রুমেল ও রোমানার গল্প - অধ্যায় ২
রোমানা তার ঘরে এসে বিছানায় শুয়ে পড়লেন, দুপুরে খাওয়ার পর তিনি একটু ঘুমান ৷ সকালে যেমন হিজাব পরে তিনি উঠানে হালকা হাটেন তেমনি এটাও তার ডেলি কাজের মধ্যেই পড়ে, রোমানা খুবি পর্দাশীল ৷ এ ঘর করার আগে বাড়ির পুকুরে গোসল করতে যেতেন কিন্তু ঘর করার পর গোসলখানাতেই গোসল করেন ৷ ঘরেও তার চালচলন শালীন ৷ মির্জাবাড়ির বৌদের মধ্যে তারমতো রুচিশীল আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অন্য কেউ নেই ৷
সেদিন রমিজের চাচাতো ভাইয়ের শ্বাশুড়ী ঘরে এসে রোমানাকে দেখে বললো,
—এই মেয়ে তোমার মা কে ডেকে দাও ৷
তখন রোমানা মিষ্টি হাসিদিয়ে বললেন, আপনি কাকে খুজছেন,
—রমিজ মির্জার বৌটাকে একটু দেখতাম ৷ মেয়ের বিয়ের সময় এসেছিলাম কিন্তু তখন ভালো করে খোজ নেওয়া হয়নি ৷
মুখে হাসি রেখেই রোমানা বললেন
-আমিই ওনার স্ত্রী
মহিলা যেনো আঁকাশ থেকে পড়লো, নিজেই ধোকা খেয়ে গেলেন, তারপর তিনিও হাসতে লাগলেন ৷
রোমানা এসব খুবই উপভোগ করে যখন কেউ তার সৌন্দর্যের তারিফ করে ৷
ইদানিং রোমানা আক্তার খুব-ই যৌন কাতর হয়ে পড়েছেন, স্বামীকে কখনও মুখফুটে কিছু বলতেও পারেন না, কারন তার সংসার এবং শরীর এমন যে স্বামী ইচ্ছে হলে ভোগ করবে না হলে ফেলে রাখবে ৷
গোসলের সময় হালকা ডলাডলি করেলে তার কামনার আগুন যেনো আরো বেড়ে যেতো ,
এসব ভুলে থাকার জন্যে রোমানা ইবাদাত বন্দেগী বাড়িয়ে দিয়েছে, হয়তো এসব শয়তানের কারসাজি ৷
৩
রমিজ বাজারে আসতেই দেখলো, তার স্বাদের পার্টি অফিস জলে যাচ্ছে আগুনে ৷
কেউই বলতে পারেনা কে এই কাজ করেছে ৷ এমপির লোকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার জন্যে রমিজ মির্জা লোকজন নিয়ে থানায় গেলেন,
ডিউটি অফিসার ছিলো মুস্তফা দারোগা, পুরোই এমপির চামচা,বেটা টাকা খেয়ে খেয়ে ভুরি ফুলিয়েছে ৷
মুস্তফা কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছাড়া মামলা নিবে না ৷ অনেক বলে কয়ে তখন অভিযোগ দায়ের করে রমিজ মির্জা বাজারে ফিরলো ৷
বাজারে রমিজ মির্জার অনেক গুলো ভিটি ছিলো, কিছু তিনি দিয়েছেন আড়তদার দের আর একটা ভিটি নিজের জন্যে রেখেছেন,
মাঝে মাঝে বসেন দলীয় লোকদের নিয়ে,
সেখানে বসে ছিলেন মাওলানা সাদেক সাহেবের সাথে,
এদিকে উড়োউড়ো খবর পাচ্ছে রুমেলও নাকি এই কাজে জড়িত ৷ যদিও কেউই সামনে এসে বলছেনা ৷ দলের কিছু কর্মীকে মারধর করেছে, তারাও বলছে ভয়ে এবং আত্মরক্ষার তাগিদে তারা কিছুই খেয়াল করেনি, তবে কিছু নেকাবধারী এসে তাদের স্টিক দিয়ে প্রথমে মারধর করে বের করার পর নাকি আগুন জ্বালিয়ে দেয় অফিসে! কি সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার !
রমিজ মির্জা আর সাধারণ সম্পাদক মোওলানা হাজী সাদেক সাহেব বিষয়টা নিয়ে চিন্তামগ্ন হয়ে পড়লেন ৷ এলাকাটা সহিংস হয়ে পড়ছে ৷
— রমিজ ভাই, বিষয়টা ঠিক হয়নি, এভাবে তারা আমাদের অফিসে আগুন জ্বালিয়ে দিলো ৷ মানুষদের মারধর করলো,
শেষ জামানার আলামত দেখতে পাচ্ছি ৷
মানুষ হানাহানিতে মেতে উঠছে ৷ নামাজ কালাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে ৷
—কিন্তু দেখেন শুক্র বারে ঠিকই মসজিদে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না ৷ মালিক এদের হেদায়াত দান করুক ৷
একথা বলতে বলতে একখিলি পান মুখে পুরে দিলো রমিজ মির্জা ৷
দুপুরের কান্ডের পর থেকে এমপির বাড়িতেই ছিলো রুমেল সহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা,
এমপি রেজাউল চৌধুরী রুমেলের কাজে খুবই সন্তুষ্ট, এবং তার নেকাবের ব্যাপারটা শুনে তাকে খুবই বাহাবা দিলেন ৷ খাওয়াদাওয়ার পর এমপি রুমেলকে ডাকলেন,
—আমার ওলিপুরের সবগুলো ভোট চাই যেভাবেই হোক,
আমি জানি তুই পারবি রুমেল ৷
এটা রাখ তোরা চা নাস্তা করিস ৷
রেজাউল চৌধুরী ৫শের একটা বান্ডেল রুমেলের হাতে দিলেন ৷
—রুমেল থাকতে ওলিপুরের কেন্দ্র নিয়ে কোনো চিন্তাই করতে হবে না চাচা ৷
রুমেল রেজাউল করিমকে চাচা বোলে সম্বোধন করতো,
অনেক কাছের লোকছিলো তাই ৷
রুমেল তার পোলাপান নিয়ে বের হয়ে আসলো এমপির বাসা থেকে ৷
সবগুলো বাইক নিয়ে আবার কলেজের দিকে রওনা দিলো,
ওলিপুর কলেজে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে রুমেল, পড়া লেখা তো সুধু বাহানামাত্র ছাত্র রাজনীতির জন্যে ৷
রুমেল সহ পিপলু, জনি, রন্টু সবগুলো ক্যাম্পাসের পেছনে গিয়ে গাজা টানলো কিছুক্ষণ,
মাথাটা কেমন পরিষ্কার হয়ে গেলো!