পরিমার্জিত পুরনো অজাচার গল্প - অধ্যায় ১৬
ও নিজে ডাক্তার তাই মানসিক অবস্থা টাকে কাটানর জন্য ও পামেলা কে প্রপোজ করেছিল। পামেলা সময় চেয়েছে ওর দিকে চেয়ে হেসে। কিন্তু ও পামেলার থেকে বেশি ভাবে নিজের মা কে। শুধু সেই সব কারনেই নয়। ওর মা ওর কাছে একশ শতাংশ বললেও কম বলা হয়। কিন্তু মাকে ওর খারাপ চিন্তা টাকে ও মনে স্থান দিতে চায় না। ও জানে এটা খারাপ। ও খুব এ পরিনত মনের ছেলে। কিন্তু এই ব্যাপার টা থেকে ও বেরিয়ে আসতে পারছে না। এখন তাই মাকে দেখলেই ওর মনে একটা পাপ বোধ জাগে। জানে ওর মা ওকে পাগলের মত ভালবাসে। কিন্তু তাই বলে ও এই সব কল্পনা কে প্রশ্রয় দিতে পারবে না নিজের মনে। তাই বলে সব সময়ে ওর এটা মনে হয় তাই না। তিমির ওর মা কে যে কত ভাল বাসে সেটা ও নিজেই জানে না। মা ছাড়া তার জীবন টা অন্ধকার। সে আর ভাবতে পারে না। বাথরুমে গিয়ে মাকে চিন্তা করে নিজের টেনশন কম করে ঘরে ঢুকে পড়াশোনায় মন দেয়। কালকে একটা ক্লাস টেস্ট আছে। দিয়েই সে বাড়ি যাবে।
– যূথী নে মা নে। তাড়াতাড়ি চল মা বাড়ি। তোর দাদা চলে এলে বাড়ি বন্ধ দেখলে ক্ষেপে যাবে। সন্ধ্যে হয়ে এল। তৃপ্তি ছেলে মেয়েকে নিয়ে একটু নদীর এ পারে এসেছিল বাজার করতে। আজকে ছেলে আসবে। ভাল মন্দ একটু খাওয়াবে তাই।
– অহহহহ মা। তুমি অকারনে ব্যাস্ত হচ্ছ। দাদাভাই এর আসার সময় হয়নি এখনও।
– তুই খুব জানিস চল। তৃপ্তি মেয়ের পিঠে একটা ছোট চাপড় মেরে বলল।
– মা তুমি দেখো কটা বাজে। সবে পাঁচ টা। দাদাভাই আটটার আগে কোন দিন আসে না। মা তুমি বলে দিয়েছিলে তো দাদাভাই কে আমার ড্রইং বই আনতে?
– হ্যাঁ রে বাবা। ছেলেটাই আমার এল না এখনও আর ওর আঁকার বই এর চিন্তা। চল এখন। যূথীর মুখ ভার হয়ে গেল। তৃপ্তির এখন এই সব ভাবার সময় নেই। এই নৌকা টা না পেলে সেই এক ঘণ্টা বাদে আবার। তাই সে তাড়া দিয়ে মেয়েকে নিয়ে এল ঘাটে। এসে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। নৌকা এখনও যায় নি। সে উঠে বসল।
– ও তৃপ্তি মিস। তৃপ্তি ঘুরে দেখল ওর ইকলেজের এক ছাত্রের মা। তৃপ্তি মেয়ের হাত ধরে ছেলেকে কোলে নিয়ে, নৌকার মাঝে রাখা সাইকেল গুলো পেরিয়ে ওই মহিলার কাছে এল। এসে জিগ্যাসা করল
– কেমন আছেন? সুহৃদ দু দিন আসে নি কেন কলেজে?
– ওর শরীরটা খারাপ মিস। আপনি এ পারে কি ব্যাপার?
– আমার ছেলে আসছে গো আজকে। তাই একটু ভাল মন্দ বাজার করতে এসেছিলাম।
– ওমা তিমির আসছে? সত্যি মিস আপনি রত্নগর্ভা। কথাটা শুনে তৃপ্তির বুক টা যেন ভরে গেল। ও বলল
– দেখুন না হাঁসের ডিম পেলাম না।
– ওমা!! আপনি নেবেন? আমি গোটা দশেক কিনেছি। আপনি পাঁচটা তিমিরের জন্য নিয়ে যান।
– ওমা না না। তা কি করে হয়?
