ক্ষমতার কফিন - অধ্যায় ১
১।
৫ আগস্ট, ২০২৪। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলেছে। কুমিল্লার মুনশীবাড়ির সুউচ্চ অট্টালিকার ড্রয়িংরুমে পিনপতন নীরবতা থাকার কথা ছিল না। এই সময়টায় সাধারণত নেতাকর্মীদের ভিড় থাকে, স্লোগান থাকে, আর থাকে ক্ষমতার দাপট। কিন্তু আজ সেখানে এক ভয়ংকর স্তব্ধতা। এয়ার কন্ডিশনারটা ১৮ ডিগ্রিতে চলছে, শোঁ শোঁ শব্দ করে ঠান্ডা বাতাস ছড়াচ্ছে, তবুও তাহসীন নাহার সূচনার শরীর বেয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছে।
সূচনার গায়ের রং ধবধবে ফর্সা, অনেকটা দুধ-আলতা মাখানো। কিন্তু উত্তেজনায়, আতঙ্কে সেই ফর্সা চামড়া এখন রক্তিম হয়ে উঠেছে। প্রায় ৩৭ বছর বয়সী সূচনার শরীরটা সাধারণের চেয়ে অনেকটাই ভারী। স্থূলতা তার পারিবারিক আভিজাত্যের অংশ হিসেবেই এতকাল বিবেচিত হতো। মেদবহুল, ভরাট শরীর নিয়ে তিনি যখন সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের চেয়ারে বসতেন, তখন সেটাকে ‘ক্ষমতার ওজন’ মনে করা হতো। কিন্তু আজ, এই ৫ আগস্টের বিকেলে, তার নিজের শরীরের এই বিপুল ওজন তাকে চেপে ধরছে। মনে হচ্ছে, তার নিজের মাংসপেশীগুলোই তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে।
সামনের বিশাল এলইডি টিভিটার দিকে তাকিয়ে সূচনার চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছিল। ব্রেকিং নিউজ চলছে। লাল কালিতে লেখা স্ক্রলগুলো আগুনের ফুলকির মতো দৌড়াচ্ছে—‘দেশ ছাড়লেন শেখ হাসিনা’, ‘গণভবনে জনতার ঢল’, ‘সেনাপ্রধানের জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ’।
সূচনার হাতে ধরা আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্সটা কাঁপছে। গত এক ঘণ্টা ধরে তিনি অনবরত ডায়াল করে যাচ্ছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হটলাইন—কেউ ফোন ধরছে না। বেশির ভাগ নম্বরই বন্ধ, আর যে দু-একটা খোলা আছে, সেগুলো রিং হয়ে কেটে যাচ্ছে। ওপাশের মানুষগুলো হয়তো এর মধ্যেই নিজেদের আড়াল করে ফেলেছে। ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে থাকা মানুষগুলো যে এত দ্রুত ভোজবাজির মতো মিলিয়ে যেতে পারে, তা সূচনার কল্পনাতেও ছিল না। “বাবা...” সূচনার গলা দিয়ে স্বর বের হতে চাইল না।
তাহসীন নাহার সূচনার বাবা, কুমিল্লার একসময়ের মুকুটহীন সম্রাট, প্রভাবশালী এমপি আ. ক. ম. বাহাউদ্দিন বাহার সোফায় বসে আছেন। তার চোখেমুখেও অবিশ্বাস। যে মানুষটার হুংকারে পুরো কুমিল্লা তটস্থ থাকত, আজ তাকে মনে হচ্ছে এক অসহায় বৃদ্ধ। তার মোবাইলটাও পাশে পড়ে আছে। তিনিও চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনা নেই। কোনো আশ্বাস নেই। সবাই যার যার প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত।
“সব শেষ, মা। সব শেষ,” বাহার সাহেবের গলার স্বর খাদে নামানো। তিনি টিভির স্ক্রিন থেকে চোখ সরাতে পারছেন না। হাজার হাজার মানুষ গণভবনের গেট ভেঙে ঢুকছে। লুটপাট চলছে। এই দৃশ্য দেখা মানে নিজেদের ভবিষৎ দেখা।
