নিষিদ্ধ শিহরণ - অধ্যায় ২

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-72371-post-6143615.html#pid6143615

🕰️ Posted on Sat Feb 14 2026 by ✍️ Jaqlin (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1799 words / 8 min read

Parent
লেখার সময় ফ্রন্ট-ফরম্যাটে কিছুটা ত্রুটি হয়েছে তাই পর্বটি আবার দেয়া হলো। আজ মোট মৃতের সংখ্যা ১২৬৯ জন” সময় টিভির নিয়মিত বুলেটিনে খবরটা ঘোষণা করা হলে মনটা খুব বিষণ্ন হয়ে যায়। এর পরের ঘোষিত সংখ্যার মধ্যে আমি বা আমার খুব কাছের কারও নামটা থাকবে না তো! কি এক আশ্চর্য নেশায় যমরাজ মেতে উঠেছেন। বাতাসে কান পাতলেই চারদিক থেকে মৃত্যুর বিসংবাদ ত্রাহি ত্রাহি করে ছুটে আসছে। হয়তো খুব শীঘ্রই বাতাসে ভাসবে লাশের গন্ধ। চারিদিকে মানুষে মানুষে মৃত্যুর ভয়ংকর আশঙ্কা! যে যাকে যেখানে পাচ্ছে নিজের অতীত ভুল-শুদ্ধের জন্য একে অপরের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করছে, যেন প্রত্যেকে নিজের মৃত্যুর পয়গাম পেয়ে গিয়েছে। ঘরে ঘরে ক্ষুধার যন্ত্রণা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছিন্নমূল মানুষেরা আশ্রয়হীন হয়ে দিশা শূন্য চোখে অদৃষ্টের উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে অনাহূত সমাধানের অপেক্ষা করছে, হয়তো শীঘ্রই মৃত্যুর মতো চির সমাধান নয়তো বেঁচে থাকবার মতো একটুখানি আলোক। শেখ হাসিনা সরকার এই যুদ্ধে তার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। অসহায় গরিব মানুষগুলোকে বাঁচাতে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। অর্থনৈতিক প্রণোদনা তারমধ্যে অন্যতম। সারাদেশে তালিকা করে ছিন্নমূল মানুষদের ঘরে ঘরে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হলো। কিন্তু বিশ্বের অচলবস্থায় ধনী আর কে? প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ “মধ্যবিত্ত ভুক্ত কিছু মানুষ যারা লজ্জায় চাইতে পারে না তারাও যেন কষ্ট না করে, তাদের ঘরে সরকারি সহায়তা যেন গোপনে পৌঁছে দেয়া হয়।” কিন্তু ছোট একটা অর্থনীতির দেশে বিশাল জনসংখ্যার বিপরীতে এসব পদক্ষেপ নিতান্তই অপ্রতুল। ঘাটে ঘাটে দুর্নীতির মরণ ছোবল তো আছেই। সরকার আর্থিক প্রণোদনা যেন সুবিধাভোগীরা সরাসরি পায় সেই লক্ষ্যে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল কিন্তু সেই তালিকায় মন্ত্রী-এমপি-সচিবদের বউ-বোন আর আত্মীয়দের নাম্বার আবিষ্কৃত হলো। একদিকে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভঙ্গুর অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মালেক মহোদয়ের অযোগ্যতা মানুষের মনে ভয় নিরসনের পরিবর্তে কিছুটা গাঢ়ই করে দেয়। মন্ত্রী-আমলাদের অগোছালো মন্তব্য মানুষের মনকে আরও বিষিয়ে দেয়। এমতাবস্থায় মানুষের একমাত্র ভরসা সৃষ্টিকর্তা। মসজিদে মুসল্লির কাতার রাতারাতি বেড়ে গিয়েছে। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের শেষে মোনাজাতে কান্নার রোল উঠতে লাগলো। মন্দিরগুলো ভক্তের আরাধনায় সর্বক্ষণ মগমগ করছে। যে কোনদিন উপাসনালয়ের ধারেও ঘেঁষেনি সে আজ যেন ঈশ্বরের সত্যিকারে রুদ্রতা উপলব্ধি করছে। নাস্তিকও আজ সমস্ত যুক্তি ফেলে মনে মনে ঈশ্বরকে প্রভু বলে মেনে নিতে বাধ্য হলো, প্রবল শক্তিশালী কোন হাত মানবকূলে ঢাল হয়ে না এলে মনুষ্য সভ্যতার বিলোপের আর দেরি নেই। সেই বিলিয়ন বছর আগের ডাইনোসরের মতো এবার বুঝি আমরাও অস্তিত্বহীন হয়ে যাবো। শীত মাত্র তিরোহিত হয়েছে, বসন্ত অনাগত! প্রকৃতিতে ঠান্ডার একটু আমেজ এখনো বিলীন হয়ে যায়নি, বিশেষত সকালের দিকে একটু একটু ঠান্ডা লাগে। পাতলা একটা নকশি কাঁথা গায়ে আরও ভালো করে জড়িয়ে ওপাশ হয়ে শুতে গিয়ে সমস্ত ইন্দ্রিয় সক্রিয় হয়ে উঠলো। আব্বুর চিৎকার ঘরের দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনি তুলে মগমগ করে ফিরছে। কি হলো আবার! বালিশের তলা হাতড়ে ফোন বের করে দেখি ৭ টা ৯ বাজে। এই সাতসকালে কি এমন হলো আবার! দড়মড়িয়ে উঠে হাই তুলতে তুলতে দরজায় এসে দেখি আব্বু আম্মুকে উদ্দেশ্য করে বলছেন “নামাজ নাই, কলমা নাই, না আছে দুনিয়ার চিন্তা। এতবেলা পর্যন্ত ঘুমাচ্ছে। বাপের ঘাড় ভেঙে খাচ্ছে আর পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। তাও কিছু বলি না। এক মাসও হয়নি গ্রামে এসেছি এর মধ্যেই নালিশ!” আম্মু বলছেন, শান্ত হও। কে কি বলেছে সেটা তো বলবা। “তুমি যাও তোমার ছেলেকে জিগাও সে কোথায় কি করেছে”। আম্মু দোতলার দিকে তাকাতেই আমাদের একসাথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ভাইয়া এরমধ্যে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে বেকুবের মতো নিচে তাকিয়ে আছে। চোখ থেকে ঘুমের রেশ এখনো কাটেনি তাই ও আসলেই কিছু বুঝতে পারছে না। আব্বুর শেষ বাক্যটা শুনা মাত্রই বিড়বিড় করে বললো, “এমা আমি আবার কোথায় কি করলাম”। আম্মু ওর নাম ধরে ডেকে বলল রবি নিচে আয়। ভাইয়া নিচে গেলে বললেন, তোর আব্বু কি বলছে। আব্বু তো চোখ বড় বড় করে ওর আগাগোড়া দেখেই যাচ্ছে। পারলে এখনই মেরে তক্তা ভেঙে দেয় আর কি! আম্মুর প্রশ্নের উত্তরে ভাইয়া বললো, বলেছে তো তোমাকে, আমি কি করে বলবো কি বলছে! ওর এরকম বেওয়ারিশ উত্তর শুনে আব্বু আরও ক্ষেপে গেলেন, তেড়ে আসতে যাচ্ছিলেন। আম্মু উনাকে নিবৃত্ত করার জন্য খানিক ধমক দিয়ে বললেন, দাঁড়াও না তুমি, আমি জিজ্ঞেস করছি তো। ভাইয়ার দিকে ফিরে আবার আম্মু বলতে শুরু করেন, “তোর আব্বুর কাছে কেউ তোর নামে নালিশ দিয়েছে। তুই কোথায় কি করেছিস সেটা জিজ্ঞেস করছি আমি”। ভাইয়া নিচের দিকে তাকিয়ে আছে নিরুত্তর। আব্বু সোফা দিশ করে গিয়ে বসলেন। রাগে চোখ-মুখ থমথম করছে। আম্মু আবার বললেন, কিরে কিছু বলছিস না কেন? আমতা আমতা করে ও