মায়ের প্রেম - অধ্যায় ৪
চার
এই ঘটনার দু সপ্তাহ পরে একদিন আমি ঘুমোনোর সময় মাকে বললাম -মা আমার ফিজিক্স সাবজেক্টটা নিয়ে খুব অসুবিধে হচ্ছে ।
মা বলে -কেন রে? তুই যার কাছে সায়েন্স সাবজেক্টের টিউশন নিতে যাস সেই তরুণ বাবু কি তোকে ঠিক করে পড়াচ্ছেননা ?
আমি বলি -হ্যাঁ মা। উনি অঙ্ক কেমিস্ট্রি বেশ ভাল বোঝান কিন্তু ফিজিক্সটা যে কি দায়সাড়া ভাবে পড়ান আমি ঠিক বুঝতে পারিনা । আমাদের ব্যাচের অনেকেই আলাদা করে ফিজিক্সের টিউশন নিচ্ছে । তাই ভাবছিলাম যদি আমিও একটা আলাদা ফিজিক্সের মাস্টারের কাছে টিউশন নিতে পারতাম ।
মা বলে -সে কিরে? তাহলে তো খুব মুশকিল , তুই দেখ তোর ব্যাচের ছেলেরা কার কাছে ফিজিক্সের টিউশন নিচ্ছে । তাহলে ওখানেই ভর্তি হয়ে যা । তরুণ বাবুর কাছে তাহলে শুধু অংক আর কেমিস্ট্রিটাই বোঝ ।
আমি বলি -দেখি কে ভাল মাস্টার আছে ফিজিক্সের , খোঁজ পেলে তোমাকে বলবো ।
দু চার দিন পরে আবার একদিন রাতে সবার সময় মাকে বললাম , মা একজন ফিজিক্সের টিচার আছে কিন্তু ওর বাড়ি অনেক দূরে , ওখানে গিয়ে পড়তে হলে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাবে ।
মা বলে -তাহলে কি করবি?
আমি বলি -আমাদের সোসাইটিতে একজন আছে , আমাদের ফ্ল্যাটের বিল্ডিংয়ের সামনের ব্লকেই ওরা থাকে। দাদাটা ফিজিক্সে এম-এস-সি করছে । আমাকে চেনে , আর খুব ভালও বাসে | ওদের বাড়িতে আমার যাওয়া আসাও আছে। ভাবছি ওকেই পড়াতে বলবো ।
মা বলে -তাহলে তো খুবই ভাল হয়। দেখ উনি কি বলেন ?
আবার দুদিন পরে আমি মাকে বলি -মা আমার সাথে পিকুদার মানে ওই যে ফিজিক্সের মাস্টারের সঙ্গে কথা হয়েছে । উনি পড়াতে রাজি কিন্তু টাকা পয়সা নেবে না বলছে ।
মা বলে -সেকিরে? টাকা পয়সা না নিলে কি আর দায়িত্ত্ব নিয়ে পড়াবে ?
আমি বলি -আমি অনেক রিকোয়েস্ট করেছি কিন্তু পিকুদা টাকা পয়সা নেবে না বলছে । তবে বলেছে আমাকে ফিজিক্সে তৈরী করে দেবে ।
মা বলে -তাহলে ওনাকেই বল । তা ওনার বাড়ি গিয়ে পড়তে হবে না উনি আমাদের বাড়িতে আসবেন ?
আমি বলি -পিকুদা আমাদের বাড়ি আসবে ।
মা বলে -তাহলে তো খুবই ভাল, যাওয়া আসার সময়ও বেঁচে যাবে ।
আমি বলি -সামনের সপ্তাহ থেকেই তাহলে আসতে বলছি । মনে হয় মঙ্গল আর বৃহস্পতিবার বিকেলে আসবে । আমি কলেজ থেকে ফিরে পড়তে বসে যাব, আমার কোন অসুবিধে হবেনা । আর তাছাড়া তরুণবাবুও তো ফিজিক্সটা কিছুটা পড়াচ্ছেন, ভাল খারাপ যাই হোক পড়া তো হচ্ছে ।
মা বলে -ঠিক আছে ।
পরের সপ্তাহের মঙ্গলবার কলেজ থেকে ফিরে পিকুদার জন্য অপেক্ষা করছিলাম । পিকুদা ঠিক সাড়ে পাঁচটায় এলো । মা তখন বাথরুমে । আমি পিকুদাকে বসার ঘরের টেবিলে বসলাম । পিকুদা চেয়ারে বসেই বলে -আমার বৌটা কোথায় রে? পরিচয় করিয়ে দিবিনা ?
