গোধূলি আলো'র গল্পগুচ্ছ - অধ্যায় ১০৮
মানসিক অস্থিরতায় কী করবো না করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। অবশেষে অনেক ভেবে সন্ধ্যের পর মায়ের মোবাইলে একটা টেক্সট করলাম। "যদি পাঁচ মিনিটের ভেতর ছাদে না আসো তাহলে আমি ছাদ থেকে লাফ দেবো"। ভেবেছিলাম মা হয়তো আসবে না। কিন্তু তিনি ঠিকই এলেন। ছাদের ওপর গাছ দিয়ে ঘেরা ঝোপের মতো একটা জায়গা ছিল। সেখানে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। মা কাছে এসে বললেন, যা বলার তাড়াতাড়ি বলো।
আমি বললাম, ঠিক আছে। মানছি, আমি যা করেছি ভুল করেছি। কিন্তু আমি কী করলে সঠিক হতো সেটা তুমিই বলে দাও। আর কী করার ছিল আমার?
মায়ের চোখে মুখে নিরুপায় বিরক্তি ফুটে উঠলো। মুখে বললেন, জানি না আমি কিছু।
আমি দিশেহারা হয়ে বললাম, এভাবে এড়িয়ে গেলে তো হবে না। তোমার নির্লিপ্ততা আমাকে শেষ করে দিচ্ছে।
বলতে বলতে আমি প্রায় কেঁদেই দিলাম। তাই দেখে মা কিছুটা নরম হয়ে বললেন, কথা বলে আর কী হবে? আগের মতো স্বাভাবিক মা ছেলের সম্পর্কে তো আর ফেরা যাবে না। তার চেয়ে দূরে দূরে থাকাই ভালো।
আমি কান্না ভেজা কন্ঠে বললাম, ওহ আচ্ছা। সমস্যাটা তাহলে এখানে। সেটা আগে বললেই হতো। আমি অন্য কোনো ব্যবস্থা দেখতাম।
মা আকুল দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, কী ব্যবস্থা?
আমি বললাম, দূরে কোথাও পালিয়ে যাবার কথা ভাবতাম।
মা অবাক হয়ে বললেন, তা কীভাবে সম্ভব হতো? পালিয়ে গিয়ে আমরা চলতাম কীভাবে?
আমি বললাম, পুরুষ মানুষের কাজের কি অভাব হয়? যা হোক কিছু একটা জুটিয়ে নিতাম। আমার এক বন্ধুর বাবাই তো সিলেটে চা বাগানের মালিক। সেখানে গিয়ে মজুরিগিরি করে হলেও তো চলতে পারতাম।
মায়ের মুখে আশ্বাসের চিহ্ন ফুটে উঠলো। তিনি বললেন, তবে তাই করো। এখানে আমার একটুও ভালো লাগছে না। প্রতি রাতে মনে হয় যেনো ধর্ষিত হচ্ছি। আমাকে উদ্ধার করো এখান থেকে।
বলতে বলতে তিনি আবেগে আমার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। আমি তার পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বললাম, তোমার বড় হাতব্যাগটিতে টাকা পয়সা আর সোনাদানা যতোটা সম্ভব রেডি করে রেখো। কাল পরশুর ভেতরেই আমরা চলে যাবো এখান থেকে। আমি কলেজের ক্লাস শেষে তোমাকে কল দেবো। তুমি কোনো একটা অজুহাতে বাইরে বের হবে। তারপর দুজনে মিলে বাসে চড়ে সোজা সিলেট পৌঁছে যাবো।
সিলেটগামী বাসে পাশাপাশি বসে আছি আমি আর মা। বাস ছাড়তে আরো আধঘন্টা বাকি। তারপর কয়েক ঘন্টা পরেই আমি আর মা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবো। সেখানে আমি যখন যেভাবে খুশি মাকে ভোগ করতে পারবো। কেউ বাঁধা দেবে না। মায়ের শরীরটা শুধু আমার সম্পদ হবে। আর কোনো দাবিদার থাকবে না। ভাবতেই গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল। আবেশে শিউরে উঠলাম। হঠাৎ করে মনে হলো এক কাপ চা খাওয়া দরকার। সকালবেলা মানসিক অস্থিরতায় চা খাওয়া হয় নি। মাথাটা বেশ ধরে উঠেছে। এতো ঘন্টা জার্নি শুরু হবার আগে এক কাপ হয়ে যাওয়া ভালো। মায়ের চায়ের অভ্যেস নেই। তাই তাকে বসিয়ে রেখে আমি বাসস্ট্যান্ডের টং দোকানে গিয়ে চায়ের অর্ডার করলাম। চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে এক চুমুক দেবার পরেই দেখতে পেলাম আমার ভাই আর বোন-জামাই বাসস্ট্যান্ডের দিকে ছুটে আসছে হন্তদন্ত হয়ে। যেভাবেই হোক এখানে আমাদের অবস্থানের কথা তারা জানতে পেরেছেন সেটা বুঝতে পারলাম। শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা জলের স্রোত বয়ে গেলো আমার। কী করা উচিত ভেবে পেলাম না।