কাশীপুরের কান্ড - অধ্যায় ৩৮

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74150-post-6242784.html#pid6242784

🕰️ Posted on Fri Jun 19 2026 by ✍️ Toxic boy (Profile)

🏷️ Tags:
📖 566 words / 3 min read

Parent
অধ্যায় ৩৭ : যে চোখে প্রাণীরা দেখে শীতের সকাল কেটে দুপুর গড়িয়ে বিকেল। কাশীপুর গ্রামের ওপর একটা অলস নীরবতা নেমে এসেছে। ⸻ কলেজ ছুটি হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। ⸻ রতন একাই ফিরছে। ⸻ সিবু আজ মামার বাড়ি গেছে। কার্তিকও অন্য পথে। ⸻ ধান কাটা হয়ে যাওয়া মাঠের পাশ দিয়ে মাটির সরু রাস্তা ধরে হাঁটছে সে। ⸻ হাওয়ায় শুকনো খড়ের গন্ধ। ⸻ দূরে কয়েকটা সাদা বক জমির ওপর দাঁড়িয়ে। ⸻ সবকিছু স্বাভাবিক। ⸻ অথচ আজ সারাদিন রতনের মনটা কেমন অস্থির। ⸻ কারণ ছাড়াই। ⸻ রাস্তার মোড় ঘুরতেই সে একটা কুকুরকে দেখতে পেল। ⸻ গ্রামেরই কুকুর। ⸻ হলদে-বাদামি রঙ। ⸻ চোখের নিচে পুরোনো একটা দাগ। ⸻ রতন তাকে আগেও দেখেছে। ⸻ কুকুরটাও সাধারণত মানুষ দেখলে লেজ নাড়ে। ⸻ কিন্তু আজ… ঘটল অন্য কিছু। ⸻ কুকুরটা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল। ⸻ তারপর রতনকে দেখল। ⸻ এক সেকেন্ড। ⸻ দুই সেকেন্ড। ⸻ তিন সেকেন্ড। ⸻ হঠাৎ কুকুরটার শরীর শক্ত হয়ে গেল। ⸻ লেজ ধীরে ধীরে পায়ের ফাঁকে ঢুকে গেল। ⸻ কান দুটো মাথার সঙ্গে লেগে গেল। ⸻ চোখে অদ্ভুত আতঙ্ক। ⸻ যেন সে এমন কিছু দেখছে যা মানুষের চোখে ধরা পড়ে না। ⸻ রতন থেমে গেল। ⸻ — এই? ⸻ সে ডাক দিল। ⸻ কুকুরটা কুঁই কুঁই করে পিছিয়ে গেল। ⸻ আর তারপর… এক ঝটকায় দৌড়ে পালাল। ⸻ যেন মৃত্যুকে দেখে ফেলেছে। ⸻ রতন কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইল। ⸻ বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি। ⸻ কষ্ট নয়। ⸻ ভয়ও নয়। ⸻ বরং… অচেনা এক পরিচিতি। ⸻ যেন এই দৃশ্য সে আগেও দেখেছে। ⸻ অনেকবার। ⸻ অনেক বছর আগে। ⸻ তার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটা হাসি ফুটে উঠল। ⸻ খুব ক্ষীণ। ⸻ খুব ছোট। ⸻ তারপরই হাসিটা মিলিয়ে গেল। ⸻ রতন নিজেই বুঝতে পারল না কেন হাসল। ⸻ সে আবার হাঁটতে শুরু করল। ⸻ কিন্তু তার ভেতরের অন্ধকারে… একটা স্মৃতি জেগে উঠেছিল। ⸻ একটা বহু পুরোনো স্মৃতি। ⸻ রাত্রি। ⸻ আগুনের আলো। ⸻ গাছের ছায়া। ⸻ আর কয়েকটা কুকুর। ⸻ তারা দূরে দাঁড়িয়ে কাঁপছে। ⸻ কারও সাহস হচ্ছে না কাছে আসার। ⸻ সেই স্মৃতির গভীর থেকে একটা ভাবনা ভেসে উঠল। ⸻ “ওরা আগে থেকেই বুঝত…” ⸻ “প্রাণীরা সবসময় আগে বুঝে।” ⸻ তারপর আবার অন্ধকার। ⸻ আবার নীরবতা। ⸻ সন্ধ্যার দিকে রতন বাড়ি পৌঁছল। ⸻ প্রতিমা উঠোনে ধোয়া কাপড় মেলছিলেন। ⸻ রমাপদ এখনও ফেরেননি। ⸻ সব আগের মতো। ⸻ তবু আজ রতনের মনে হচ্ছে— কেউ যেন তাকে লক্ষ করছে। ⸻ কোথা থেকে? ⸻ সে জানে না। ⸻ সেই সময়… গ্রামের অন্য প্রান্তে। ⸻ শিবমন্দিরের চাতালে বসেছিলেন হরিঠাকুমা। ⸻ হাতে জপমালা। ⸻ কিন্তু আজ তার মন জপে নেই। ⸻ সকালের পর থেকে বুকের ভেতর অকারণ একটা অস্বস্তি। ⸻ হঠাৎ মন্দিরের সামনে একটা কালো কুকুর এসে দাঁড়াল। ⸻ কুকুরটা কয়েক মুহূর্ত রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইল। ⸻ তারপর ধীরে ধীরে কুঁই কুঁই শব্দ করল। ⸻ আর মন্দিরের সিঁড়ির নিচে শুয়ে পড়ল। ⸻ যেন আশ্রয় চাইছে। ⸻ হরিঠাকুমা কাঁপা হাতে কুকুরটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। ⸻ তারপর খুব আস্তে বললেন— “তুইও কি টের পাচ্ছিস রে?” ⸻ কুকুরটা মাথা তুলল না। ⸻ শুধু চোখ বন্ধ করল। ⸻ সেই রাত। ⸻ রতন ঘুমিয়ে। ⸻ বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে। ⸻ বাইরে কুয়াশা। ⸻ দূরে শেয়ালের ডাক। ⸻ আর গভীর অন্ধকারে… কেউ একজন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে। ⸻ শক্তি এখনও অসম্পূর্ণ। ⸻ বন্ধন এখনও পুরো ভাঙেনি। ⸻ তবু আজকের ঘটনায় সে খুশি। ⸻ কারণ বহু বছর পরে আবার একবার নিশ্চিত হলো— ⸻ প্রাণীরা এখনও তাকে চিনতে পারে। ⸻ আর যেদিন মানুষও চিনতে শুরু করবে… সেদিন হয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে। ⸻ বটগাছটার কালো ছায়া দূরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল। ⸻ কিন্তু তার শিকড়ের গভীরে… কোথাও যেন অদৃশ্যভাবে আরেকটা বন্ধন একটু আলগা হয়ে গেল।
Parent