বললো, বললেই তো তোমরা ক্ষেপে যাও। কি করেছিস ক্ষেপে যাবার মতো? আম্মু জিজ্ঞেস করলেন। ভাইয়া বললো, আমি এখানে এসেছি থেকে সেরকম কিছু করেছি বলে মনে হচ্ছে না। আব্বু রাগে ফেটে পড়লেন, দড়াম করে বসা থেকে উঠে গেলেন। ভাইয়ার শেষ কথাটা রিলে করলেন “সেরকম কিছু করেছি বলে মনে হচ্ছে না” ষোড়শীর সাথে কি করেছিস, ওর সাথে তোর কি সম্পর্ক? এই কথা শুনে আম্মু যেন আকাশ থেকে পড়লেন। তিনি আশা করেছিলেন উনার এই উন্মাদ-দুরন্ত ছেলে কোথাও বোধহয় কারোর সাথে কোন দুষ্টুমি করেছে আর যে নালিশ দিয়েছে সে ওটাকে বাড়িয়ে তাড়িয়ে আব্বুর মাথা গরম করে দিয়েছে। কিন্তু আলোচনার টেবিলে এবং আলোচনার এই মোড়ে কোন মেয়ের নাম ঢুকে পড়বে তিনি এতটা আশা করতে পারেননি। আম্মু একবার ভাইয়ার দিকে আরেকবার আব্বুর দিকে পর্যায়ক্রমে কয়েকবার তাকালেন। মাঝখানে সিঁড়ির মাথায় দাঁড়ানো আমার উপরও চোখ পড়লো একবার। আম্মু নিজের হতমবিহ্বলতা কাটিয়ে ভাইয়াকে শুধালেন, আচ্ছা এখন উপরে যা। ফ্রেশ হয়ে আয়, নাস্তা দিচ্ছি। আমাকে উপলক্ষ করে বললেন দাঁড়িয়ে থাকিস না, থালা-বাসন গুলো ধো। মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম কিন্তু মাথায় চলছিল অন্যকিছু। ষোড়শীকে আমি চিনি, আমাদের এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ সুন্দরী হিসেবে বেশ খ্যাতি আছে। কিন্তু ও তো ভাইয়ার থেকে বয়সে অনেক ছোট, ইন-ফ্যাক্ট ষোড়শী আমার চেয়েও ছোট। আচ্ছা বেশ, একবার যেতে হবে ওর কাছে। মেয়েটা দেখলেই আপু আপু করে প্রাণ উজাড় করে দেয় একদম। সেটা কি এ জন্য! পারিবারিক শালিসে উদভ্রান্তের মতো ছুটে আসা ইস্যুতে আম্মু হঠাৎ ইতি টানতে বাধ্য হলেন কারণ, একটা বিবাহযোগ্য দামড়া ছেলের সাথে মেয়ে ঘটিত বিষয় নিয়ে কথা বলার মতো প্রশিক্ষণে তিনি প্রশিক্ষিত নন। তাছাড়া আব্বু উনাকে বিষয়টাকে আগে থেকে না জানিয়েই হাঁক-ডাক শুরু করেছিলেন। তাই তিনি তার চির অবাধ্য-ত্যাজ্য পুত্রকে করার জন্য ঠিকঠাক প্রশ্নমালা তৈরি করার ফুসরত পাননি। তিনি তার ছেলেকে তো চেনেন, ও প্রায় প্রশ্নের উত্তরই ত্যাড়া-বেকা করে দেয়। ছোট বেলা থেকেই ও ডোন্ট কেয়ার টাইপ ছেলে। ওর যুক্তি হচ্ছে, প্রশ্নকর্তার অধিকার তিনি কি প্রশ্ন করবেন। একইভাবে সেই প্রশ্নের কি উত্তর দেব বা উত্তরের অ্যাপ্রোচ কি হবে সেটা ঠিক করার অধিকার আমার। প্রশ্নকর্তার উচিত নয় যে তিনি প্রশ্ন করে উত্তরটাও তার পছন্দ মতো হবে এমনটা আশা করা। সুতরাং না জেনে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ও হয়তো এমন একটা কথা বলে বসবে যেটা উপস্থিত তিন জনের মজলিসের পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। বরং বিষয়টা জেনে পরবর্তীতে ওর সাথে সুস্থভাবে কথা বলা যাবে। খুব সম্ভবত এরকম চিন্তা করে আম্মু আপতত রণে ভঙ্গ দিলেন। আব্বু আম্মুর বিবাহের পর প্রায় সাত বছর তারা নিঃসন্তান ছিলেন। বহু প্রার্থনা, ঔষধ আর মাজারে মাজারে মানত করবার পর আম্মুর গর্ভে আসে তার প্রথম সন্তান। পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে যায়। আত্মীয়-স্বজন আর পাড়া-প্রতিবেশীদের অবিরাম তের্যক মন্তব্য শোনার দীর্ঘ অমানিশা কেটে আমাদের ঘরে সুখের এক শিখা জ্বলে ওঠে। আব্বু আম্মু খুশির বন্যায় ভাসতে থাকেন। