করুনাময়ী মা। - অধ্যায় ১৫
আমি- দাড়িয়ে আছি পা বাড়াতে পাড়লাম না, সত্যি কি ও আমার প্রেমে পড়েছে নাকি হেয়ালী করছে। অনেখন ওর বাড়ির দিকে তাকিয়ে রইলাম কিন্তু আর দেখা পেলাম না, আর বের হয়নি বাড়ি থেকে। আমি এবার গুটি গুটি পায়ে হাটতে লাগলাম একটু ফাঁকা রাস্তায় যেতে মোবাইল বের করে হাত নিয়ে ভাবছি ফোন করব। এখনো বেলা আছে হাতে নিয়ে সেভ নাম্বার কল করতেই সাথে সাথে ধরল এক মুহূর্ত দেরী করেনি।
সীমা- বল কোথায় এখন।
আমি- দাঁড়িয়েছিলাম অনেখন তুমি আর ফিরলেনা তাই হাঁটতে শুরু করেছি।
সীমা- আমি সব দেখেছি যাও বাড়ি যাও সত্যি মা চিন্তা করবে বাড়ি যাও পড়ে ফিরি হয়ে ফোন করবে এখন আর সময় নষ্ট করনা। সন্ধ্যে হয়ে আসছে রাতে কথা বলব অনেক্ষন কেমন, লক্ষ্মী সোনা বাড়ি যাও।
আমি- হুম তাই হবে যাচ্ছি, তুমি ফোন করবে আমাকে।
সীমা- আচ্ছা আমি ফোন করব, এখন রাখ কেমন না হলে যেতে তোমার দেরী হবে। বাই সোনা রাখি মা ঘরে আসছে রাখলাম।
আমি- আচ্ছা রাখ তাহলে ওকে বাই। বলে ফোন লাইন কেটে দিয়ে সোজা বাজারে গেলাম, মায়ের অনেক অভিযোগ বাবা মাকে কিছু কিনে দেয় না, তাই ঠিক করলাম মায়ের জন্য কিছু কিনে নিয়ে যাবো। বাজারে ঢোকার আগে পকেত দেখে নিলাম ভালই টাকা আছে। একটা বড় দোকানে ঢুকলাম, মায়ের জন্য দুটো শাড়ি বাড়িতে পরার নিলাম সাথে দুটো ব্লাউজ, মায়ের যা সাইজ আন্দাজ করে বড় ৩৬ সাইজের ব্লাউজ, সাথে ব্রা কিনলাম, এবং এক জোরা ছায়া কিনলাম। বাড়িতে পরার এক জোরা চটি কিনলাম একটু ফেন্সি, বেকার টিউশনি করাই বেশী ভালো কিনতে পাড়লাম না। চুলের খোপার ব্যান্ড নিলাম, এবার কস্মেটিক দোকান থেকে, লাল লিপস্টিক এবং শ্যাম্পু নিলাম, সাথে নেল পালিশ ও। দোকান থেকে বেড়িয়ে দেখি।
আকাশ কালো হয়ে আছে মনে হয় ঝর উঠবে তাই জোর পায়ে হাটা শুরু করলাম। হাওয়া শুরু হতেই বাড়ি পৌঁছে গেলাম। ঘরে ঢুকতেই বৃষ্টি শুরু হল।
মা- কিরে এত দেরী করলি কোথাও গিয়েছিলি নাকি। হাতে কি কিসের ব্যাগ।
আমি- আছে পড়ে দেখবে বলে ঘরে নিয়ে গেলাম আর দেরী হওয়ার কারন তারক বাজার করেছে ওর ভাগ্নী এসেছিল সবাই মিলে খেতে বেলা চলে গেছিল তারপর আসার সময় আবার ওকে বাড়ি দিয়ে তারপর ফিরলাম।
মা- হুম পায়েল বলেছে সব। তারকের নাকি আবার ট্রেনিং তোকে থাকতে হবে সে কথাও বলেছে।
আমি- ও হ্যা আমাকে তারক বলেছিল, আমি সে তো দেরী আছে তারকের সামনের মাসে ট্রেনিং।
মা- দেরী কোথায় ১০ দিন আছে মাত্র।
আমি- তাতে কি বিকেলে যাবো আবার সকালে চলে আসবো সব সময় ওদের বাড়ি থাকবো নাকি। বাবা কই মা।
মা- ঘরে শোয়া শরীর ভালনা গরমে কষ্ট হয় আজ বিকেলে বের হয়নি তবে একটু বৃষ্টি হল আজ যদি ঘুমানো যায়।
