলেও আজ মাকে সুস্থ পেয়ে সবাই সবকিছু মন থেকে মেনে নিলো। যদিও আমার ভাইবোনেরা কেউই এখনো আমাকে বাবা বলে ডাকে নি। তবে আগের মতো নাম ধরে বা তুমি-তুই বলেও ডাকে নি। আপনি বলে ডেকেছে। আমি অধীর আগ্রহে আছি তাদের মুখে বাবা ডাক শুনতে। সে যাই হোক, আনন্দ উল্লাস শেষে আমি মাকে নিয়ে নিজেদের ঘরে এলাম। মা বললেন, কলেজে যাবার জন্য তৈরি হও এবার।
আমি অবাক হয়ে বললাম, সেকি! আজ কলেজে যাবো কীভাবে? আজ সারাদিন ধরে আমাদের হানিমুন চলবে।
বলেই আমি দরজা লক করে দিলাম। মা আমার দিকে তাকিয়ে লাজুক কন্ঠে বললেন, যাও।