পরীক্ষামূলক (প্রথম পর্ব সমাপ্ত) - অধ্যায় ১
জমিদারবাড়ি একটা বাড়ি নয়, অনেকগুলো বাড়ি মিলে একটা কমপ্লেক্স। তিনটে দোতলা বাড়ি, একটার নিচের তলায় জমিদারের কাছাড়ি ও দোতলায় অতিথিঘর ও বৈঠকখানা। এর দুইপাশে বাকি দুইবাড়ি, প্রথমটির নিচের তলায় ঠাকুরঘর, উপরের তলায় বড়বউ কামিনীর রাজত্ব। দোতলার সবচেয়ে বড়ঘরটি তার, সেখানেই রণধীরকেও বেশিরভাগ রাতে পাওয়া যায়। পাশের ঘরগুলো অর্ণন আর তার দুই দিদি, কমলা ও উপমার। আর একটা খাবার ঘর, দুটো খুচরো কামড়া, এই যা।
শেষ বাড়িটির দোতলার বাসিন্দা অরুণা, এর বড় ঘরেও তার বাস। রণধীর এখানে খুব কমই আসেন, তাই অরুণা তার মেয়ে বর্ণাকে নিয়েই থাকেন। বর্ণার নিজের ঘরও আছে, তাতে সে খুবই কম থাকে। বর্ণনের নিজের ঘর হয়েছে মাত্র কয়েকদিন, আগে সেও মা ও দিদির মাঝেই শুতো। হঠাৎ একদিন তাকে মা আলাদা ঘরে থাকতে দেয়, কেন তা সে বলতে পারবে না। বাকি কামিনীর বাড়ির মতোই।
বাকি রইলো নিচের তলা।
রণধীরের একমাত্র বোন, রমণার বিয়ে হয়েছিলো বেশ বড় ঘরে। তবে তার কপালে বেশিদিন স্বামীসঙ্গ ছিলো না, তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে নীলের হাঁত ধরে সে চলে আসে দাদার কাছে। বোনের বিধবা-বেশ রণধীরের সহ্য হয়, তাই বোনকে হালকা রঙের শাড়িতেই থাকা লাগে। ছোট বৌদি আর তার বয়স কাছাকাছি, তাই সে বাড়ির নিচেই তার বসবাস। ননদ-বৌদিরও বেশ ভাব, প্রায়ই উঠোনে বসে একে অন্যের মাথায় তেল দিতে দিতে হাঁসিতে ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাদের।
পরিবারের সবার সাথে সবার ভালো সম্পর্কই আছে বলা যায়, অন্তত কারো সাথে কারো গুরুতর ঝগড়া বাঁধেনি। ভাই-বোনেদেরও অনেক মিল, বিশেষ করে বোনেদের। একমাত্র বর্ণনই যা একটু চাপা স্বভাবের, তার সব জারিজুরি মা, পিসি আর দিদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পিসির সাথেই ভাব বেশি, তাকে সে ডাকে ছোটমা। বড়মা, অর্থাৎ কামিনী আর বড় দুই দিদিকে একটু ভয়ই পায় সে। তবে তার বেশি ভাব দাদা আর ছোড়দা নীলের সাথে।