আমি বলি -তোমার বৌ এখন বাথরুমে । দাঁড়াও আগে বেরোক । তবে বেশি হড়বড় কোরনা কিন্তু । এসব জিনিস তাড়াঘুড়ো করে হয়না ।
পিকুদা বলে -জানিরে বাবা |
মা বাথরুম থেকে বেরোলে মায়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। বলি -মা এই হলো পিকুদা , আর পিকুদা আমার মা ।
পিকুদা হাত জোর করে নমস্কার করে বলে -বৌদি আমি টুবলুকে আগে থেকেই চিনতাম । আমাদের সোসাইটির ক্লাবেই ওর সাথে আমার পরিচয় । খুব ভাল ছেলে ও , আমি ওকে আমার ভাইয়ের মতো ভালবাসি । আপনি চিন্তা করবেন না, আমি ওর ফিজিক্স একবারে তৈরী করে দেব ।
মা বলে -হ্যা দেখুন না, একটা সায়েন্সের মাস্টার দিয়েছি, কিন্তু ছেলে বলছে ফিজিক্সটা ঠিক মতো পড়াতে পারছেনা । তারপর ওই আমাকে আপনার কথা বললো । আমি শুনে বললাম তাহলে তো খুব ভালোই হয়, আমাদের সোসাইটি বিলডিং এর ছেলে যখন ।
ব্যাস এই পর্যন্তই তারপরে আর মার সাথে পিকুদার সেরকম কোন কথা হয়নি ।
পিকুদা প্রতি সপ্তাহেই দু দিন করে আমাকে পড়াতে আসতে লাগলো কিন্তু মায়ের সাথে আর বেশি কথা'এগোচ্ছিলোনা । প্রথম সুযোগটা এলো প্রায় একমাস পরে । রিঙ্কির দিন দুয়েক ধরেই মাঝে মাঝে জ্বর আসছিলো । আমাদের মনে হচ্ছিলো ঠান্ডা লেগে জ্বর আসছে, কারণ বোনের খুব কাশি হচ্ছিলো আর সেই সাথে নাকেও সর্দি ছিল। সকালের দিকে জ্বরটা ছেড়ে যেত , কিন্তু দুপুর এলেই সেই নিরানব্বই একশো মতো হয়ে থাকতো । রাতে আবার মাঝে মাঝে একশো দুই পর্যন্ত উঠে যাচ্ছিলো । মার কাছে শিশুদের খাওয়ানোর জন্য একটা প্যারাসিটামলের সিরাপ রাখা ছিল, জ্বর বাড়লেই মা সেটা খাইয়ে দিচ্ছিলো। মঙ্গলবার রাতে শোবার সময় মা থার্মোমিটার দিয়ে বোনের জ্বর দেখলো। তারপর বললো -কি করি বলতো টুবলু? তোর বোনের জ্বরটা কিন্তু কিছুতেই ছাড়ছে না? আজ নিয়ে তিন দিন হলো | জানি ঠান্ডা লেগেছে কিন্তু একবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে না গেলেই নয় ।
আমি বলি -কালকে তুমি নিয়ে যেওনা ।
মা বলে -হ্যাঁ কালই নিয়ে যাব , রিঙ্কিটা রোজ এতো দস্যিপনা করে, কিন্তু এই তিন দিনে একবারে কাহিল হয়ে পড়েছে । তুই কিন্তু সকাল সকাল উঠে ডাক্তারের কাছে নামটা লিখিয়ে আসিস ।
আমি সেই মতো পরের দিন ভোর ভোর উঠে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে নাম লিখিয়ে এলাম । আমরা যে চাইল্ড স্পেসালিস্টকে দেখাই ওনার চেম্বারটা আমাদের সোসাইটি কমপ্লেক্স থেকে অনেক দূর । যাই হোক আমি তো নাম লিখে চলে এলাম, কিন্তু কপাল খারাপ আমাদের । আমি নাম লিখিয়ে ফেরার পর থেকেই তুমুল ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল ।
