নতুন জীবন - অধ্যায় ২

Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-28399-post-2139158.html#pid2139158

Posted on Sun Jul 05 2020 by ariadk26 (Profile)

Tags:romance
873 words / 4 min read

Parent
ঈদ এর ২ দিন পর আপুকে নিয়ে আমরা আপুদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আমাদের বাড়ি থেকে আপুদের বাড়ি প্রায় ১০ কিমি। উদ্দেশ্যও আর ২ দিন পর আমার অফিস খুলে যাবে। আপুকে এখানে রেখে তাদের বাসায় ১ দিন থেকে আমি আর সায়মা আমাদের বাসায় চলে যাবো। যথারিত আমি আর সায়মা চলে যাওয়ার সময় সায়মা আপুকে ছারা যাবে না সেই কান্না শুরু আপুর ও দেখি চোখে পানি সায়মাকে বিদায় দিতে। পরে অনেক কষ্ট করে সায়মাকে বুঝায় আমি আর সায়মা ঢাকা রওনা দিলাম। বাসায় আসার পর সায়মার চোখেও পানি আমার চোখেও পানি। এ যেন আমরা মরুভূমিতে পরলাম। সায়মাকে খাওয়াতে খুব কষ্ট হয়েছে। খাওয়ার সময় ওয় শুধু ওর আম্মু বা মানি ( সায়মা তানিয়া আপুকে মানি বলত ) কে খোজে। ওইদিন ২ জন কোনও রকম হাল্কা খেয়ে সুয়ে পরলাম। পরেরদিন আমার অফিস এ যেতে হবে এখন সায়মাকে কোথায় রেখে যাই টেনশন এ পরলাম। পরে উপায় না পেয়ে ওকে নিয়েই অফিস এ গেলাম। ওইদিন অফিস করে বস এর কাছ থেকে ১০ দিনের ছুটি নিলাম কারণ আম্মুর সরকারি চাকরি, ভাইয়ার চাকরি, আব্বুর দোকান এই গুলার কোনটারই কোনও ব্যবস্থা করা হয় নাই। এইগুলার একটা ব্যবস্থা করতে হবে। ওইদিন সারাদিন সায়মা আমার সাথেই ছিল আর বলতেছিল মানি যাবো মানি যাবো। কোনমতে অফিস শেষ করে ওইখান থেকেই সায়মাকে নিয়ে তানিয়া আপুর বাসায় চলে গেলাম। তানিয়া আপুদের বাসায় পৌছাইতে আমাদের সন্ধ্যা হয়ে গেল। সায়মা তানিয়া আপুকে পেয়ে যেন ওর জান ফিরা পেল আর তানিয়া আপু ও মনে হয় অপেক্ষায় ছিল সায়মা কখন তার কাছে যাবে। সায়মার খুশি দেখে আমি সস্থির নিশ্বাস ফেললাম। ওইদিন রাত ওইখানে থেকে পরের দিন সকালে আমি সায়মাকে তানিয়া আপুর কাছে রেখে আবার ঢাকায় রওনা দিলাম। কারণ আমার এখন বাকি জিনিস গুলো ঠিক করতে হবে। তার জন্য আমার অনেক দৌড়াদৌড়ি করতে হবে সায়মা কে সাথে নিয়ে অত দৌড়ানো ঝামেলা হবে আর সায়মা ও তার মানির কাছে যেতে চাচ্ছিল তাই সায়মে কে তার কাছে রেখে আমাই আবার আসলাম। পরের ৭ দিন আমার খুব দৌরের উপর গেল। আম্মুর সরকারি চাকরির পেনসন এর টাকা উঠাতে অনেক দৌড়াদুড়ী করতে হলো। তারপর আব্বুর দোকান এর মালসহ ছারাতে হবে সাথে এডভান্স এর টাকা ও ব্যাক নিতে হবে। তারপর আবার ভাইয়ার অফিস থেকে কিছু এক কালীন টাকা পাবে সায়মার জন্য। এই সব দৌড়া দুরী তে আমার প্রায় ১৫ দিন লাগলো। অফিস থেকে পরে আরও ১০ দিন এর ছুটি এড করেছিলাম। বস আমার সিচুয়েসন জানতো আর খুবি ভালো লোক ছিল তাই আর ছুটি দিতে কোন আপত্তি করে নাই। ১৫ দিন এর মদ্ধে সব কাজ শেষ করলাম। আম্মুর অফিস থেকে পেনসন এর পুরো টাকা একবারে উঠায় নিলাম প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। ভাইয়ার অফিস থেকে সায়মার জন্য দিলো ১০ লক্ষ টাকা, আর আব্বুর দোকান এর মাল ছাড়াইয়া এডভান্স এর টাকা সহ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পেলাম। সব মিলে প্রায় ১ কোটি টাকা হলো। সব টাকা আমার ব্যাংকে রেখে পরের দিন চলে গেলাম আবার তানিয়া আপুদের বাসায়। কারণ আমার জানেই টুকরা সায়মা কে তার কাছে রেখে আসছি। এই কয়দিন দেখতে পারি নাই ঠিক আছে কিন্তু রেগুলার ফোনে কথা হয়েছে ওর সাথে। আমি তানিয়া আপুর নাম্বার এ কল দিতাম তার সাথে টুকটাক কথা বলে সায়মার সাথে কথা বলে আবার তার সাথে কথা বলতাম, তার কাছ থেকে সায়মার সকল খোজ খবর নিতাম সায়মার কি লাগবে না লাগবে তার কি লাগবে না লাগবে খোজ খবর নিতাম। এই কয়দিন সারাদিন কাজ শেষ করে যখন রাতে পাশায় আসতাম তখন রাত ভর চিন্তা করতাম আমি একা সায়মাকে কিভাবে মানুষ করবো। সায়মাকে মানুষ করতে সাথে একজন মেয়ে মানুষ লাগবে, তার জন্য আমাকে বিয়ে করতে হবে। কিন্তু আমার বউ যদি সায়মাকে আদর যত্ন না করে, যদি সায়মার সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাহলে তো সায়মা কষ্ট পাবে আবার ও অন্য কারো কাছে থাকবে কিনা সেই টেনশন ও ছিল। কারণ তখন ওর দুনিয়ায় আমি আর ওর মানি ছারা কেউ নেই। এই চিন্তা করতে করতেই আমার দিন কাটত। একদিন রাতে হটাত মাথায় আসলো আচ্ছা আমি যদি তানিয়া আপুকেই বিয়ে করি তাহলে কেমন হয়। সায়মা ও তানিয়া আপুকে চায়, আপু ও সায়মাকে চায়, আপু আমার দিকে ও খেয়াল রাখে। আপু সম্পর্কে আমার খালতো বোন, বিধবা, বয়সে ইক্টু বড় কিন্তু ইসলাম এর দিক থেকে তাতে কোন সমস্যা নাই। আইনগত ভাবে ও আপুকে আমি বিয়ে করতে পারবো যদি আপু রাজি হয়। এখন বড় চিন্তা এখানেই আপু বা আপুর পরিবার এতে রাজি হবে কিনা। আমার মাথায় এই চিন্তা আসার পর আমি আমার ফুপু ও ফুপাতো ভাইদের সাথে আলোচনা করলাম। তাদের মতে ও ভালো প্রস্তাব কিন্তু আপু রাজি হবে কিনা সেটাই টেনশন আপুর পরিবার কে রাজি করাতে পারবে ফুপু। পরে ফুপুর সাথে আলোচনা করে বললাম " আমি ২ দিন পর ওই বাড়ি তে যাবো সায়মা কে আনতে তার পরের দিন আপনি ও ওই বাড়ি আসেন, খালা খালুকে আপনারা প্রস্তাব দেন দেখেন তারা কি বলে। কারণ সায়মার জন্য আমার মা দরকার এটা যত তারতারি পাওয়া যায় ভালো। আর সেই মা যদি তানিয়া আপু হয় তাহলে তো আর কোনও কথাই নাই। আর না হয় তাহলে আমাকে অন্য দিকে দেখতে হবে। " আমার কথা শুনে ফুপু বলল আমার যাওয়ার পরের দিন ফুপু ওই বাড়ি গিয়ে প্রস্তাব দিবে। তখন রাফি ভাই আমাকে সরম দেওয়ার জন্য বলল "কিরে যাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলি তারে আবার আপু বলস কেন?” আমি তার কোথায় লজ্জা পেয়ে বললাম সব সময় আপু বলে আসছি তো তাই হয়ে বলে ফেলেছি। রাফি ভাই বলল থাক আর লজ্জা পেতে হবে না। ফুপুর সাথে কথা বলে এসে চিন্তা করতে লাগলাম তানিয়া আপুরে কিভাবে বলবো কথাগুলা? সে কিভাবে নিবে? আমার মতো কি সে চিন্তা করবে? সে যদি রাজি না হয় কিভাবে তাকে মানানো যায়। পরের দিনগুলো আমার এই চিন্তা করতে করতেই গেছে।
Parent