গোধূলি আলো'র গল্পগুচ্ছ - অধ্যায় ৪৪
সেই বাচ্চা বয়স থেকেই মঈনকে আমি বিশেষ দৃষ্টিতে দেখে আসছি। তবে মঈনের চার বছর বয়সে যখন আমি দ্বিতীয় পুত্র মৃণালের মা হলাম তখন তাকে নিয়ে আর বিশেষ কোনো ভাবনা রাখি নি মনে। কারণ এই ছেলেটির সাথে আমার একদম খাঁটি মা-ছেলের মতো সম্পর্ক থাক, এটাই আমি চেয়েছি। মঈনের বয়স যখন ছয় তখন আমার মা মারা গেলেন। আমি অনেকটাই ভেঙে পড়লাম। যদিও নিজের দুঃখ-কষ্টের কথা মাকে কখনোই বলতাম না আমি। সব সময়েই এমন ভাব দেখাতাম যেনো আমি খুব সুখে আছি তাই তার কাছে এসে দুঃখ-কষ্ট হালকা করার সুযোগ ছিল না। কিন্তু নিজের পাশে তার উপস্থিতিটা যখন অনুভব করতাম তখন পরম এক শান্তিতে মনটা ভরে যেতো। সেই শান্তিটা এখন আর পৃথিবীর কোথাও রইলো না। নিজেকে প্রচন্ড একা মনে হতো। শুধু নিজের দুই ছেলের ভেতরেই সুখ খুঁজে বেড়াতাম। তবে এর পাঁচ বছর পর যখন আমার শ্বাশুড়ি মারা গেলেন তখন আমি অনেকটাই স্বস্তি পেলাম। আর তিনি চলে যাবার পরে স্বামীর সাথে আমার সম্পর্কটা আরও নিকট হলো, সংসারের কর্তৃত্বটাও আমার কাছে এলো। তখন আর দশটা সাধারণ বাঙালি নারীর মতো আমিও নিজেকে সুখী একজন গৃহিণী ভাবতে শুরু করলাম। কিন্তু বিয়ের পরের তেরোটি বছর যে দুঃসহ কষ্টের আগুনে আমি জ্বলেছি তা ভুলতে পারলাম না এতো সহজে। মঈনকে নিয়ে যে পরিকল্পনা আমি করেছিলাম তাতে অটল রইলাম। মঈনের বয়স এখন 11 বছর। আমি তার 16 বছর পূর্ণ হবার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।