মা বললো -সর্বনাশ এই ঝড় বৃষ্টি মাথায় করে ডাক্তার দেখতে যাব কি করে ? আর যা মেঘ করেছে মনে হচ্ছে আজ সারা দিন বৃষ্টি চলবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো ডাক্তার বাবু আবার আগামী তিন দিন বসবেনা । উনি শুধু সোম মঙ্গোল আর শনি রবি বসেন ।
আমার মাথায় অমনি একটা বুদ্ধি এসে গেল । আমি বললাম -মা তুমি ওই নিয়ে চিন্তা কোরনা , আমি পিকুদাকে বলে দিচ্ছি, পিকুদা এসে তোমায় নিয়ে যাবে ।
মা পিকুদার নাম শুনেই বললো -পাগল নাকি? হটাৎ শুধু শুধু ওনাকে কষ্ট দিতে যাবি কেন? আমি তো নিজেই নিয়ে যেতে পারি, শুধু বৃষ্টির জন্যই তো আমার সমস্যা ।
আমি বলি -উফ মা তুমি বোঝ না, পিকুদার চার চাকার গাড়ি আছে, তোমাকে নিয়ে যেতে কোন অসুবিধে হবেনা ।
মা বলে -না না, শুধু শুধু ওনাকে ডিস্টার্ব করার দরকার নেই ।
আমি বলি -মা পিকুদা আমাকে প্রচন্ড ভালবাসে , আমি একবার বললেই রাজি হয়ে যাবে , তোমাকে কিছু ভাবতে হবেনা । আর আজকে ডাক্তারের কাছে বোনকে না নিয়ে গেলে যদি রাতে জ্বর ফের বেড়ে যায় তাহলে কিন্তু খুব মুস্কিলে পরে যাব আমরা । দেখ যা ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়েছে মনে হচ্ছে আগামী দু তিন দিন ধরে চলবে , অন্য ডাক্তাররের সাথে কনসাল্ট করাও মুস্কিল ।
মা শেষে নিম রাজি হোল । আমি ফোন করে পিকুদাকে বলে দিলাম । সকাল দশটা নাগাদই পিকুদা গাড়ি নিয়ে এসে গেল ।
মা বললো -তুই ও চল না , আমি একা একা ওনার সঙ্গে যাব , একটু লজ্জা লাগছে, সেরকম তো পরিচয় নেই, সবে মাত্র একমাস তোকে পড়াতে এসেছে ।
আমি বলি -না মা আমি বরং ঠাকুমার কাছে থাকি , ঠাকুমাকে এক রেখে যাওয়াটা ঠিক নয় ।
মা বললো -তা অবশ্য ঠিক ।
আমি মা আর বোনকে নিয়ে আমাদের এপার্টমেন্ট বিল্ডিঙের তলায় পিকুদার গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে এলাম । মা বোনকে নিয়ে গাড়িরই পেছনে বসলো । পিকুদা আমাকে চোখ টিপে থ্যাংকস জানিয়ে মাকে নিয়ে বেরিয়ে গেল । এদিকে ওরা যাবার পরই ভীষণ ঝড় বৃষ্টি শুরু হল । পিকুদা আজ গাড়ি নিয়ে না এলে মা কিছুতেই বোনকে ডাক্তার দেখতে নিয়ে যেতে পারতোনা । প্রায় আধ ঘন্টা পরে মা ফোন করলো আমার মোবাইলে, বলে -কি রে? কত নম্বরে নাম লিখিয়েছিস ? আমাদের বলছে পঁয়ত্রিশ নম্বরে নাম আছে , প্রায় তিন ঘন্টা লেগে যাবে যে আমাদের ।
আমি বললাম -আমি তো সাত নম্বরে নাম লিখিয়েছি। তুমি একটু ক্লিনিকের রিসেপশনিস্ট কে জিজ্ঞেস করো তো?
মা আবার পাঁচ মিনিট পরে ফোন করে বললো -আজ দেখছি একবারে কপাল খারাপ আমাদের। ডাক্তার আগের দিন চেম্বারে বসেননি, তাই আগের দিনের লেখা নামের পর থেকে আজকের নাম লেখা শুরু হয়ে ছিল ।
আমি বললাম -কি আর করবে? গেছ যখন তখন একটু কষ্ট করে একবারে দেখিয়ে এস ।
মা বললো -রান্না বান্না তো কিছু করা হয়নি, ফিরতে ফিরতে তো দেরি হয়ে যাবে, তুই কি খাবি?
