মা শুধু আমার - অধ্যায় ৬৩
আমি- এবার বললাম ঠাকুমা ঠিক বলেছে, তোমার মধ্যে জাদু আছে, যেমন দুটো ছেলে মেয়ে হয়েছে তোমার, তেমন ফসল হচ্ছে তোমার মিথ্যে বলেনি ঠাকুমা। এই বলে আমি মায়ের সেই ফাঁকা জায়গায় গামছা পেতে শুয়ে পড়লাম, মা দারুন জায়গা ফাঁকা রেখেছ তুমি, ওমা তুমি নিয়ে আসো আমি শুয়ে পড়লাম এখানে।
মা- বলল খালি জায়গায় শুয়ে পড়লি নাকি।
আমি- না না গামছা পেতে শুয়েছি মাদুর বা বস্তা পাতা হলে ভালো হত। এমনিতে পরিস্কার আছে পাতা নেই ঝার দেওয়া আছে তো।
মা- আচ্ছা বলে লাউ শাক, বেগুন আর ভেন্ডি নিয়ে এল ঝুরি করে। আর বলল দ্যাখ কত এনেছি তোর বাবা তো এখনো এল না।
আমি- মা কারেন্ট চলে গেলে এখানে এসে শোয়া যাবে কি বল। যা গরম পরা শুরু করেছে।
মা- বলল পারবি না যা মশা এখানে জঙ্গল না, শান্তি বেড়িয়ে যাবে।
আমি- মশার ধুপ জালিয়েও শোয়া যাবে তুমি কি যে বল। এখন আগের মতন লোডশেডিং হয় মা।
মা- হয়না আবার মাঝে মাঝেই হয়।
বাবা- এসে ডাক দিল কই গো কোথায় গেলে এই নাও বাজার এনেছি।
মা- ডেকে বলল এখানে আসো দ্যাখ কেমন ফসল হয়েছে।
বাবা- এসে ওঁ অনেক কিছু তুলেছ তো, আরে বাবা তুই শুয়ে আছিস এই মাটিতে।
আমি- বললাম না বাবা খুব ঠান্ডা এখানে একটা বস্তা বা মাদুর এনে গরমের সময় এখানে শোয়া যাবে। গাছের ছায়া আছে।
মা- বলল কি মাছ এনেছ দেখি।
বাবা- মায়ের হাতে দিয়ে তুমি যা বলেছ তাই এনেছি, এই নাও আমি বের হবো।
মা- বলল তাড়াতাড়ি এস আমি আর বাবু যাবো রিম্পার বাড়ি ১১ টার মধ্যে আসবে কিন্তু। নাকি আমরা তালা দিয়ে তোমার কাছে চাবি দিয়ে আসবো পরে এসে খেয়ে নেবে।
বাবা- না না আমি চলে আসবো লাগবেনা।
মা- চল বাবা রান্না করে নেই তারপর খেয়ে আমরা চলে যাবো রিম্পার বাড়ি।
আমি ওঁ মা দুজনে ঘরে গেলাম এবং মাকে শাজ্য করতে লাগলাম তরকারী কেটে দেওয়া মাছ ধুয়ে দেওয়া, চিংড়ি মাছ ছারিয়েও দিলাম। পাশ্র ঘরের এক কাকিমা এসেছিল তার সাথে কতাহ বলতে বলতে মাকে সব করে দিলাম।
কাকিমা- তোমার ছেলে বিদেশ থেকে এসে তো একদম মায়ের ভক্ত হয়ে গেছে যাক এমন ছেলে তুমি পেয়েছ আর আমাদের ছেলে কিছুই করেনা খায় আর ঘুরে বেড়ায়।
আমি- মনে মনে বললাম, ছেলেক দাও দেখবে কাছে থাকবে ভালোই তো গতর আছে, একটু দিলেই তো মায়ের দাস হয়ে থাকবে, সে দেবেনা ছেলে সব করে দেবে তাই না।
কাকিমা- কিরে বাবা ওর সাথে দেখা হয়েছে তোর।
আমি- হ্যা কাকিমা যেদিন এসেছি সেদিন দেখা হয়েছে, চাকরি খুজছে তো, না পেলে কি করবে।
কাকিমা- তুই পারিস নাকি দেখত বিদেশ পাঠাতে। আমি বলব ওকে তোর সাথে কথা বলতে।
আমি-আ চ্ছা কাকিমা।
মা- রানানার ফাকে ফ্রিজ থেকে মিষ্টি দিল।
কাকিমা- না যাই তোমাদের তো রান্না হয়ে গেল আমি গিয়ে রান্না করব, যাই এখন, তোমার ছেলে এসেছে শুনে এলাম।
মা- আচ্ছা দিদি আবার আসবেন।
কাকিমা- যেতে যেতে বলল তুই বাবা যাস আমাদের বাড়ি।
আমি- হুম যাবো পরে একদিন সবে তো এলাম, বোনের বাড়ি যাবো ফিরে এসে চেষ্টা করব।
মা- বলল এসেছে ফাও পেচাল পারতে, এতদিনে একবার আসেনি ওনার ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে দাও তাই না। কিছুর দরকার নেই। দেখেছিস কেমন হিংসে করে। আমার ছেলের প্রতি সবার নজর একদম ভালো লাগেনা আমার, এতদিন একা একা থাকতাম কেউ আসত না আর এখন আমার ছেলে এসেছে বলে একে একে আসবে। আমাদের একটু একা থাকতে দেবেনা।
আমি- মা রেগে গেলে হবেনা সবে তো তিনদিন হল এসেছি আর কয়েকদিন যাক তারপর দেখবে সবাই ভুলে যাবে।
মা- হ্যা তোর ছোট মামা ফোন করেছিল আসবে বলেছে এমনিতে অনেকদিন আসেনা গত পুজায় আমরা গেছিলাম তারপর আর আসেনি।
আমি- কবে আসবে বলেছে মা।
মা- আর বলিস না আজকেই আসবে তবে বলেছে থাকবে না তোর সাথে দেখা করে চলে যাবে। রওয়ানা দিলেও আস্তে ১/২ টা বেজে যাবে তার আগে আমরা চলে যাবো তোর বোনের বাড়ি। রান্না পার্যা হয়ে গেল।
আমি- মা তবে আমি ঘর মুছে দেই তুমি রান্না শেষ কর।
মা- না না তোমার কষ্ট হয়ে যায় আমি করে নেব।
আমি- তুমি না কেন কষ্ট কিসের একটু তো ঘর মোছা আমু মুছে দেই কালকে তো বললে ভালো হয়েছ।
মা- না তুমি কেমন ঘেমে গেছিলে কালকে আমি করে নেব।
আমি- তুমিএক্টু আঁচল দিয়ে মুছে দিয়ে একটা উম দিলেই সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। যাই আমি মুছে দেই।
মা- না এই ছেলে নিয়ে আর পারিনা আমি কি যে করবে বুঝতে পারছিনা।
আমি- কোন কথা না বলে ঘর মুছতে শুরু করে দিলাম আর মা রান্নায় ব্যাস্ত। আমি একে একে সব ঘর মুছে নিলাম। সব সেশে রান্না ঘরে গেলাম।