নিঃশব্দ আর্তনাদ - অধ্যায় ৪

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-69821-post-6254158.html#pid6254158

🕰️ Posted on Thu Jul 02 2026 by ✍️ Nefertiti (Profile)

🏷️ Tags: None
📖 799 words / 4 min read

Parent
নিঃশব্দ আর্তনাদ (পর্ব ২: অশুভ ইতিহাসের সূচনা)     সর্বনাশ কখনো বলে কয়ে আসেনা। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের মত হুট করেই সে লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায় গোটা চারপাশ । ভোরের সুন্দর সকাল দেখেও বোঝা যায়না যে রাতে কি ভীষণ প্রলয় অপেক্ষা করছে। তাই তো যখন আমাদের ঘর আলো করে পুত্রসন্তান এলো আমি আর আমার স্ত্রী যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছিলাম। ডাক্তার বলেছিলেন আমার স্ত্রী কখনো মা হতে পারবেন না। সেই শঙ্কা যখন ভুল প্রমাণিত হল তখন আমাদের কৃতজ্ঞতার অন্ত ছিল না। এক চাঁদেই আমরা খুশি ছিলাম। আর ঝুঁকি নিতে চাইনি আমরা কেউই। আমার স্ত্রী ছিলেন পুত্র বলতে অজ্ঞান। আমিও ছেলেকে একটু বেশিই ভালবাসতাম। এই আদর-ভালবাসার আধিক্যেই কিনা পুত্র আমার কিশোর বয়সে ভুল পথে যেতে লাগলো। যতদিনে আমরা বুঝে উঠতে পেরেছিলাম যে ছেলেকে হারিয়ে ফেলছি ততদিনে বেশ দেরি হয়ে গিয়েছিল। অধিক কথা না বাড়িয়ে অতি সংক্ষেপে যেটা হয়েছিল জানাচ্ছি।   সদ্য কিশোরে পা দেওয়া অতি আদরের পুত্র আমার কুসঙ্গে পরে যায়। সিগারেট এবং আরও কি কি সব দিয়ে নিজের ফুসফুসকে দূষিত করতে শুরু করে। একই সাথে কলেজেরই এক মেয়ের জন্যে দিওয়ানা হয়ে নাওয়া খাওয়া ভুলে বসে। আবার সেই মেয়েটি তাকে মোটেও পছন্দ করত না । তাছাড়া খোঁজ নিয়ে জেনেছিলাম মেয়ের পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবেও আমাদের চাইতে বেশ নিচুতে। পুত্রের মা তাকে বোঝাচ্ছিল যদিও । কিন্তু সব চেষ্টা বিফলে যেতে থাকে। রেজাল্ট খারাপ হতে থাকে।এসএসসি পাশ করবে কিনা তা নিয়েই আমরা পিতামাতা দুশ্চিন্তায় পরে যাই। সেই সাথে প্রতিদিন আমি অফিস থেকে ফিরলেই নিত্য মাতা-পুত্রের কলহ। কলহের শব্দে প্রতিবেশিরাও জানতে শুরু করেছিল যে আমাদের ভেতরে সমস্যা হয়েছে কোন । এভাবেই একদিন আমি মাত্র অফিস থেকে ফিরে লাঞ্চ করে কেবল উঠেছি আর ঠিক তখনি শুনতে পেলাম মা ছেলের চিৎকার। চিৎকার ভেসে আসছিল ছেলের রুম থেকে। এমন কলহ নতুন নয়। তাই সেখানে যাবার প্রয়োজন বোধ করিনি। তবে সবই শুনতে পাচ্ছিলাম। পুত্রের মা বলছিল, “ওই এক মেয়ের ভেতর কি আছে যে নষ্ট করছিস নিজের জীবন? সময়ে সময়ে তোকে অপমাণ করে। আর সেই ঝাল ঘরে আমাদের দেখাস। ওর চিন্তা বাদ দে। পড়াশোনা কর। স্বাভাবিক হ। বাজে মুভি দেখা ছাড়, সিগারেট ছাড়!” ইত্যাদি। স্বস্নেহে বড় করা ছেলের প্রতি এমন মাতৃউপদেশ প্রতিনিয়তই শুনতে পেতাম। তাই গা করিনি। কিন্তু সেদিনটি ব্যতিক্রম ছিল । একটু পরে শুনি চড়ের ঠাস ঠাস আওয়াজ । কাছে গিয়ে দেখি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে আর ওর মা ওকে একে একে মেরেই চলেছে পাগলের মত । আমি গিয়ে