ভালবাসার ঘর - অধ্যায় ১
আমি নাজমুল। ছোট থেকে আমি আমার নানা-নানী আর মায়ের কাছে বড় হয়েছি। বাবার মৃত্যুর পর আমার নানা-নানী কখনই আমার কোনোকিছুর রাখেননি। মা তার স্নেহ আর ভালবাসা দিয়ে আমাকে বড় করেছেন। আমার নানার কাছে প্রচুর টাকা থাকায় আমাকে কখনো কোনো কিছুর অভাব বোধ করতে হয়নি। আমি খুব ভালো ছাত্র ছিলাম। তাই সবাই আমাকে খুব ভালোবাসত। আমিও দুষ্টু ছিলাম। কিন্তু খুব বেশী না। ছোট ছোট দুষ্টুমি করতাম। তাই নামা-নানী আর মা আমাকে এসবের জন্য ক্ষমা করে দিতেন। তারা আমাকে সবসময় ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিতেন। বাইরে আমার তেমন বন্ধু ছিল না। নানা-নানী আর মাই ছিল আমার বন্ধু। আমাদের চারজনের মধ্যে একটা দৃঢ় বন্ধন ছিল। আমার বাবা মারা যাওয়ার কয়েক বছর পর আমার নানা-নানী মাকে আবার বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আমার মায়ের বয়স তখন ২০ বছর ছিল। আজও তাকে দেখে ২৫ বছরের মনে হয়। মা দেখতে খুব সুন্দর। সে ছিল পাতলা আর ফর্সা। ছিল লম্বা চুল আর মুখের আকৃতি আকর্ষণীয়। তার চোখ, ভ্রু, নাক, ঠোঁট দেখে মনে হয় কোনো শিল্পীর তৈরি। বিএসসি পর্যন্ত সে পড়ালেখা করেছে। বাবার মৃত্যুর পর সে আমাকে নিয়ে তার নতুন জীবন শুধু করেছিল। আমাকে একহাতে বড় করতে লাগলো। আমার আর কোনো খালা বা মামা নেই। তাই মাই নানা-নানীরও দেখাশোনা করতে লাগললো। সে ঘরের সব কাজ করতো। আমাকে পড়াতো। আর যখনই সময় পেতো সে গল্পের বই পড়তো। যেহেতু মা নানা-নানীর একমাত্র মেয়ে ছিল, তাই তার নানা-নানীর বাড়িতে তার থাকার সমস্ত ব্যবস্থা ছিল। আমার নানীর বয়সও তেমন বেশী ছিল না। তবে আমার বাবার পরিবারের কোন আত্মীয়-স্বজন না থাকায় আমার মা আমার নানা-নানীর সাথেই থাকতে লাগলো। সম্ভবত এতেই সে তার সুখ খুঁজে পেয়েছিল। সে ছিল খুব শান্ত প্রকৃতির। তবে হাসির কিছু হলে সে মন খুলে হাসত, আর টিভিতে কোন দুঃখের কিছু দেখলে সে কাঁদতো।