সূচনা ধপ করে পাশের সোফায় বসে পড়লেন। তার ভারী শরীরটা সোফার গদিতে দেবে গেল। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে তার। বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা এত জোরে লাফাচ্ছে যে মনে হচ্ছে পাঁজরের হাড় ভেঙে বেরিয়ে আসবে। “লন্ডনে রনিকে ফোন দিয়েছিলে?” বাহার সাহেব জিজ্ঞেস করলেন।
“দিয়েছিলাম,” সূচনার গলায় হতাশা। “রনি বলল ওখানকার টিভিতেও সব দেখাচ্ছে। ও পাগলের মতো করছে। বলছে আমাদের এখনই বের হয়ে যেতে। এয়ারপোর্টে যেতে বলল।”
“এয়ারপোর্ট!” বাহার সাহেব বিদ্রূপের হাসি হাসলেন। “এয়ারপোর্ট এখন মৃত্যুফাঁদ। শাহজালাল এখন জনতার দখলে চলে যাবে। রাস্তাঘাটে ব্যারিকেড। আমাদের মতো হাই প্রোফাইল মানুষ রাস্তায় নামলে গণপিটুনিতে মরতে হবে। রনি লন্ডনে বসে পরিস্থিতি বুঝবে না।”
সূচনার স্বামী সাইফুল আলম রনি লন্ডনে। নিরাপদ দূরত্বে। কিন্তু সূচনা এখানে আটকা। তার মা, তার বাবা—সবাই আটকা। কুমিল্লার রাজপথ, যা একসময় তাদের ইশারায় চলত, আজ সেই রাজপথেই হয়তো তাদের রক্ত চাইছে হাজারো মানুষ।
বাইরে থেকে একটা অস্পষ্ট শব্দ ভেসে এল। স্লোগান। অনেক দূর থেকে, কিন্তু বাতাসের ঝাপটায় সেটা এগিয়ে আসছে। “ওরা কি এদিকে আসছে?” সূচনার মা আতঙ্কিত গলায় জিজ্ঞেস করলেন।
সূচনা জানালার ভারী পর্দা সামান্য সরিয়ে উঁকি দিলেন। মুনশীবাড়ির গেটের বাইরে দারোয়ানরা অস্থির হয়ে হাঁটাহাঁটি করছে। দূরের রাস্তায় কালো ধোঁয়া উড়ছে। হয়তো তাদের কোনো পার্টি অফিস বা তোরণ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূচনার শরীরটা অবশ হয়ে আসছে। তার মনে পড়ল গত কয়েক বছরের কথা। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হওয়ার পর কত দাপট ছিল তার। কুমিল্লার প্রথম নারী মেয়র। বাবার ছায়ায় থেকে তিনি এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। তার এই স্থূল শরীর, বিলাসিতা, দামি শাড়ি, গহনা—সবই ছিল আলোচনার বিষয়। আজ সেই শরীরটাই তার সবচেয়ে বড় শত্রু। যদি দৌড়াতে হয়? যদি পাঁচিল টপকাতে হয়? সূচনা জানেন, তিনি পারবেন না। তার এই মেদবহুল শরীর নিয়ে তিনি দশ কদম দৌড়ালেই হাঁপিয়ে যাবেন। তার হাঁটুর জয়েন্টগুলো এখনই ব্যথায় টনটন করছে।
“হাইকমান্ডের কেউ কি ফোন ব্যাক করেছে?” সূচনা আবার বাবাকে জিজ্ঞেস করলেন। “না। কেউ না। সব ইঁদুরের মতো গর্তে ঢুকেছে,” বাহার সাহেব রাগে ফোনটা ছুঁড়ে মারলেন সোফার ওপর। “আমরা একা, সূচনা। একদম একা। হাসিনা আপা চলে গেছেন মানে আমাদের মাথার ওপর আর কোনো ছাদ নেই।”
সন্ধ্যার অন্ধকার নামার সাথে সাথে আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হলো। টিভির খবরে দেখাচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রীর বাড়িতে আগুন, ভাঙচুর। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে আগুন জ্বলছে। এই আগুনের লেলিহান শিখা যে কুমিল্লার দিকেও ধেয়ে আসছে, তা বুঝতে আর বাকি নেই।
ইতোমধ্যেই খবর আসতে শুরু করেছে, কুমিল্লা টাউন হলের সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে। তারা ‘বাহার হটাও’ স্লোগান দিচ্ছে। তাদের পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে।
