মায়ের প্রেম - অধ্যায় ৮
আট
এর কিছুদিন পর আবার একদিন পিকুদাকে ফোন করে বললাম -কি গো পিকুদা, সারা দিনতো দেখছি মাকে হোয়াটস এপ মেসেজ পাঠাচ্ছ আর মা সেসব পরে হেঁসে গড়াগড়ি খাচ্ছে ।
পিকুদা বলে -হ্যাঁ, প্রথম প্রথম একবারে সাধারণ হাসির মিম ফরওয়ার্ড করতাম কিন্তু এখন একটু দুস্টু দুস্টু মিম ও পাঠাচ্ছি ।
আমি বলি -তাই নাকি ?
পিকুদা বলে -প্রথম দিন যেদিন পাঠালাম সেদিন খুব ভয়ে ছিলাম, যদি রেগে যায় । কিন্তু রাগেনি, বরং এনজয় করছে ।
আমি বলি -আজকে মাকে কি রকম দুস্টু দুস্টু মিম পাঠালে দেখি ? আমাকে ওরকম একটা পাঠাও তো ।
পিকুদা বললো -দাঁড়া পাঠাচ্ছি । একটু পরেই আমার মোবাইলে পিক করে একটা হোয়াটস এপ মেসেজ এলো, মেসেজের তলায় পিকুদা লিখেছে "তোর মা বলেছে যে এইটা পড়ে নাকি খুব হেঁসেছে " ।
মেসেজটা হলো এরকম :- "ফুলসজ্জার রাতে বর খুব রোমান্টিক হয়ে বৌকে বললো -সোনা আজ আমি তোমাকে চাঁদে নিয়ে যাব না তাড়া তে ? নতুন বৌ লজ্জা পেয়ে বললো -সেটা তোমার রকেট দেখেই বলবো" ।
আমি বললাম -বাবা তোমার সাহস আছে বলতে হবে ।
পিকুদা বলে -আরে তোর মার লজ্জাটা আস্তে আস্তে কাটাতে হবে না । তারপর পিকুদা বলে -হ্যাঁরে টুবলু একটা কথা বলতো? তোর মা কি এখনো বিকেলে তোর বোনকে নিয়ে পার্কে হাঁটতে যায় ?
আমি বলি -হ্যাঁ যায়, তবে রোজ নয় ?
-কবে কবে যায়রে ?
আমি বলি -সাধারণত শনিবার আর রবিবার বিকেলের দিকে যায় ।
-কটার সময় বেরোয় ?
-একটু বিকেল করে, এই ধরো সাড়ে পাঁচটা ।
-তুই কোনদিন গেছিস মায়ের সাথে? মানে তোর মা পার্কে গিয়ে কি আমাদের হাউসিং সোসাইটির মহিলাদের কোন গ্রূপের সাথে বসে বা হাঁটে?
আমি বলি -না, মা পার্কে গিয়ে প্রথমে বোনকে কোলে নিয়ে একটু হাঁটে, তারপর পার্কের ভেতর যে বসার জায়গাগুলো বানানো আছে সেখানে একটু বসে, তারপর বাড়ি চলে আসে ।
পিকুদা বলে -এই শনিবার আর রবিবার তোর মা বাড়ি থেকে বেরুলেই আমাকে ফোন করবি ?
আমি বলি -কেন গো?
পিকুদা বলে -তোর মাকে সপ্তাহে দু দিন করে দেখে ঠিক মন ভরছেনা । ভাবছি আমিও ঠিক ওই সময় পার্কে পায়চারি করতে যাব ।
আমি হেঁসে বলি -ঠিক আছে । এর পরের শনিবারে মা বিকেল পাঁচটা নাগাদ বোনকে নিয়ে বেরতেই আমি পিকুদাকে ফোন করি । মা সাধারণত সন্ধে ছটার মধ্যেই চলে আসে । কিন্তু সেদিন প্রায় সাড়ে ছটা বাজলেও মা ফেরেনা । আমি ব্যাপারটা একটু অবসার্ভ করার জন্য পার্কের দিকে যাই । দেখি পার্কের এক কোনে অনেক গুলো বসার জায়গার মধ্যে একটা বসার জায়গায় মা আর পিকুদা পাশাপাশি বসে গল্প করছে । ওরা এমন ঘনিষ্ট হয়ে মুখের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে গল্প করছে যেন মনে হচ্ছে প্রেমিক প্রেমিকা । বোন মায়ের কোলে বসেই হাত পা নেড়ে নিজের মনে খেলা করছে । মায়ের সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই, পিকুদা মাকে কি সব যেন বলছে আর মা সেসব শুনে খুব হাঁসছে । আমি আর ওদের সামনে না গিয়ে বাড়ি চলে আসি । পরের দিন মানে রবিবারেও পিকুদাকে ফোন করি যখন মা বেরোয় । সেদিনও দেখি মা পাঁচটায় বেরিযে ফিরতে ফিরতে প্রায় সাতটা বাজালো । তার পরের সপ্তাহের শনিবার মা বিকেলে বোনকে নিয়ে বেরনোর তোরজোর করতেই আমি ফোন নিয়ে রেডি হয়ে বসি । মা বেরুলেই পিকুদাকে ফোন করবো । কিন্তু বেরনোর আগে মা দেখি রান্না ঘর থেকে কাকে যেন ফোন করলো । আমি অমনি শোবার ঘরের টিভির ভলিউম কমিয়ে দিয়ে কান খাড়া করে রইলাম । দেখি মা ফিসফিস করে বলছে -এই আমি এখন রিঙ্কিকে নিয়ে বেরোচ্ছি। তুমি বেরোচ্ছ তো?
আমি মনে মনে ভাবলাম -যাক আজ থেকে আর আমার ফোন করার দরকার নেই । মা আর পিকুদা প্রেমিক প্রেমিকার মতন একবারে সেটিং করেই বেরচ্ছে
(চলবে)