নতুন জীবন - অধ্যায় ১০
আমাদের ঘরটা ছিলো চার রুমের টিনশেড বিল্ডিং সামনে
বারান্দা। তার সাথে জয়েন করা পূর্ব দিকে রান্না ঘর। বাড়ির উঠান ছিলো অর্ধেক পাকা বাকি উঠান মাটি।
রান্না ঘরের ঠিক সামনে পাকার মধ্যে বটি দিয়ে আম্মু মাছ কাটছে। আমি দাঁড়িয়ে আছি তার থেকে কিছুটা দূরে ডালিম গাছের নিচে। ডালিম গাছটা হলো ঘরের সদর দরজার সামনে। আধা পাকা অনেক গুলো ডালিম গাছে ধরে আছে।
এমন একটা ভাব নিয়ে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি, দেখলে যে কেউ ভাববে আমার উদ্দেশ্য ডালিম পারা। আসলে কি তা ছিলো ?
না. আমি দাঁড়িয়ে আছি এক অমোঘ টানে.
গায়ের রংয়ের সাথে মিলিয়ে আম্মু একটা ফুল হাতা লুজ মেক্সি পড়ে আছে। আর লাল ওড়নাটা হালকা ভাবে মাথায় পেঁচিয়ে গলা পর্যন্ত এনে কাজ করছে।
আমি আম্মুর বরাবর হয়ে উপর দিকে তাকিয়ে আছি। হাতে একটা শুকনো বাঁশের লাঠি। যেন আম্মু মনে করে আমি পাকা ডালিম খুজতাছি। বটির দিকে তাকিয়ে আম্মু মাছ কাটছে.
অপলক তাকিয়ে আছি, মাছের আঁশ ছাড়ানো সময় আম্মুর দুই হাত এদিক ওদিক ঘুরছে। একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকতে ভয় হচ্ছিল সকালের কথা মনে করে, আম্মু যদি আবার দেখে ফেলে আমি তার দিকে পলকহীন তাকিয়ে আছি। তাতে আম্মু যতটা না লজ্জা পাবে তারচেয়ে বেশি লজ্জায় আমি পড়ব।
যদি জিজ্ঞাস করে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
তার কোন জবাব নেই.
এই শংকায় খানিক বিরতি নিয়ে আড় চোখে দেখছিলাম আমার মাদ্রাসায় পড়ুয়া আম্মুর সৌন্দর্য। এই চাওয়া তে পাপ কোন ছিলো কিনা জানি না। তবে অদ্ভুত এক ভালোলাগা ছিলো। ছিলো তীব্র আকর্ষন।
- কয়টা ডালিম পারছিস? আম্মু জানতে চাইলো.
চমকা জিজ্ঞাসা হঠাৎ বুক কাপ দিয়ে উঠল.
চোরের মন যে পুলিশ পুলিশ
- থতমত খেয়ে বললাম, খুঁজে পাচ্ছি নাতো. এ ছাড়া বলার আর কোন কথা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তবে মুখ থেকে যে সত্যিটাই বের হয়েছে.