– কেন হয় না। অমন ছেলে কটা হয়।
– আমি কিন্তু পয়সা দেব।
– বেশ বেশ। ও খেতে পাবে এটাই অনেক।
তৃপ্তি নৌকা থেকে নেমে ভাবল যাক বাবা পেয়ে গেছি হাঁসের ডিম ও। চিন্তা নেই আর। ও তিন দিন কি রান্না করবে সব ভেবে নিয়েছে। ও যেন একটু বেশিই ভাবে তার ছেলেকে নিয়ে। লোকে বাঁকা কথা বলে। ছেলে যেন আর কার হয় না। বলুক ওরা। ও তাড়াতাড়ি চাবি খুলে ঘরে ঢুকল। ও চশমা তা খুলে রেখে যূথী কে বলল
– ভাই কে দেখিস। আমি উনুন টা ধরিয়ে নি। সন্ধ্যে টা একটু দিয়ে দিবি মা আমার।
– না। আমার ভাল লাগে না
– দিয়ে দে না সোনা মা আমার।
– ধুর বাবা ভাল লাগে না। বলে চলে গেল ভাই কে ঘরের মেঝে তে বসিয়ে। তৃপ্তি মেয়ের রাগ দেখে হেসে বাঁচে না। ও তাড়াতাড়ি করে শাড়ি টা ছেড়ে আটপৌরে শাড়ি টা পড়ে নিল। নিজের পায়ের গোছ অব্দি লম্বা মোটা বিনুনি টা তুলে ধরে একটা বিশাল খোঁপা করে নিল। শারির আঁচল টা কোমরে গুঁজে উনুন ধরাতে বসে গেল। রান্না বান্না সেরে ও এল একবার ঘরে দেখতে কি করছে ছেলে মেয়েটা। কি রে পড়ছিস?
– হুম্মম্ম। যূথী জবাব দিল পাশে শুয়ে থাকা ভাই এর ছোট ছোট হাত গুলো ধরে চুমু খেয়ে।
– আবার ভাই কে নিয়ে তোর পড়া? আমি কিন্তু দাদাভাই কে পড়া ধরতে বলব যূথী।
– হ্যাঁ বোলো যাও। আমার সব তৈরি। মা দাদা যদি আমার জন্য ড্রইং কপি না আনে আমি কিন্তু আজকে খাব না বলে দিলাম
– আনবে রে বাবা। তৃপ্তি কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে জবাব দিল।– তুই এখন পড় তো।
– মা আটটা তো বেজে গেল। দাদাভাই এখনও এল না কেন?
– সেই তো দেখছি। কি জানি কিছু তো বলে নি আসব না বলে। ঠিক সেই সময়ে বাইরের থেকে আওয়াজ এল। কই রে কালি ( যূথী কে রাগায় তিমির ওই নামে)
– ওই দ্যাখ মা। এসেছে। তৃপ্তি তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এল। দেখল ছেলে ঘরে ঢুকে পড়েছে। প্রথমেই মাকে প্রণম করে সে বোনকে গালে চুমু খেয়ে ছোট ভাইকে কোলে নিল।
– কি রে এসেই? একটু রেস্ট নে না। এই নে। বলে শরবতের গ্লাস টা এগিয়ে দিল তিমিরকে। তিমির শরবত টা ঢকঢক করে খেয়ে ভাই কে খানিক চুমু খেয়ে নিল।
– ওমা!!
– কি বল। তৃপ্তি রান্না ঘরে যেতে গিয়ে ফিরে দাঁড়াল।
– বলছি যে কালির জন্য একটা জিনিস আছে আমার ব্যাগ থেকে বের করে দাও না।
– দিচ্ছি ওর ই বা অতো তাড়া কিসের। ধিঙ্গি মেয়ে। দাদা এল কোথায় একটু বসতে বলবে তা না। এসেই নিজের জিনিসের খোঁজ। – – তুই হাত মুখ ধুয়ে নে। আমি মুড়ি দিচ্ছি খা।
– দাও খুব খিদে পেয়েছে। তৃপ্তি ছুটে গেল রান্না ঘরে। বেসন মাখাই ছিল। আলু কাটাই ছিল। তাড়াতাড়ি করে ভেজে নিয়ে থালায় মুড়ি বেড়ে মেয়েকে ডাকল।
– যূথী।।
– কি? যূথী সাড়া দিল ঘর থেকে।
– দাদাকে মুড়ির থালা টা দে মা আমার। যূথী এসে থালা নিয়ে গেল।
– কুঁজো থেকে জল গরিয়ে দিস দাদাকে। চেঁচিয়ে বলল তৃপ্তি। কলের জল দিস না।
– বেশশশশশশ…