পল্লী সমাজ - অধ্যায় ৬
মাসাধিক কাল অতিক্রান্ত প্রায়।কোনো পত্র আসিল না।কালেজ পুরাদমে চলিতেছে।নিকটেই পরীক্ষা ।অপূর্বর পড়ায় মন বসে না।
বিজয়া বলিয়াছিল পক্ষকাল মধ্যে সে ভারতীর পিতার মত জানিয়া পিত্রালয় গিয়া তাহার ভ্রাতাকে জানাইবে।তবে কি ভারতীর পিতা অরাজী হইলেন।তবে কি ভারতীর মাকে মাধব পিসার ;.,ের কথা মনে করাইয়া দিয়া ,শ্বাশুড়ী বিজয়াকে অপমান করিল? আজ মনে মনে অপূর্বও মাধবকে মাচোদা বলিয়া গালি দিযা ফেলিল ।
কালেজ হইতে মেসে ফিরিয়া রোজ পোস্টবক্স খুলিয়া দেখে।কোনো পত্র আসে না।হতাশ অপূর্ব স্থির করিল বিজয়াকে এইবার একখানা পত্র দিবে। মনের দুশ্চিন্তা আর কতকাল চাপিয়া রাখা যায় ।
এর দুই দিনের মধ্যেই অপূর্ব কালেজ হইতে ফিরিয়া পোস্ট বক্সে তাহার পত্র আবিষ্কার করিল।কোন মতে দৌড়াইয়া দ্বিতলে তাহার ঘরে ঢুকিয়া পাঠ্যপুস্তক একদিকে ছুড়িয়া ফেলিয়া পত্রটি খুলিল। নিশ্চয় ভালো খবর হইবে।
স্নেহের অপু,
বিজয়ার নিকট হইতে অবগত হইলাম,গত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে তুমি উহার বাটিতে বন্ধুবর্গ লইয়া ছুটি কাটাইয়াছ । ভালই করিয়াছ।কাজের চাপে দীর্ঘদিন বাজিতপুর যাওয়া হয় নাই।
বিজয়া তোমার বিবাহের জন্য একটি কন্যার প্রস্তাব লইয়া আসিয়াছিল।আমার অভিজ্ঞতা বলে কন্যাটি তোমার পছন্দ।তুমিই বিজয়াকে আমার নিকট পাঠাইয়াছ ।
তুমি নিশ্চয় অবগত আছ ইতিপূর্বে চারিজন কন্যাদায়গ্রস্ত ভদ্রলোক আমায় তোমার বিবাহ বিষয়ে প্রস্তাব দিয়াছিলেন।তাঁহারা প্রত্যেকেই বর্ধিষ্ণু এবং সম্মানীয।আমি তাঁহাদের সহিত আলোচনা করিব বলিয়া কথাও দিয়াছিলাম ।কিন্তু তোমার আইন পাশ না করিয়া বিবাহ করিবার পণ আমায় তাঁহাদের নমস্কার করিয়া ফিরাইয়া দিতে হইয়াছে।
তাহাতে আমার সম্মানও ক্ষুণ্য হইয়াছে ।
এখন বিবাহে যখন তোমার অসম্মতি নাই ,অতঃপর ভদ্রলোকদের সহিত প্রাথমিক ভাবে আলাপ করা যায় বলিয়াই মনে করি।
বিজয়ার প্রস্তাব নিয়া এখন কিছু ভাবিবার নাই । ইহা শুধু আমার নয়, তোমার পিতামহ,পিতামহী এবং তোমার মাতাদেরও এই মত বলিয়া জানিও।
শরীরের যত্ন নিও ,ঠিক মত খাওয়াদাওয়া করিও।নিয়মিত অধিক রাত্রি জাগিও না।তোমার মতামত জানাইয়া পত্র দিও।
ইতি,
তোমার বাবা
রুদ্র নারায়ন চৌধুরী। জমিদার,কৃষ্ণপুর।
ক্রোধ ও হতাশায় অপূর্ব পত্রখানি শতখণ্ডে ছিঁড়িয়া ফেলিয়া শয্যায় উপুড় হইল।চক্ষু জলে ভিজিয়া উঠিল।