বহু কষ্টে স্ত্রীকে ঠেকাই। ওর মা কাঁদছিল। ছেলে কোন শব্দ করেনি। স্থানুর মত দাঁড়িয়েছিল। কেনই বা স্ত্রীর এ অগ্নিমূর্তি তা আমি সেদিন জানতাম না। জানতে পেরেছিলাম আরও দিন ১৫ পরে। জানতে পেরেছিলাম যে আমার ছেলে নাকি তার মায়ের সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে বলে বসেছিল যে, “ওই মেয়েকে যদি না পাই তাহলে কি তুমি শোবে আমার সাথে?” এতেই ওর মা পুরা অগ্নিশর্মা হয়ে গেছিল।   এ ঘটনার ঠিক পরে দিন সকালে অফিস যাবার আগে আবার ঝামেলা হল। আমি তখন সবে খেতে বসেছি। ওর মা তখন রান্না করছিলো। ছেলে রান্নাঘরে কি কাজে যেন গিয়েছিল। দেরি করে ঘুম থেকে ওঠায় আমার স্ত্রী রেগে পুত্রকে কি যেন একটা বলেছে। আমি সেটা শুনতে পাইনি। ছেলে সতেজে মায়ের মুখের ওপর প্রতিউত্তর দেয়ায় আবারো এই কলহের সূত্রপাত। তবে এরপরে দুজনেরই গলার আওয়াজ ক্রমশ চড়ে গেলে তাদের কথপোকথন স্পষ্টতই শোনা যাচ্ছিল। ছেলে বলছিল, "কি এমন বলেছি কালকে? লজিকাল কথা বললে এত লাগে কেন? মুভি দেখলে দোষ। পিসি চালালে ‘কি দেখিস’ প্রশ্ন, ‘কাকে মেসেজ দিচ্ছিস?’, ‘ওই মেয়ের পিছনে যাবিনা’-- আমি ফেডাপ আম্মু । কিছু না করে বাসায় বসে থাকব আমি? আমার কোন গালফ্রেন্ড হবেনা । আমি কোন মেয়ের কাছে যাব না ।আমার একটা ছেলেমানুষ। আমার বয়সের চাহিদা কি তবে তুমি ঠিক রাখবা? লজিকাল না কথাটা?" ছেলে রেগে বলে চলেছিল। ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে এবারে ওর মা ওকে রুটি বানানোর বেলন দিয়ে মারছিলো আর চিল্লাচ্ছিল। “কত বড় কাফের পেটে ধরছি আমি। লজ্জা নাই, হায়া নাই! মাকে কি তোর ছেনাল মাগী লাগে? মায়ের সাথে এভাবে কথা বলিস তুই?” এমন আরও বহু কিছু। আমি কোনরকমে সেদিন সামলাই দুজনাকে । ওদের কাছে গিয়ে বলি, “অফিসে যাবার আগে প্রতিদিন এসব কি করো তোমরা?” ছেলেকে বলি, “তুমি ঘরে যাও। কোচিং এর জন্যে রেডি হও।“ ছেলে চলে গেলে দেখলাম আমার আমার স্ত্রীর ঘর্মাক্ত মুখটি ক্রোধে যেন লাল হয়ে আছে। এখন বর্তমানে আমি বেশ বুঝতে পারি যে আমার পুত্র সেদিন এসব অশ্লীল কথা বলেছিল শুধুমাত্র তর্কের খাতিরে। কিশোর বয়সের অহংকে সমুন্নত রাখতে অথবা শুধুই ওর মাকে রাগাতে। তবে সম্ভবত ঠিক এ ঘটনার পরেই ও বুঝতে পারে ও যে কথাগুলো বলেছিল তার অর্থ আসলে কতটা গভীর আর আর নোংরা ছিল। হয়তবা এটা উপলব্ধি করেই এর পর থেকে ওর মায়ের প্রতি ওর চিন্তাধারা পরিবর্তন হতে থাকে। এছাড়া সেই সহপাঠী মেয়ের থেকেও সারা পাচ্ছিল না। আমাদের সন্তান দেখতেও এমন আহামরি নয় যে অন্য মেয়ের কাছে পাত্তা পাবে। তাই সব মিলিয়ে আমার মনে হয় ওই সময়টাতেই প্রথমবারের মত সে তার মাকে নিয়ে কিছুটা অন্যরকম ভাবে ভাবতে শুরু করে।   এরপর আসে সেই মহা সর্বনাশের দিন। যে সর্বনাশ ছেলে বখে যাবার সাথে শুরু হয়েছিল সেই সর্বনাশ সেদিন তার অন্তিম পরিণতি লাভ করে। অথবা বলা যায় এক কালো অধ্যায়ের কুসূচনা করে। সেই অপয়া দিনে দুপুরবেলা খাবার খেতে বসতে যাব। স্ত্রী তখন রান্না ঘরে। হঠাৎই স্ত্রীর চড়া গলার আওয়াজ শুনতে 
Parent