রাহুলের বন্ধু রোহন ও তার মা - অধ্যায় ৪৬
শুক্রবার সকাল ৬:৪৫ মিনিট। রাহুলের গাড়ি কলকাতা থেকে রওনা দিল। চারজনের মধ্যে একটা উত্তেজনা ছিল। সুজাতা আর রিনা আন্টি পিছনের সিটে বসেছিল, দুজনেই হালকা রঙের পোশাক পরে। রোহন সামনে রাহুলের পাশে।
সকাল ১১:২০ — দীঘায় পৌঁছানো
গাড়ি যখন সমুদ্রের কাছে পৌঁছাল, ঠান্ডা সমুদ্রের হাওয়া জানালা দিয়ে ঢুকতে লাগল। সবাই নেমে প্রথমে সমুদ্র দেখে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। নীল জল, সাদা ঢেউ আর দূরে মাছ ধরার নৌকা — দৃশ্যটা অসাধারণ লাগছিল।
হোটেলে চেক-ইন করে ফ্রেশ হয়ে তারা সোজা বিচে চলে গেল।
দুপুর ১২:৩০ — বিচে সময়
সুজাতা আর রিনা আন্টি ছাতার নিচে বসে ছিল। দুজনেই সানগ্লাস পরে, হালকা হাওয়ায় চুল উড়ছে। রোহন আর রাহুল দুজনে জলে নেমে খেলা করছিল। মাঝে মাঝে তারা দুজনকে ডেকে নিয়ে এসে ছবি তুলছিল।
সুজাতা হেসে বলল,
“এতদিন পর মনে হচ্ছে সত্যি ছুটিতে এসেছি।”
রিনা আন্টি বলল,
“এখানে এসে সব টেনশন যেন উড়ে গেছে।”
দুপুরে তারা বিচের একটা শ্যাকে লাঞ্চ করল। ফ্রেশ চিংড়ির মালাইকারি, ইলিশ ভাজা, ভাত আর সালাদ। খেতে খেতে সবাই খুব আনন্দ করছিল। রাহুল মজা করে বলছিল, “এখানে এলে মনে হয় সব সমস্যা সমুদ্রে ভেসে গেছে।”
বিকেল ৪:০০ — অ্যাডভেঞ্চার
খাওয়ার পর তারা জেট স্কি করল। প্রথমে রাহুল আর রোহন চালাল, পরে সুজাতা আর রিনা আন্টিকেও জোর করে নিয়ে গেল। সুজাতা জেট স্কিতে বসে চিৎকার করে হাসছিল। সমুদ্রের ঢেউয়ের উপর দিয়ে ছুটে যাওয়ার অনুভূতি ছিল অসাধারণ।
এরপর তারা বানানা বোটও করল। চারজন একসাথে বোটে উঠে পড়ল। বোট যখন জোরে ছুটছিল, সবাই হাসতে হাসতে একে অপরের গায়ে পড়ে যাচ্ছিল।
সন্ধ্যা ৬:৪৫ — সূর্যাস্ত
সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত ছিল সূর্যাস্তের সময়। চারজন বিচের বালিতে বসে সূর্যকে লাল হয়ে সমুদ্রে ডুবে যেতে দেখছিল। আকাশ কমলা, লাল আর গোলাপি রঙে ভরে গিয়েছিল। হালকা ঠান্ডা হাওয়া বইছিল।
সুজাতা চুপ করে বসে ছিল। তার চোখে একটা শান্তি। রিনা আন্টি তার কাঁধে হাত রেখে বলল,
“এই মুহূর্তগুলোর জন্যই তো বেঁচে থাকা।”
রাহুল ফোন বের করে কয়েকটা ছবি তুলল। রোহন চুপ করে সব দেখছিল।
রাত ৮:৩০ — ডিনার
রাতে তারা বিচের পাশে একটা খোলা রেস্টুরেন্টে ডিনার করল। টেবিলে মোমবাতি জ্বলছিল। মেনুতে ছিল — গ্রিল্ড পমফ্রেট, কাঁকড়ার ঝাল, চিংড়ির মালাইকারি, রুটি আর ভাজা। খেতে খেতে তারা অনেক পুরনো গল্প করল — কলেজের দিন, কলেজের মজার ঘটনা, প্রথমবার সমুদ্র দেখার কথা।
রিনা আন্টি হেসে বলল,
“এই ট্রিপটা আমাদের সবার জন্য খুব দরকার ছিল।”