সূচনার মনে হলো তিনি দম নিতে পারছেন না। তার ফর্সা মুখটা ঘামে ভিজে তেলতেলে হয়ে গেছে। গলার কাছে একটা দলা পাকানো কান্না আটকে আছে। তিনি ভাবলেন, এই বিলাসবহুল জীবন, এসি রুম, দামি গাড়ি—সবই এখন অর্থহীন। এখন শুধু বেঁচে থাকাটাই একমাত্র লক্ষ্য। “আমাদের পালাতে হবে, বাবা। আজ রাতেই,” সূচনা বললেন।
“কোথায় যাবি? রাস্তাঘাট সব বন্ধ,” বাহার সাহেব ক্লান্ত গলায় বললেন।
“ভারতে। বর্ডার ক্রস করতে হবে।”
“বর্ডার?” বাহার সাহেব মেয়ের দিকে তাকালেন। “তুই পারবি? তোর যা শরীর, পাহাড়ি রাস্তা বা কাদা-পানির পথ তুই হাঁটবি কী করে? আর বর্ডারেও তো কড়াকড়ি হবে।”
সূচনা নিজের শরীরের দিকে তাকালেন। তার পেট, কোমর, বাহু—সর্বত্র চর্বির আস্তরণ। সামান্য হাঁটলেই তিনি ঘেমে নেয়ে যান। কিন্তু বেঁচে থাকার তাগিদ মানুষকে অসাধ্য সাধন করায়। “পারতে হবে, বাবা। এখানে থাকলে ওরা আমাদের মেরে ফেলবে। ওরা আমাদের টুকরো টুকরো করে ফেলবে।”
রাত গভীর হলো। মুনশীবাড়ির ভেতরের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে বাইরে থেকে মনে হয় কেউ নেই। কিন্তু ভেতরে কেউ ঘুমায়নি। সূচনা তার বিশ্বস্ত কয়েকজন কর্মীকে ফোন করার চেষ্টা করলেন। বেশির ভাগই ফোন বন্ধ করে রেখেছে। যারা ধরেছে, তারা আমতা আমতা করছে। কেউ ঝুঁকি নিতে চায় না। ক্ষমতার পালাবদল মানেই আনুগত্যের পালাবদল। তবে একজন ফোন ধরল। আজিজ মিয়া।
কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকার চোরাচালান সিন্ডিকেটের এক পুরনো সর্দার। রাজনীতির ময়দানে আজিজ মিয়ার কোনো পদ-পদবী নেই, কিন্তু সীমান্তের অন্ধকারের খবরে সে একাই একশো। বাহার সাহেবের আমলেই আজিজ মিয়ার বাড়বাড়ন্ত হয়েছিল, তাই কিছুটা কৃতজ্ঞতা হয়তো এখনো অবশিষ্ট আছে। অথবা টাকার লোভ।
সূচনা কাঁপা কাঁপা হাতে আজিজ মিয়ার নম্বরে ডায়াল করলেন। স্পিকারে দিলেন যাতে বাবাও শুনতে পারেন। “হ্যালো, আজিজ কাকা?” ওপাশ থেকে খসখসে, পান খাওয়া গলা ভেসে এল, “কে? সূচনা মা?”
“হ্যাঁ কাকা। আমাদের অবস্থা তো জানো।”
“জানি মা। টিভিতে সব দেখতাছি। বড় বিপদ। বড় তুফান আইতাছে।”
“আমাদের বের করে দিতে হবে। ভারত বর্ডারে। যেভাবেই হোক।”
আজিজ মিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। সেই নীরবতা সূচনার বুকের ধড়ফড়ানি বাড়িয়ে দিল। “কাজটা কঠিন মা। বিজিবি অ্যালার্ট হইছে। ইন্ডিয়ান বিএসএফ-ও কড়া পাহারা দিতাছে। তার ওপর পাবলিক ক্ষেইপা আছে। রাস্তায় রাস্তায় চেকপোস্ট বসাইছে ছাত্ররা।”
“টাকা নিয়ে চিন্তা করো না, কাকা। যা চাও দেব। আমাদের শুধু ওপারে পৌঁছে দাও।”
“টাকার কথা পরে মা। আগে জান বাঁচান ফরজ। কিন্তু সমস্যা হইলো, মেইন রোডে যাওয়া যাইবো না। গ্রামের ভেতর দিয়া, ক্ষেতের আইল দিয়া, কাদা ভাইঙা যাইতে হইবো। বড় সাব (বাহার সাহেব) হয়তো পারবো, কিন্তু তুমি... মা, বেয়াদবি নিও না, তোমার যা শরীর, তুমি কি ওই পথ হাঁটতে পারবা? বাইক বা গাড়ি কিন্তু বর্ডার পর্যন্ত যাইবো না। শেষ দুই-তিন মাইল হাঁটন লাগবো।”
