SON LIFE- ছেলের জীবন - অধ্যায় ১
মমতার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো খবর টা শুনে.. হায়! ওপর ওয়ালা একি হয়ে গেলো আমার সাথে.. এবার আমার কি হবে..
হায় হায়...!!
স্বামি সন্তান নিয়ে সুখের সংসার মধ্যে বয়সি মমতার, খুব বেশি টাকা পয়সা না থাকলেও ওর সুখের অভাব নেই।
দুটো ছেলে সন্তানের মা তিনি.. বয়স চল্লিশ। তেরো বছর বয়সে স্বামির ঘরে এসছিলেন। পনেরো বছর বয়সে মা।
স্বামি মমতা কে খুব ভালোবাসে। সেই প্রথম থেকে। মামুন.. মমতার বড় ছেলে। ছোট বেলা থেকেই ওর পড়াশোনায় মনোযোগ না। ইন্টার পর্যন্ত অনেক কষ্টে পড়িয়েছে মমতা।
তার পর ঢাকায় চলে যায়। এখন গার্মেন্টস এ চাকরি করে।
ভালো বেতন পাচ্ছে। বছরে তিন চার বার বাড়িতে আসে।
মমতার ছোট ছেলের নাম আগুন। মমতার আদরের সন্তান। মা বাবার বাধ্য সন্তান আগুন। ছোট বেলা থেকে পড়াশোনায় সব সময় ফাস্ট হয়েছে।
এই বছর মাধ্যমিক দিয়ে গোল্ডেন পেয়েছে। উচু লম্বা বডি ফিটনেস নায়ক দের মতো..
আগুনের ছোট বেলার সপ্ন ও সেনাবাহিনী হবে। কিন্ত মমতা মানতো না। ছেলে এতো ভালো পড়ালেখায়। পড়া শেষ করলেই, অনেক ভালো ভালো চাকরি পাবে। সেখানে সেনাবাহিনী তে কামলার মতো কষ্ট। যেটা মমতার পছন্দ না।
কিন্ত হায় কপাল, ছেলের জেদের কাছে মমতার মায়ের মন হেরে যায়৷ আগুন খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিলো। ওকে সেনাবাহিনী তে দাড়াতে না দিলে ও আর খাবেই না।
এটা কি কোনো মা সহ্য করতে পারে..?
মমতাও পারলোনা.. ছেলের কথায় রাজি হলো। পরের সার্কুলারে আবেদন করলো।
আজকে সেই সার্কুলারের মাঠ ছিলো।
সকালে মমতার স্বামি জয়নাল মোড়ল। ছেলেকে নিয়ে রওনা দিয়েছিলো। যশোরের উদ্দেশ্য, সেখানেই ছেলের মাঠ।
মমতার সারাদিন চিন্তায় ছিলো, কি আছে ওর ছেলেটার ভাগ্য..!!
কিন্ত মমতার স্বাভাবিক চিন্তাটা দুশ্চিন্তায় রুপান্তরিত হলো।
ওকে একটা অচেনা নম্বর থেকে জানানো হলো.. ওর স্বামি সন্তান যশোর সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে...
স্বামির মোটরসাইকেল একটা ট্রাকের সাথে সরাসরি সংঘর্ষ হয়েছে।
মমতার দিন দুনিয়া চক্কর দিয়ে উঠলো.....
জোরে একটা চিৎকার দিয়ে মাটিতে বসে পড়ে..
.
.
to be continue