কাশীপুরের কান্ড - অধ্যায় ৩৭
অধ্যায় ৩৬ : অপেক্ষা
সেদিন রাতেও রতন ঘুমিয়ে ছিল।
বাইরে কুয়াশা।
দূরে কোথাও শেয়ালের ডাক।
সবকিছু নীরব।
কিন্তু সেই নীরবতার গভীরে…
আরেকটা জাগরণ ছিল।
⸻
অন্ধকার।
অন্তহীন অন্ধকার।
⸻
আর সেই অন্ধকারের মধ্যে বহু বছরের পুরোনো এক স্মৃতি।
⸻
মানুষের মুখ।
গ্রামের লোক।
কারও কৃতজ্ঞতা।
কারও ভয়।
কারও সন্দেহ।
⸻
একটা ভাবনা ভেসে উঠল।
“আমি তাদের রক্ষা করেছিলাম…”
⸻
আরেকটা।
“আমি আগুনের কথা আগেই বলেছিলাম…”
“আমি রোগের কথা জানিয়েছিলাম…”
⸻
স্মৃতিগুলো এল।
আবার মিলিয়ে গেল।
⸻
তারপর সেই ভাবনার ভেতরে ধীরে ধীরে জমতে লাগল ক্ষোভ।
⸻
“তবু তারা ভয় পেল।”
“তবু তারা আমাকে বেঁধে রাখল।”
⸻
অন্ধকার যেন একটু কেঁপে উঠল।
⸻
এক মুহূর্তের জন্য একটা নারীমুখ ভেসে উঠল।
অস্পষ্ট।
ধোঁয়ার মতো।
⸻
সঙ্গে সঙ্গে সেই কণ্ঠস্বর বদলে গেল।
আরও কঠিন।
আরও ঠান্ডা।
⸻
“সেই একটি ঘটনার জন্য…”
“সবকিছু হারাতে হয়েছিল।”
⸻
নীরবতা।
⸻
তারপর আবার ধৈর্য।
⸻
কারণ সে জানে—
এখনও সময় আসেনি।
⸻
শক্তি এখনও অসম্পূর্ণ।
⸻
বন্ধন এখনও পুরো ভাঙেনি।
⸻
আর যে কাজ সে করতে চায়…
তার জন্য বিশেষ এক রাত দরকার।
⸻
তাই সে অপেক্ষা করবে।
⸻
খুব ধৈর্য ধরে।
⸻
আর ততদিন…
সে দেখবে।
শিখবে।
মনে রাখবে।
⸻
রতনের চোখ দিয়ে।
রতনের কানে।
রতনের জীবনের ভেতর দিয়ে।
⸻
ভোর হওয়ার আগে শেষবারের মতো সেই চিন্তাটা জেগে উঠল—
“সময় আসবে…”
“আমি অপেক্ষা করতে পারি…”