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই নানা রকম জটিলতা দেখা দেয়। শেষমেশ সিজার করে আমাদের পরিবারের প্রথম অতিথিকে বের করতে হয় কিন্তু মৃত অবস্থায়। আমার প্রথম বড় ভাই দুনিয়ার আলো দেখার আগেই কি এক অভিমানে নিজেকে আড়াল করে নিল সারা জন্মের মতো। আট মাস আগে জ্বলে ওঠা সুখের সেই প্রদীপ নিভে গেল। তারপর আম্মু কনসিভ করেন তার দ্বিতীয় সন্তান। দীর্ঘদিন নিঃসন্তান থাকা তারপর প্রথম সন্তান বিয়োগের সীমাহীন যন্ত্রণা হেতু তাঁরা এবার প্রথম থেকেই খুব সাবধানী হয়ে ওঠেন। ১৯৯৭ সালের ২৬ মার্চ জন্মগ্রহণ করে তাদের দ্বিতীয় পুত্র সন্তান। স্বাভাবিকভাবেই সে সকলের নয়নের মণি হয়ে ওঠে। ঘটা করে তার নাম রাখা হয় রবিউল রেজা। রবিউল শব্দটি আরবি রাবি শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ বসন্তকাল। অর্থাৎ ভাইয়ার জন্ম আব্বু-আম্মু তথা আমাদের পুরা পরিবারের জন্য চির বসন্ত নিয়ে এসেছে। একদম শিশুকালেই ভাইয়া ছিল দুষ্ট প্রকৃতির। নানা দুষ্টুমি আর অভিনব সব ক্রিয়াকলাপে নির্জনতা কাটিয়ে বাড়িকে করে তোলে হাসিখুশি। ওকে শাসন করাই হতো না বলতে গেলে। কলেজে ও নিজে তো ঠিকমতো ক্লাস করতোই না আশ-পাশের কাউকেও শান্তমতো বসতে দিত না। কলেজ থেকে বিচার এলে কলেজ পরিবর্তন হতো তবুও ওর বিচার হতো না। ও দেখতে এতটা কিউট আর স্মার্ট ছিল যে স্যাররাও ওকে মারতো না। তা বলে ও বোকা ছাত্র ছিল তা না কিন্তু। সবাই যেটা দশবারে বুঝতো ও সেটা একবারেই আত্মস্থ করে ফেলার দারুণ এক গুন ছিল। যে ওরে দেখতো একবার আদর না দিয়ে যেতে পারতো না, এমনই আকৃষ্টতার গুন ছিল। ও ছোট থেকেই খেলাধুলায় ভালো পারফর্ম করতো। বিশেষ করে ক্রিকেটে ওর ঝোঁক ছিল বেশ। কলেজ জীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি ওর প্রবল আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। কারণটা ছিল সবার উপরে যেহেতু ওকেই চোখে লাগে এবং পড়াশোনায়ও খারাপ না তাই ক্লাসে বরাবরই ও ক্যাপ্টেন। এখান থেকেই নেতৃত্বের ঝোঁক পেয়ে বসে ওকে। যেতে যেতে রাজনীতিতে ছাত্রলীগের ভালো একটা পজিশনে চলে যায় ভাইয়া। ভাইয়ার শরীরের গড়ন ছিল অন্য আট-দশটা ছেলে থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। হাত-পায়ের হাড় খুব মোটা আর শক্তপোক্ত। গায়ের রঙ দুধে সাদা। অন্ধকারেও ও খুঁজে পাওয়া যেত খুব সহজেই। রোদের আলোতে ওর গায়ের রঙ যেন আরও মাধুর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। ও ১৫-১৬ বছর বয়সেই ৫ ফুট ৮ ইঞ্চির মতো লম্বা। ফলে ওর দেহের কাঠামোই ওকে দশ জনের সমাবেশে সবার থেকে আলাদা করে রাখতো। সবার উপর দিয়ে ওর প্রতি দৃষ্টি আকৃষ্ট হতো সবার। আমাদের বাসায় আসা যাওয়ার পথে একটা জিমনিসিয়াম আছে। কবে যেন ওর মধ্যে জিম করবার নেশা জাগে। শরীরের মাংসপেশিতে নাকি ভাঁজ আনা দরকার তার। চিন্তা অনুযায়ী জিম করা শুরু করে। প্রতিদিন ২-৪ টা ডিম, রাতে ভিজিয়ে রাখা কাঁচা ছোলা, কলা সহ বিভিন্ন আজিব আজিব জিনিস খাওয়া শুরু করে। চিনি নাকি সাদা বিষ তাই চা, কোক সহ চিনি সমৃদ্ধ খাবার পুরোপুরিই ত্যাগ করে। দিনে দিনে এসব নিয়মিত খাবার আর প্রতি সন্ধ্যায় জিমনিসিয়ামে শারীরিক কসরতের ফলে ওর দেহ হয়ে ওঠে কাঁচা সোনা। আগুনের পাশে কীট-পতঙ্গ যেমন ঘুরিঘুরি করে তেমনি ভাইয়ার আশ-পাশেও মেয়েরা লেগে থাকে। আমি ওর প্রথম প্রেমের খবর পাই সম্ভবত ২০১৫ সালে, ওর বয়স তখন আঠারো আমার পনেরোর মতো হবে। তাও জানতাম না হয়তো, জেনেছি কারণ মেয়েটি আমার ক্লাসমেট। মনিপুর কলেজে আমি বোধহয় তখন ৮ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। ভাইয়া হয়তো ইন্টারমিডিয়েট। মেয়েটার সাথে আমার অত ঘনিষ্ঠতা ছিল না। কিন্তু হঠাৎ আমি সহ কলেজে যাবার জন্য ও প্রতিদিন যাওয়ার সময় আমাদের বাসার নিচে আসতে শুরু করে। আশ্চর্য এত বছর তো আসেনি। আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করতাম, ওর গলা শুনলে ভাইয়া যেখানেই থাকুক ছুটে আসতো। ও ছিল কমার্স কলেজের স্টুডেন্ট দিবা শাখার। ওর ক্লাস শুরু হতো ১২ টায়। এ সময় ও সাধারণত বাড়িতেই থাকে। কিন্তু আমার কলেজে যাবার আগে ভালো ভালো জামা প্যান্ট পরে থাকার মানে প্রথম প্রথম না বুঝলেও বুঝতে আমার সময় লাগেনি। ভাইয়া সামনে আসলে মেয়েটাও লাল হয়ে যেত। দিন যত যায় ওর শরীর গড়ে উঠতে থাকে, মেয়েদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। দিনে দিনে ও হয়ে ওঠে মেয়েদের সতীত্বের যম! আমার বান্ধবীরা যারা ওকে দেখেছে সবাই অদ্ভুত এক মুখভঙ্গি করে বলতো তোর ভাই একখান মাল! এরকমও শুনেছিলাম, বন্ধুরা মিলে ফুটপাতে চা খাচ্ছে, একাকী একটা সুন্দরী ওদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। ভাইয়া শিস দেয়। মেয়েটা অগ্নিমূর্তি ধারণ করে এসে কৈফিয়ত চায়। কিভাবে কি যে বললো মেয়েটা পরে ওদের সাথেই বসে চা খেয়ে যায় এবং তাদের মধ্যে প্রেম গড়ে ওঠে। শুধু এতটুকু হলে হতো, সপ্তাহ খানেক যেতে না যেতেই ভাইয়া ডাক পায় মেয়ের ফাঁকা ফ্ল্যাটে। এসব ঘটনা আমাদের গহীন প্রণয়ের পর ভাইয়ার কাছ থেকেই শোনা আমার। শুনে বলেছিলাম, এত এত মেয়ের জীবন যে নষ্ট করেছিস তোর ভয় লাগে না। ও বলেছিল, আমি কারে কি করেছি। মেয়েরা আমার একটু ছোঁয়া পেলে নাকি জীবন ধন্য হয়ে যায়। তুই বল একটা মেয়ের জীবন ধন্য করতে আমার কি কার্পণ্য করা উচিত? যদি আমি কৃপণতা করতাম তুই ধন্য হতি কিসে!
Parent