মা শুধু আমার - অধ্যায় ৬১
বাবা- ভেতরে ঢুকে বলল তোর মা কই।
আমি- বললাম মা রান্না ঘরে খাবার বানাছিল তো। তুমি বস আমি দেখছি বলে আমি রান্না ঘরে গেলাম। দেখি মা বেসিনে মুখ ধুচ্ছে। আমার দিকে একটু রাগের চোখে তাকাল। আমি ভয় পেয়ে গেলাম তবে কি মা রাগ করল। চুপচাপ দাড়িয়ে রইলাম।
মা- বলল তোমার বাবাকে হাত মুখ ধুতে বল আমি খেতে দিচ্ছি আর ওই থালাটা নিয়ে আসো, কিছু বোঝনা তুমি।
আমি- সোজা ফিরে গেলাম আর বললাম বাবা মায়ের রুটী হয়ে গেছে তুমি যাও বাথরুমে যাও হাত মুখ ধুয়ে এস মা খাবার আনছে। বাবা জামা খুলে রাখছে দেখে আমি ফাকে থালা নিয়ে চলে গেলাম।
মা- যে রেগে আছে সেটা আমি পুরা বুঝতে পারছি তাই আর মাকে ঘাটালাম না।
আমি- ওই সিঙ্কে কলে মুখ ধুয়ে চলে এলাম ডাইনিং টেবিলে।
বাবা- কই দিতে বল।
আমি- দাড়াও মা ডিম অমলেট করছে নিয়ে আসছে রুটি আর অমলেট হবে বুঝলে।
বাবা- ঠিক আছে রাতে অল্প খাওয়া ভালো বলে, বলল তোরা একটু আগে আসলে আমার একটু খেলা হত, ফালতু গিয়ে আমার খরচা হয়ে গেল সবাইকে চা খাওয়াতে হল।
আমি- তাতে কি হয়েছে ভালো হয়েছে প্রতিদিন তাস খেলেবেনা, দোকান করব আমার সাথে থাকবে তুমি।
মা- খাবারের থালা নিয়ে এসে কি হলনা খেলা আমি তো ভেবেছিলাম না খেলে আসবেনা, তারজন্য ডিম অমলেট করিনি আগেই যাক আজকে আগে এসেছ।
বাবা- তম্রাই তো সবা মাটি করে দিয়েছ। দাও খেয়ে শুয়ে পরি দুপুরে ঘুম হয়নি আমার।
মা- এই নাও কম কম খাবে সুগার তো অনেক বেশী তারপর বিড়ি তো খাওয়া চলে তাইনা, তোমার কাছে আমার আর শুতে ইচ্ছে করেনা এত গন্ধ আসে। বিড়ি আর খাবেনা। এই তুই তোর বাবাকে বল ওর তো বাচার ইচ্ছে নেই।
আমি- রুটী খেতে খেতে বললাম হ্যা বাবা ঐটা ছেরে দাও, চা খাচ্ছ খাও তাও চিনি ছাড়া খাবে। একটু কন্ট্রল করলে সব ঠিক হয়ে যাবে তোমার।
বাবা- নারে বাবা ভেতরে সব শেষ হয়ে গেছে আমার আর কিছু ঠিক হবেনা তুই তোর মাকে দেখিস আমি আর কয়দিন জানিনা।
মা- দেখলি কি বলল এইরকম কথা বললে কার ভালো লাগে। কোন কথা আমার শোনেনা। একদিন রাতে একটু বাজে কথা বলেছিলাম বলে তারপর থেকে আর নিজেকে কন্ট্রোল করেনা একদম। আমিও তো মানুষ আমি ভুল দেখলে বলব না।
বাবা- বলল না না আসলে আমার এখন ক্ষমতা নেই ওই কি বলে যেন সেই পাওয়ার নেই বুঝলি, সুগারে সব খোক্লা হয়ে গেছে। তোমার কি দোষ সব আমার দোষ, আমি রাগ করি নাই গো, তুমি হয়ত ভাবছ কিন্তু আমি তো জানি আমি এখন কিছুই পারিনা।
আমি- বাবা থাক তোমার কিছু করতে হবেনা যেমন তুমি ভালো থাকো তেমন থাকবে আমি সব দ্যাখ এবং করব, দোকান আমি একাই চালাবো। তোমার আর কিছু করতে হবেনা ফুরতি করে যাও তো তুমি, মা বাবাকে কিছু বলবে না আর।
মা- আমার কি তোমার বাবা তুমি বোঝ সুস্থ করবে না এই ভাবে থাকবে।
আমি- আরে হবে মা বাবাকে সময় মতন খেতে হবে ডাক্তারের কথা মত চললেই বাবা ঠিক হয়ে যাবে মনের জোর বারলেই সবা হবে।
মা- তাই দ্যাখ ওনার তো আমাদের চিন্তা নেই কিন্তু আমাদের ওনার চিন্তা আছে।
আমি- মা ভেবনা বাবাও ঠিক হয়ে যাবে দেখি খোজ নিয়ে ভালো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো দুই এক দিনের মধ্যে।
মা- বলল রিম্পার বর জানে ভালো ডাক্তার কোথায় ওর কাছ থেকে খোজ নিও। দরকার হলে কালকে চলো যাই ওর বাড়ি।
