মা ও ছেলের গল্প - অধ্যায় ৬

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-73998-post-6234380.html#pid6234380

🕰️ Posted on Mon Jun 08 2026 by ✍️ emon295 (Profile)

🏷️ Tags:
📖 374 words / 2 min read

Parent
[ পর্ব  - 9 ] #########################################বিকেলের নরম আলোয় মা আর ছেলে পার্কের লেকপাড়ের একটি নিরিবিলি বেঞ্চে গিয়ে বসল। বৃষ্টির পরের ভেজা বাতাস আর গাছের পাতার খসখস শব্দে চারপাশটা বেশ শান্ত লাগছিল। রাবেয়া বেগম অনেকদিন পর এমন খোলামেলা পরিবেশে এসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তাঁর চোখের দৃষ্টি লেকের শান্ত জলের দিকে স্থির হয়ে রইল।আসিফ মায়ের মুখের দিকে তাকাল। মায়ের কপালে জমে থাকা বয়সের রেখা আর চুলে ধরে যাওয়া পাক দেখে তার বুকটা এক অজানা যন্ত্রণায় মোচড় দিয়ে উঠল। সে আলতো করে মায়ের একটা হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিল।আসিফ শান্ত গলায় বলল, "মা, তোমার কি আব্বুর কথা খুব মনে পড়ে?"  #########################################হঠাৎ এই প্রশ্নে রাবেয়া বেগম একটু চমকে উঠলেন। তারপর লেকের জলের দিকে তাকিয়েই মৃদু হেসে বললেন, "তোর আব্বু যখন চলে গেল, তখন আমার বয়স মাত্র পঁচিশ। চারদিকের মানুষ কত কথা বলেছিল, কতজন তো আবার বিয়ের পরামর্শও দিয়েছিল। কিন্তু আমি শুধু তোর মুখের দিকে তাকিয়ে সব ঝড়ঝাপটা একাই সামলেছি। ভয় হতো, আমি যদি শক্ত না হই, আমার শান্ত ছেলেটাকে কে আগলে রাখবে? সেই থেকে এই রাগটাই আমার ঢাল হয়ে গেছে রে আসিফ। রাগ না দেখালে একা একটা মেয়েকে এই সমাজ বাঁচতে দিত না।"মায়ের চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। পঁচিশ বছর ধরে বুকের ভেতর চেপে রাখা একাকীত্ব আর লড়াইয়ের গল্প আজ যেন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে এলো।  #########################################আসিফ মায়ের চোখের জলটা নিজের আঙুল দিয়ে মুছে দিল। মায়ের হাতটা আরও শক্ত করে ধরে বলল, "আমি জানি মা। তুমি কতটা কষ্ট করে আমাকে বড় করেছ, তা আমি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি। তোমার এই রাগের পেছনে যে কতটা ভালোবাসা আর ত্যাগ লুকিয়ে আছে, সেটা আমি খুব ভালো করেই বুঝি। তুমি শুধু আমার মা নও, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় হিরো।"মায়ের হাত জড়িয়ে ধরে আসিফ আবার বলল, "এখন তো আমি বড় হয়েছি মা। এখন আর তোমাকে একাই সব ঝড় সামলাতে হবে না। তোমার এই ছেলে সবসময় তোমার পাশে থাকবে। তুমি চাইলে এখন প্রাণখুলে হাসতে পারো, রাগ করতে পারো, যা ইচ্ছে করতে পারো। তোমার সব আবদার পূরণ করার দায়িত্ব এখন আমার।"ছেলের এই পরিপক্ব আর গভীর ভালোবাসাময় কথাগুলো শুনে রাবেয়া বেগমের বুকটা এক অদ্ভুত শান্তিতে ভরে গেল। ৪৫ বছর বয়সী রাগী মায়ের সব জীবনের ক্লান্তি যেন ২৭ বছরের শান্ত ছেলের বুকে মাথা রেখে নিমেষেই দূর হয়ে গেল। লেকপাড়ে বসে থাকা এই মা-ছেলের চারপাশটা তখন এক অপার্থিব ভালোবাসার চাদরে ঢাকা পড়ে রইল। #########################################পার্ক থেকে ফেরার পথে আসিফ কি রাবেয়া বেগমের জন্য কোনো উপহার কিনবে ?
Parent