এরমধ্যে পায়েলের ফোন মা ধরে কথা বলছে তারপর সুনলাম আমি এসেছি সেটাও বলল তারপর বলল দাড়া তোর বাবাকে দিচ্ছি বলে মা মোবাইল নিয়ে ঘরে চলে গেল।
আমি- জামা প্যান্ট ছেড়ে হাতমুখ ধুয়ে বসতে আমার ছাত্র এল ওদের নিয়ে পড়াতে বসলাম। বিকেলে একটা ব্যাচ আর সকালে একটা ব্যচ এছারা শনি রবি একটু বাড়ি গিয়ে পড়াই। যা আসে হাত খরচা চলে যায় বাবার কাছে হাত পাততে হয় না। বৃষ্টির জন্য দেরী হয়েগেছে পড়ানো শেষ করতে। পরানর ফাঁকে সীমা ফোন করেছিল ওকে আমি বললাম বাবা শরীর ভালনা কি জানি রাতে ফোন করতে পারি কিনা।
সীমা- আচ্ছা ফাঁকা হলে কর তোমার অপেক্ষায় থাকবো।
আমি- আচ্ছা এখন এখন রাখী কেমন। ছাত্র ছাত্রি বিদায় করতে সারে ৯ টা বেজে গেল।
মা- কিরে খাবি এখন।
আমি- না বাবাকে খেতে দাও আমি একটু বাইরে থেকে আসছি কথা বলে মোবাইল নিয়ে বাইরে গেলাম। সীমাকে ফোন করলাম বল কি করছ এখন।
সীমা- আর কি এই একটু গান শুনছিলাম।বল ফাঁকা হলে।
আমি- হুম ছাত্র ছেড়ে দিয়ে বাইরে এসেছি। তোমার সাথে কথা বলব বলে মা বাবাকে খেতে দিচ্ছে। তুমি খেয়েছ।
সীমা- না মা বাবা ঘরে এসেছে কাজ সেরে এবার খেতে যাবো।
আমি- পায়েল কে ফোন করেছিলে।
সীমা- আরে না ও আমাকে ফোন করেছিল।
আমি- কিছু জিজ্ঞেস করেছে নাকি।
সীমা- না কি আর জিজ্ঞেস করবে এমনি তুমি আমাকে পউছে দিয়েছে কিনা সেই কথা।
আমি- কি বললে
সীমা- হ্যা বলেছি কোলে করে পৌছে দিয়েছে।
আমি- সত্যি তাই বলেছ।
সীমা- হ্যা আমার বান্ধবী না মিথ্যে কেন বলব।
আমি- কিছু বলল নাকি।
সীমা- না শুধু বলল দাদা তোকে কোলে নিল বিশ্বাস হচ্ছেনা। বাড়িয়ে বলছিস, আমি বললাম যা সত্যি তাই বলেছি তোর বিশ্বাস হলে ভালো না হলে আর কি মাআআআমা না।
আমি- কি বলল
সীমা- আর কি বলবে তুই শুধু আমার দাদার সাথে ইয়ার্কি করিস। দাদা কিন্তু ভালো ছেলে রেগে যাবে কিন্তু।
আমি- হ্যা এবার তবে খেয়ে নিন আমিও যাই গিয়ে খাই।
সীমা- কি খাবে মায়ের দুধ।
আমি- না মনে মনে আমার মুখের কাছে যেটা তুমি রেখেছিলে সেটা খাবো।
সীমা- কাছে থাকতে খেতে পারনি দূরে বসে আর কি খাবে। পেটে এখন খিদে আছে ভাত খেয়ে নাও ও খাওয়ার সময় আছে। এই মা ঘরে ঢুকে গেছে রাখছি এখন পড়ে না কালকে কথা হবে আর বেশি ভেবে লাভ নেই আমি কিন্তু ভাগ্নি বুঝলে মাআআআমা।
আমি- হুম বুঝেছি খুব বুঝেছি, ভাগ্নী আমার ব্যান্ড বাজাবে।
এর মধ্যে মায়ের গলা কিরে কই গেলি ঘরে আয় খাবিনা।
আমি- এই মা ডাকছে গো।
সীমা- যাও মায়ের আদুরে ছেলে মায়ের কাছে যাও। আমি রাখি বলে নিজেই কেটে দিল।
আমি- ঘরে গেলাম মা টেবিলে বসে আছে আমার জন্য।