আমি- তুমি যাবে তবে কালকে সকালেই চলো। ওর স্কুটি দিয়ে আমি একটা বাইক কিনে নিয়ে আসবো।
বাবা- বলল বেকার সব করবে তোমরা, আমি তো জানি আমার কি অবস্থা, দুইবার তো ট্যাবলেট খাই আমি।
মা- তুমি চুপ কর আমার সাথে পারলেও ছেলের সাথে পারবেনা কি বল বাবা।
আমি- মায়ের এই ডাক শুনে একটু সস্থি পেলাম যাক, তাই বল্লমা না তোমাকে ভালো ডাক্তার দেখাতে হবে বাবা।
বাবা- বলল দ্যাখ তোমরা মা ছেলে যা করবে আমি আছি তোমাদের সাথে। তোমাদের আমি বাঁধা দেব না।
মা- তাই যেন মনে থেকে, আমাদের মা ছেলের ডিসিশন তোমার মানতে হবে।
বাবা- উঠে যা করার কর দেখি বাপু আমি না করেছি আমার খাওয়া হয়ে গেছে তোমরা হয়ে গেল উঠে পর। আমি গেলাম ঘরে।
মা- আমার দিকে তাকিয়ে দেখলি কেমন পালিয়ে যায় ডাক্তার মোটে দেখাবেনা, ধরা পরে যাবে তাই এবার তুই বোঝ আমি কি করে আছি কোন কথা আমার শোনে না।
আমি- মা বাদ দাও আমি দেখবো বাবার সমস্যা ভাবছ কেন তুমি। নাও চলো এবার তোমাকে সাহায্য করি সব ধুয়ে রাখতে হবে তো।
মা- তোমার দরকার নেই আমি একা পারবো, পরে বলবে ছেলেকে দিয়ে সব করায় তুমি বস এখানে।
আমি- কেন মা আমি তোমার সাথে যেতে পারিনা অমন কেন করছ তুমি চলো যাই।
মা- না লাগবেনা বললাম না।
আমি- মায়ের কথা না শুনে মায়ের সাথে চলে গেলাম। গিয়ে বললাম মা রাগ করেছ।
মা- আমার দিকে রাগে বলল বারন করেছিলাম না কি হত ওইভাবে দেখলে তুমি কিছু বোঝ। দরজায় তালা দেওয়া ছিল না।
আমি- যাক ভুল হয়ে গেছে আর হবেনা মা এবারের মতন মাপ করে দাও। তোমার পায়ে পরি মা।
মা- একগাল হেঁসে দিয়ে দরকার নেই সরে দাড়াও আমি বাসন মেজে নেই।
আমি- না তুমি বস আমি মেজে দিচ্ছি বলে নিজেই মায়ের হাত থেকে নিয়ে বাসন মাজতে লাগলাম। মাকে বললাম তুমি চেয়ারে বস এখন। এই বলে একে একে সব বাসন মেজে ধুয়ে নিলাম। আর মাকে বললাম হয়ে গেছে মা।
মা- আচ্ছা যাও এবার গিয়ে শুয়ে পর সকালে উঠে একটু খেতে যাবে আমার সাথে সবজি তুলবো।
আমি- আচ্ছা মা আমাকে ডাক দিও তুমি। তোমাকে পরাবো কত আশা করে কিনলাম কিন্তু হলনা। দেখেছ সেই সিম কার্ড কেনা হয়নি। কালকে তোমার জন্য নাইটি, সিম কার্ড আর বাইক কিনবো।
মা- না এবার যাও শুতে যাও না দাড়াও আমি বিছানা ঠিক করে দেই চলো। চলো বলে আমার সাথে আমার রুমে এল। মা বিছানা ঝেড়ে দিয়ে চাদর পালটে বলল এবার ঘুমাও গুডনাইট জ্বেলে দিলাম। দরজা তুমি আটকাবে না টেনে দিয়ে যাবো।
আমি- বললাম ৬ বছর একা একা থেকেছি তুমি ভাবছ আমি পারিনা তাই না। তুমি টেনে দিয়ে যাও সকালে ডাকবে আমাকে। আর না হলে আমার কাছে শুয়ে পর তুমি।
মা- না আজনা পরে ঘুমাবো, এমনিতেই তো সারাদিন মায়ে সাথে থাকো আবার রাতে ঘুমানো লাগবে। তোমার একা ঘুমানো অভ্যেস আছে তো। নাও আর কথা বলেনা তোমার বাবা কখন চলে গেছে আমিও যাই।
আমি- আচ্ছা যাও তবে মা একটা উম দেবে আমাকে।
মা- আবার অত সময় তো দিলাম। এই বলে কাছে এসে কপালে একটা চুমু দিয়ে পালানর চেষ্টা করল।
আমি- মায়ের হাত ধরে টেনে নিলাম আমার কাছে।
মা- এই না কি করছ তুমি দরজা সব খোলা ছাড় আমাকে যাই আমি।
আমি- মায়ের ঠোঁটে একটা আঙ্গুল দিয়ে এখানে দিয়ে তারপর যাও।
মা- একবার দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে নিয়ে সোজা ঠোটে চুমু দিল আর উঠে ছুটে গেল দরজার কাছে। আর দরজা টেনে দিয়ে চলে গেল।