আমি বললাম -আমাকে নিয়ে চিন্তা কোরনা। আমি এখনই ভাত বসিয়ে দিচ্ছি, আর ফ্রিজে কালকের যে তড়কাড়িটা তোলা আছে ওটা একটু গরম করে আমি আর ঠাকুমা খেয়ে নেব ।
মা বোললো -ঠিক আছে তাহলে তাই কর, তবে ফ্রিজ থেকে তড়কাড়ি বার করেই গরম করবিনা, ঠান্ডা ভাবটা একটু কমলে তারপর গরম করবি ।
মার তো সেদিন ফিরতে ফিরতে প্রায় বিকেল হয়ে গেল । মা দেখলাম বোনের জন্য প্রেসক্রিপ্সান অনুযায়ী একবারে ওষুধ ফষুদ কিনে নিয়ে এসেছে । আমাকে মা বলে -উফ কি যে ঝেমেলা গেলো আজ , তোর পিকুদা না থাকলে খুব মুশকিল হয়ে যেত । ডাক্তারবাবু তো আমাকে ভীষণ বকাবাকি করছিল। বলছিলো কেন আমি জ্বর আসার পর তিন দিন ওয়েট করেছি, আগে আসিনি ? আজকে না গিয়ে শনিবারে ওনাকে দেখাতে নিয়ে গেলে উনি বোধয় আমাকে মেরেই ফেলতেন ।
আমি বললাম -কি বললো ডাক্তারে ?
মা বললো -মনে হচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা মতন । ডাক্তার আবার একটা ব্লাড টেস্টও করতে দিয়েছে ।
আমি বলি -যা তাহলে বোনকে আবার ব্লাড টেস্ট করতে নিয়ে যেতে হবে তো ?
মা বলে -না না, ডাক্তার দেখাবার পর পাশের একটা ক্লিনিক থেকে একবারে টেস্ট করে নিয়েছি । পিকু বললো "বৌদি তুমি কিছু চিন্তা কোরনা আমি সব সামলে নেব" । একবারে টেস্ট ফেস্ট করে ওষুধ ফষুদ সব কিনে দিল । যাই বলিস ছেলেটা কিন্তু খুব ভাল । যেমনি ভাল বাবহার তেমনি গল্প করতে ভালবাসে । ওর সাথে গল্প করতে করতে কোথা দিয়ে যে তিন ঘন্টা কেটে গেল বুঝতেই পারলামনা ।
আমি বললাম -তোমার তাহলে দুপুরে কি কিছু খাওয়া হয় নি?
মা বলে -হ্যাঁ হ্যাঁ হয়েছে, পিকুই জোর করে আমাকে নিয়ে পাশের একটা রেস্টুরেন্ট থেকে লাঞ্চ করিয়ে দিল ।
আমি বলি -বোন তাহলে কি খেয়েছে ?
মা বললো -ওকে আমার পাত হেকে একটু ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু ও খেতে চাইলোনা । আসলে শরীরটা ওর খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে তো । শেষে পিকু বললো "বৌদি তুমি যদি ওকে ব্রেস্টফিড করতে চাও তো বল, এই রেস্টুরেন্টের ওপর তলায় এদের কাপলদের জন্য পর্দা ঢাকা কেবিনে বসার ব্যাবস্থা আছে , আমি তাহলে ওদের সাথে কথা বলে ওখানে তোমার একটু বসার ব্যাবস্থা করছি" ।
আমি বললাম -তাহলে তাই দেখ।
ও ওয়েটরারদের সাথে কথা বলে একটা কেবিনে আমাদের বসার ব্যবস্থা করলো । ভেবেছিলাম রিঙ্কি খেতে চাইবেনা , কিন্তু দেখলাম চুক চুক করে অনেকক্ষণ বুকের দুধ খেল, তারপর ঘুমিয়ে পড়লো ।
আমি বললাম -যাক ভালোই হয়েছে ।
একটা কথা খেয়াল করলাম, পিকুদার সাথে ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার পর থেকে মা কিন্তু আর পিকুদাকে উনি উনি করছে না, আর শুধু তাই নয়, 'তোর পিকুদা' না বলে একবারে "পিকু" বলে ডাকছে ।
আমি পিকুদা কে রাতে ফোন করলাম । বললাম -কি গো? মায়ের সাথে খুব গল্প করেছো শুনলাম ?
