সুন্দর শহরের ঝাপসা আলো - অধ্যায় ৬৯
প্রমীলা ম্যাডামের সঙ্গে সহমত পোষণ করি। ওনার মন্তব্য বুঝতে গেলে "analytical reasoning" পড়তে হবে। ছোট থেকে আমাদের কে যা সেখান হয় বড় হয়ে আমরা সে জিনিসের ধারক ও বাহক হই কোন রকম প্রশ্ন না করেই সবকিছু মেনে নিই। গতানুগতিক অথবা বহুল পরিচিত জিনিস গুলোকে আমরা স্বাভাবিক এবং সঠিক বলে মনে করি। ওর বাইরে চিন্তা করিনা। ওপর দৃষ্টি কোন থেকে দেখার প্রয়জন মনে করি না। নতুন অথবা অপরিচিত জিনিস কে আমরা ভয় এবং ঘৃণার নজরে দেখি। সমকামিতাকেও আমরা ট্যাড়া চোখে দেখি। কিন্তু জৈবিক দিক থেকে সেটা স্বাভাবিক। কোন পুরুষ ওপর পুরুষ মানুষ কে ভালো বাসতেই পারে। ওপর নারী ওপর কোন নারী কে। সেক্স করাটা জরুরী নয়।
এখন globalization এর যুগে পৃথিবীর সমস্ত ঘটনা প্রায় সব মানুষের উপর প্রভাব ফেলে। আমরা প্রতি নিয়ত অনেক কিছু নিজের জানতে এবং অজান্তে consume করে থাকি। তার প্রভাব অবশ্যই পড়ে। এক্ষেত্রে প্রভাবের মাত্রার উপর নির্ভর করে। স্বল্প মাত্রায় ধরা দেয়না। অথবা প্রভাবিত ব্যক্তির প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করে। কেউ যদি বলেন যে সে প্রভাবিত নয় তাহলে সে ভুল বলছে। প্রভাবের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন রকম হয়। আমরা যেমন প্রভাব অনুভব করতে চাই সে রকম নাও হতে পারে।
তিনি বলেছেন তিনি তার পুরুষ মানুষটিকে পেয়ে ধন্য। সেক্ষেত্রে গল্প পড়তে আসা বা না আসার কোন তর্ক হয়না। হতে পারে তারা দুজনে এই গল্পটাকে একসাথে পড়ে উপভোগ করছে। একই জিনিসের উপর সবার সমান দৃষ্টি ভঙ্গি থাকে না। ওনার মন্তব্য অনুযায়ী ওনার কৌতূহল শুধু মাত্র নায়িকার চরিত্রের উপর। উনি শুধু গল্পের নায়িকা চরিত্রকে লেখক কি রূপে উপস্থাপন করেছে সে বিষয় নিয়ে তার কৌতূহল। তিনি লেখকের মননশীলতা পরীক্ষণ করতে চান। অথবা দেখতে চান লেখক কীভাবে সে চরিত্র কে ফুটিয়ে তুলেছেন।এর বাইরে তার কোন ভালো লাগা নেই। এক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কি পেয়েছেন কি হারিয়েছেন তা নিয়ে সমালোচনা না করায় ভালো।
অনেক পুরুষ মানুষ পতিতালয় যান নিজের কামক্ষুধা মেটানোর জন্য নয় বরং সেখানকার নারীদের জীবন চর্চা উপলব্ধি করতেও যান। সেক্ষেত্রে সবাই কে একই শ্রেণীতে ফেলে দেওয়া যায় না।
হ্যাঁ নারী চরিত্র বিশ্লেষণের জন্য পৃথিবীতে গল্পের অভাব নেই। তা বলে কে কোন গল্প বেছে নেবেন তা নির্ধারণ করার অধিকার আমাদের কে দিয়েছেন?
মানুষকে উজ্জ্বলতা দেখার জন্য অনেক সময় অন্ধকারের আশ্রয় নিতে হয়। হীরে কিন্তু কয়লার খনিতেও পাওয়া যায়।
প্রমীলা দেবীর উদ্দেশ্য শুধু মাত্র জ্ঞানবর্ধন । আর জ্ঞান অর্জন করার মাধ্যম যা কিছুই হতে পারে।