গৃহবধূ : বাড়ির রক্ষাকর্ত্রী - অধ্যায় ১
প্রিভিউ
ঢাকার অভিজাত এক শান্ত পাড়ায়, তিনতলা সাদা রঙের পুরনো নকশার একটি বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে রাজসিক ভঙ্গিতে। প্রবেশপথের লোহার গেট পেরিয়ে ঢুকলেই, পাকা পথ ধরে ফুলে ভরা ছোট্ট বাগান—গোলাপ, জুঁই আর বেলির গন্ধ মিশে থাকে বাতাসে। ভেতরে উঠোনের একপাশে গাড়ি রাখার শেড, অন্যপাশে রান্নাঘরের ছোট্ট পেছনের দরজা।
এই বাড়িতে থাকে চারজনের এক স্নিগ্ধ সংসার।
রিয়া (২৪)—শহরের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা এক মার্জিত, নরম স্বভাবের তরুণী। তার হাসি যেমন শান্ত, তেমনি চোখে লেগে থাকে এক অদৃশ্য মায়া। বিয়ের আগে জীবন কেটেছে আরাম আর স্নেহের ছায়ায়। বিয়ের ছয় মাস পেরোলেও রাতুলকে নিয়ে তার নতুন সংসারের আবেগ এখনও টাটকা। ঘরের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে রান্নার আয়োজন—সবখানেই রিয়ার সূক্ষ্ম রুচির ছাপ মেলে।
রাতুল (২৭)—স্মার্ট, আত্মবিশ্বাসী, বাবার ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি নতুন নতুন পরিকল্পনায় ব্যস্ত থাকে। অফিসের বাইরে রিয়াকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করে, আর দুজনের মিলের কারণে তাদের সম্পর্ক সহজ আর নির্ভেজাল।
মো. আজিম (৬২)—পরিবারের কর্তা, শান্ত কিন্তু দৃঢ় ব্যক্তিত্বের মানুষ। ব্যবসায় অভিজ্ঞ, কথায় কম কিন্তু কাজে মনোযোগী। ছেলেকে দায়িত্ব শিখিয়ে দিতে চান, তবে মাঝে মাঝে পুরনো দিনের স্মৃতিতে হারিয়ে যান।
নাজমা বেগম (৫৫)—গৃহিণী, পরিবারের মমতার কেন্দ্র। রিয়াকে নিজের মেয়ে মনে করে, তার প্রতি যত্নে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য নেই। রিয়ার জন্য প্রিয় খাবার বানানো থেকে শুরু করে শাড়ির রঙ বাছাই—সবকিছুতেই তিনি মাতৃসুলভ আন্তরিকতা দেখান।
হরিশ (৫৬)—এই পরিবারের ড্রাইভার। গায়ের রং খুবই কালো, কিন্তু লম্বা ও শক্তসমর্থ গড়ন। গ্রামের মানুষ, সেখানেই বউ-বাচ্চা থাকে; বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বেশি কথা বলে না, কিন্তু আচরণে এক ধরনের গম্ভীরতা আর অভ্যন্তরীণ রহস্য লুকিয়ে থাকে।
লতা (৩৮)—গৃহকর্মী। চটপটে, মুখে সবসময় ব্যস্ত ভাব, তবে মাঝে মাঝে ফাঁক পেলেই গসিপে মাতেন। হরিশের সাথে তার সম্পর্ক শুধুই পরিচিতি নয়—একই গ্রামের হওয়ার কারণে দীর্ঘদিনের সখ্য আছে, আর গোপনে তারা একে অপরের কাছে আরও ঘনিষ্ঠ। লতাই একসময় হরিশকে এ বাড়িতে কাজের জন্য নিয়ে আসে।