পিকুদা বলে -উফ টুবলু তুই বুদ্ধি খাটিয়ে যা সুযোগ করে দিলিনা , আমার অনেক দিনের কাজ এগিয়ে গেল । বৌদি প্রথম প্রথম একটু আড়ষ্ঠ হয়ে ছিল । ভাগ্গিস ক্লিনিকে আমাদের বললো তিন ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে, ব্যাস আমি ওমনি সময় পেয়ে গেলাম । প্রথমে আমি নিজেই যেচে যেচে গল্প করছিলাম তারপর আধ ঘন্টা পরে দেখলাম বৌদির আড়ষ্ঠতাটা কাটলো । বৌদিও আমার সাথে খুব গল্প করা শুরু করলো । বৌদিকে নিয়ে পাশের একটা রেস্টুরেন্ট থেকে লাঞ্চ করালাম ।
আমি বলি -মায়ের লজ্জা ভেঙেছে বলছো তাহলে ?
পিকুদা বলে -একবারে ভেঙে চুরমার । জানিস তোর মা তোর বোনকে বুকের দুধ খাওয়াবে বলে রেস্টুরেন্টে একটা পর্দা ঢাকা কেবিনে বসার ব্যবস্থা করেছিলাম । তোর মা ম্যানা খাওয়াচ্ছে বলে আমি কেবিনের ভেতর না বসে বাইরে বসে ছিলাম । তোর মা পর্দা ফাঁক করে আমাকে ডাকলো, বললো -এই পিকু, তুমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছ কেন? ভেতরে এসে বসনা ।
আমি বললাম -বৌদি তোমার অসুবিধে হবেনা তো? তোর মা বলে "না না অসুবিধার কি আছে? তুমি ভেতরে এসে বস" ।
তারপর আমি কেবিনের ভেতরে গিয়ে বসলাম। তোর মা আমার সাথে গল্প করতে করতেই তোর বোনকে শাড়ির আঁচল দিয়ে ঢেকে ব্রেস্টফিড করলো ।
আমি বললাম -মাই দেখার চেষ্টা করনিতো মার ?
পিকুদা বলে -না রে বাবা, আমি দেখার চেষ্টাই করিনি । প্রথম ইম্প্রেশানটা একটু ভদ্র রাখতে হবে তো নাকি? আর এতো তাড়াতাড়ির কি আছে? তুই এরকম ভাবে আমাকে ভেতর থেকে সাহায্য করলে আমার সামনে ন্যাংটো হতে তোর মার বেশি দেরি লাগবেনা । আমাকে তখন আর চাইতে হবেনা, তোর মা দেখবি নিজে থেকেই দুধ খাওয়াবে আমাকে ।
পিকুদার কথা শুনে আমি হি হি করে হেসে উঠি । পিকুদা বলে -হ্যারে টুবলু তোর মার ম্যানার বোঁটাদুটো কি রঙের রে? কাল না বাদামি ? আমি হেঁসে বলি -আমি বলবো কেন? তুমি ফুলসজ্জার সময় ব্রেসিয়ার খুলে দেখে নিও ।
পিকুদা বলে -আচ্ছা এটা অন্তত বল তোর মার নিপিল দুটোর সাইজ কিরকম? বড়, মাঝারি না ছোট ?
আমি বলি -বড়।
পিকুদা বলে -উফ মাগো.... বড় নিপিল আমার দারুন পছন্দ । আমার মায়ের নিপিলগুলোও বড় বড় ছিল ।
আমি হাসতে থাকি পিকুদার কথা শুনে ।
পিকুদা বলে -এই টুবলু কতটা বড় বলনা বাবা ? আঙুরের মতো না বড় নারকোলে কুলের মতো ?
আমি বলি -না আরো বড় ।
পিকুদা উত্তেজিত হয়ে ওঠে, -আরো বড় ? সত্যি? প্লিজ বল কি রকম সাইজ ?
আমি বলি -পাঁচ টাকার ছোট সাইজের যে পান্তুয়া পাওয়া যায়না সেরকম ।
পিকুদা বলে -উফফফফফ আজ রাতে হাত মারতে হবে মনে হচ্ছে ।
আমি পিকুদার কথা শুনে এবার হেসে গড়িয়ে পড়ি ।
(চলবে )