সূচনার কপালে চিন্তার ভাঁজ। দুই-তিন মাইল! তার জন্য দুইশ গজ হাঁটাই কষ্টকর। তার ওপর কাদা, অন্ধকার, ভয়। কিন্তু চোখের সামনে ভেসে উঠল গণভবনের সেই দৃশ্য। বিক্ষুব্ধ জনতার রোষ।
“আমি পারব কাকা। জান বাঁচানোর জন্য আমি সব পারব। তুমি শুধু ব্যবস্থা করো।”
“শোনো মা,” আজিজ মিয়ার গলাটা এবার ব্যবসায়িক শোনাল, “এখনই বের হইয়ো না। আজ রাইতে খুব গরম অবস্থা। পাবলিক রাস্তায় রাস্তায় আগুন জ্বালাইছে। তোমরা দুই-এক দিন শহরের ভেতরেই কোনো সেফ হাউসে লুকাইয়া থাকো। আমি লাইন ক্লিয়ার করি। আমার লোক সেট করতে হইবো। ইন্ডিয়ার ওইপারেও লোক ঠিক করতে হইবো। বক্সনগরের রাস্তাটা আমি দেখতাছি।”
“কত দিন লাগবে?” বাহার সাহেব পাশ থেকে জিজ্ঞেস করলেন।
“মিনিমাম তিন-চার দিন, বড় সাব। এর আগে বের হইলে মরা ছাড়া উপায় নাই। আমি সিগন্যাল দিলে তবেই মুভ করবেন। আর হ্যাঁ, সাথে বেশি কিছু লইয়েন না। শুধু ক্যাশ টাকা আর গোল্ড। ভারী লাগেজ লইলে ধরা খাইবেন।”
ফোনটা কেটে গেল। রুলার কোস্টারের মতো একটা দিন শেষে এইটুকু অনিশ্চিত আশাই এখন তাদের সম্বল। সূচনা সোফায় হেলান দিলেন। তার বিশাল শরীরের ভারে সোফাটা মচমচ করে উঠল। তিনি ভাবলেন, কাল সকালেই হয়তো এই বাড়িটা আর তাদের থাকবে না। এই শানশওকত, এই আভিজাত্য—সব পড়ে থাকবে। তাকে পালাতে হবে চোরের মতো, অন্ধকারের পথ ধরে।
সূচনার মনে পড়ল তার আলমারিতে রাখা শ’খানেক দামী শাড়ি, হীরের গয়না, আর ব্র্যান্ডের পারফিউমের কালেকশনের কথা। লন্ডন থেকে রনি তার জন্য কত প্রসাধনী পাঠাত। তার ড্রেসিং টেবিলটা একটা ছোটখাটো বিউটি পার্লার। কিন্তু আজিজ মিয়া বলে দিয়েছে—কিছু নেওয়া যাবে না।শুধুই টাকা আর সোনা।
জীবনের এই পর্যায়ে এসে মানুষের পরিচয় আর প্রয়োজন কত ছোট হয়ে যায়। মেয়র, এমপিকন্যা, ডাক্তার—সব পরিচয় মুছে গিয়ে এখন তার পরিচয় শুধু ‘পলাতক’।
সূচনার খিদে পেয়েছে। টেনশনে তার খুব খিদে পায়। কিন্তু গলায় খাবার নামছে না। তিনি উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেন। পায়ের গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা। শরীরের অতিরিক্ত ওজন তার হাড়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। “মা, একটু পানি দাও,” সূচনা ফিসফিস করে বললেন।
তার মা, যিনি এতক্ষণ পাথরের মতো বসে ছিলেন, তিনি গ্লাস বাড়িয়ে দিলেন। পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে সূচনার হাত কাঁপছে। পানি ছলকে পড়ল তার দামী শাড়িতে।তিনি জানতেন না, এই কাঁপুনি কেবল শুরু। সামনের দিনগুলোতে তাকে এমন সব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, যা তার বিলাসী জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দুঃস্বপ্নেও ছিল না।
বাবা-মেয়ে মুখোমুখি বসে রইলেন অন্ধকারে। বাইরের আকাশে তখন নতুন বাংলাদেশের বিজয়ের উল্লাস, আর এই ঘরের ভেতরে এক প্রতাপশালী পরিবারের পতনের দীর্ঘশ্বাস। আজিজ মিয়ার ফোনের অপেক্ষায় শুরু হলো তাদের অনিশ্চিত যাত্রার কাউন্টডাউন।