মা ও ছেলের গল্প - অধ্যায় ১৫
( পর্ব - 21 ) p {
} বাথরুমের দরজাটা খট করে খুলতেই রাবেয়া বেগম বাইরে পা রাখলেন। আবছা আলোয় দরজার ঠিক সামনে আসিফকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেন। মাঝরাতের নিস্তব্ধতায় ভেতরের শব্দ বাইরে গেছে কিনা, এই চিন্তায় লজ্জায় তাঁর মুখটা লাল হয়ে উঠল।
p {
} নিজের এই চরম লজ্জা আর অস্বস্তি ঢাকতে রাবেয়া বেগম তাঁর চিরচেনা অস্ত্রটি বেছে নিলেন। তিনি তক্ষুণি চোখ-মুখ শক্ত করে রাগী গলায় আসিফকে ধমক দিয়ে উঠলেন, "কী রে আসিফ! তোর কি কোনো সভ্যতাবোধ নেই? মাঝরাতে এভাবে চোরের মতো দরজার সামনে কান পেতে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? বড় হয়েছিস, কিন্তু এখনো আক্কেল-জ্ঞান হলো না!"
p {
} মায়ের এই আকস্মিক চড়া গলা আর তীব্র ধমক শুনে আসিফ একটুও বিরক্ত হলো না। সে খুব ভালো করেই চেনে তার এই রাগী মাকে। সে জানে, মা আসলে রেগে যাননি, বরং নিজের ভেতরের লজ্জাটা লুকাতেই এই চড়া সুর ধরেছেন।
p {
} আসিফ দুই হাত তুলে শান্ত গলায় বলল, "আরে মা, শান্ত হও। আমি কোনো চোরের মতো দাঁড়াইনি। আমার প্রচণ্ড পেশাবের চাপ পেয়েছে, এসে দেখি তুমি ভেতরে। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম। তুমি শুধু শুধু আমার ওপর রাগ করছ।"
p {
} ছেলের এই সরল আর শান্ত যুক্তি শুনে রাবেয়া বেগমের রাগের বেলুনটা এক মুহূর্তে ফুস করে নিভে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন যে তিনি লজ্জার চোটে একটু বেশিই চেঁচামেচি করে ফেলেছেন। তিনি আর কোনো কথা না বাড়িয়ে, মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দ্রুত পায়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন। তবে যাওয়ার আগে মনে মনে ছেলের এই অসীম ধৈর্যের কথা ভেবে আবারও এক অদ্ভুত মায়ায় তাঁর মনটা ভরে গেল।
p {
} মা নিজের রুমে চলে যাওয়ার পর আসিফ বাথরুমে ঢুকে দ্রুত নিজের প্রয়োজন সারল। এরপর হাত-মুখ ধুয়ে সে যখন নিজের ঘরে ফিরে এলো, তখন তার মনটা মায়ের ওই মিষ্টি ধমকের কথা ভেবে আনন্দে ভরে ছিল। সে মনে মনে হাসল আর ভাবল—মা ৪৫ বছর বয়সে এসেও ঠিক আগের মতোই সরল আর অভিমানী আছেন। আসিফ বিছানায় শুয়ে কম্বলটা গায়ে জড়িয়ে নিল এবং জানালার বাইরে তাকিয়ে বৃষ্টির মৃদু শব্দ শুনতে শুনতে আবার গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।
p {
} ওদিকে নিজের রুমে গিয়ে রাবেয়া বেগম বিছানায় শুয়েও কিছুক্ষণ ছটফট করলেন। লজ্জায় তাঁর কান-মাথা তখনো গরম হয়ে ছিল। তিনি ভাবলেন, "ছেলেটাকে শুধু শুধু মাঝরাতে অত কড়া করে বকে দিলাম! ও তো কেবল বাথরুমে যাওয়ার জন্যই অপেক্ষা করছিল।" নিজের আচরণের জন্য মনে মনে একটু লজ্জিত হলেও, ছেলের ওই শান্ত ও বুঝদার মুখের কথা মনে করে তাঁর ঠোঁটের কোণে একটি মায়াবী হাসি ফুটে উঠল। তিনি পরম শান্তিতে চোখ বুজলেন।
p {
} আসিফ ও রাবেয়া বেগমের পরদিন সকালের কাহিনী কি হবে ?