রাহুলের বন্ধু রোহন ও তার মা - অধ্যায় ৪৫
সকালের নরম রোদ ঘরে এসে পড়েছে। সবকিছু আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে এসেছে। শ্যামলের ঘটনার পর সবাই একটা অদ্ভুত শান্তিতে আছে। কোনো ঝামেলা নেই, কোনো টেনশন নেই।
সুজাতা রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিল। সে একটা হালকা সবুজ সালোয়ার কামিজ পরে চা বানাচ্ছিল।
রোহন ঘুম থেকে উঠে এসে বলল,
“মা, আজকে কী করব?”
সুজাতা হেসে বলল,
“আজকে তোরা সবাই মিলে পিকনিকে যাবি বলেছিলি না? রাহুল, তুই, আমি আর রিনা — চারজন। তোর বাবা আজ অফিসে যাবে।”
রোহনের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
“হ্যাঁ! অনেকদিন পর বাইরে যাওয়া হবে। কোথায় যাবে ঠিক করেছ?”
সুজাতা বলল,
“বেলুড়ের কাছে নদীর ধারে একটা সুন্দর জায়গা আছে। অনেক গাছপালা, খোলা মাঠ। খাবার নিয়ে যাব।”
বিকেল তিনটে নাগাদ চারজন রওনা দিল। রাহুল তার গাড়ি নিয়ে এসেছিল। সুজাতা আর রিনা আন্টি পিছনের সিটে বসল। দুজনেই হালকা পোশাক পরে এসেছে — সুজাতা সাদা সালোয়ার কামিজ, রিনা আন্টি হালকা নীল শাড়ি।
গাড়িতে যেতে যেতে হাসি-ঠাট্টা চলছিল। রাহুল বলল,
“আজকে আমি সবাইকে চিকেন বিরিয়ানি খাওয়াব।”
রিনা আন্টি হেসে বলল,
“তুই তো খালি খাওয়ানোর কথা বলিস। আগে ভালো জায়গা খুঁজে বের কর।”
প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা নদীর ধারে পৌঁছাল। জায়গাটা সত্যি সুন্দর। বড় বড় গাছের ছায়া, নদীর হালকা স্রোত, আর খোলা ঘাসের মাঠ। খুব বেশি ভিড়ও নেই।
তারা একটা বড় গাছের নিচে মাদুর পেতে বসল। সুজাতা খাবার বের করল — পরোটা, আলুর দম, ফল, চিকেন স্যান্ডউইচ, আর ঠান্ডা জলের বোতল। রাহুল বিরিয়ানি নিয়ে এসেছিল।
রোহন আর রাহুল দুজনে মিলে ক্রিকেট খেলতে শুরু করল। সুজাতা আর রিনা আন্টি গাছের ছায়ায় বসে গল্প করছিল।
সুজাতা হালকা হেসে বলল,
“অনেকদিন পর এমন শান্ত দিন কাটছে। মনে হয় সব ঝামেলা পিছনে ফেলে এসেছি।”
রিনা আন্টি মাথা নেড়ে বলল,
“হ্যাঁ। এখন শুধু ভালো করে সময় কাটানো।”
বিকেল গড়িয়ে সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ল। নদীর উপর হালকা কমলা আলো পড়েছে। চারজন মিলে চা খেতে খেতে গল্প করছিল।
হঠাৎ রাহুল বলল,
“একটা প্রস্তাব আছে। আগামী মাসে আমরা সবাই মিলে দু’দিনের জন্য দীঘায় বেড়াতে যাই? শুধু আমরা চারজন।”
সুজাতা আর রিনা আন্টি দুজনেই একে অপরের দিকে তাকাল। তারপর হেসে মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।
সন্ধ্যা নামার আগে তারা গাড়িতে উঠল।