গোধূলি আলো'র গল্পগুচ্ছ - অধ্যায় ১১৪
আবির ভোরবেলা বাসায় ফিরতেই চৈতি একেবারে অবাক হয়ে গেলো। উৎকণ্ঠিত গলায় জানতে চাইলো, তুমি এতো সকালে ফিরে এলে! মা কোথায়? তার কী অবস্থা?
আবির হাত উঁচু করে বললো, মা ভালো আছে। আমাকে একটু একা থাকতে দাও।
বলেই সে মায়ের ফাঁকা ঘরটিতে গিয়ে দরজা লক করে বিছানায় বসে ভাবতে লাগলো, গত রাতে কি হয়ে গেলো! এমনি এমনিই কি এমনটা হলো? নাকি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল? না, ছিঃ মা কেন নিজের ছেলের সাথে এমনটি করার পরিকল্পনা করবেন! নিশ্চয়ই এটা একটা দূর্ঘটনা। কিন্তু এমনটি কেন হলো? এরপর আর কীভাবে মায়ের মুখোমুখি হবো?
মা তার জীবনের সবকিছু। অনেক কষ্টে তাকে মানুষ করেছেন। নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করাটাই ছিল তার জীবনের একমাত্র ব্রত। কিন্তু অনার্সের তৃতীয় বর্ষে পড়বার সময়ে প্রথম বর্ষে নতুন ভর্তি হওয়া চৈতি যখন তার দিকে প্রেমের আহ্বান জানালো তখন শুরুতে সাড়া না দিলেও এক পর্যায়ে তার সীমাহীন ভালোবাসার কাছে হার মানলো আবির। মাস্টার্স শেষ করে যখন সে চাকরি খুঁজতে ব্যস্ত তখনই চৈতি জানালো তার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে পরিবার। আবির তাকে গ্রহণ না করলে সে আত্মহত্যা করবে। চৈতির মতো আবেগী মেয়ের পক্ষে যে সেটি অসম্ভব নয় তা ভালোভাবেই জানতো আবির। তাই সব ভুলে চৈতিকে গ্রহণ করেছে সে। এতে মা যে অখুশি হয়েছেন ভেতরে ভেতরে সেটি ভালোভাবেই বুঝেছে আবির। সেই থেকেই একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আবির ভেবেছিল চাকরি বাকরি হবার পর মায়ের সাথে সম্পর্ক আবার আগের মতো হয়ে যাবে। কিন্তু তেমনটি হয় নি। বরং দিন দিন দূরত্ব আরো বেড়েছে। সবকিছু মেনে নিয়ে মোটামুটি ভালোই যাচ্ছিল দিনগুলো। অন্তত মুখোমুখি কোনো মনোমালিন্য হয় নি কোনোদিন। অথচ কাল রাতে হুট করে কী একটা ঘটনা ঘটে গেলো! এরপর সম্পর্কটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে ভেবে পেলো না আবির।
ওদিকে সেলিনা আর বাসাতেই ফিরতে চাইছিল না। আকলিমা অনেক বুঝিয়ে তাকে বাসায় পাঠালেন বিকেলবেলা। চৈতি দরজা খুললো। আবির তখনো ফেরে নি অফিস থেকে। সেলিনা সোজা নিজের ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেন। এতকিছুর পর প্রথমবার কীভাবে ছেলের মুখোমুখি হবেন তাই ভাবতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পরেই কলিং বেল বাজলো। চৈতি দরজা খুলতেই আবিরের কন্ঠ শুনতে পেলেন। বুকের ভেতরটা ছলকে উঠলো। এমনটি কেনো হচ্ছে? এমনটি তো বহু বছর আগে বিয়ের পর স্বামী যখন বাসায় ফিরতো তখন লাগতো।