দাবার চাল - অধ্যায় ১৩
৬.৮
বাংলোটা চিটাগাং শহর থেকে কয়েককিলো দক্ষিণে, বহুপুরোনো ৷ সারাবছর বন্ধ পড়ে থাকে,জাবেদ মাঝেমাঝে সাথে করে মেয়েছেলে এনে এখানেই খেলাতো ৷
বাবাকে এখানে আনার কারন,তাকে সকলের আড়ালে রাখা,
আর তাকে সর্বক্ষণ পর্যবেক্ষণ করার জন্যে ববিতা মোরাং (নার্স) রয়েছে,
পুলিশ কেস হলেও বাবার নিরাপত্তার কথা আর মোটা অংকের ভিজিটের দরুন,ডাক্তার সিনহাও তাদের বাংলোতে এসে আখতারুজ্জামানকে দেখতে রাজি হয়েছেন ৷
বাবাকে সেখানে রেখেই জাবেদ আবার ফুলছড়ি রওনাদেয়,
ওদিকে, ঘটনাস্থলে
পুলিশ আসতে অনেকটাই সময় লেগে গেলো, হাসানের লাশকে এম্বুলেন্সে তোলা হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্যে ৷ ওসি মুকবুল হুজিয়াদের কাছে জিঙ্গাসাবাদ করে ডাইরিরে পয়েন্ট টুকে টুকে রাখতে লাগলো ৷
কখন তারা লাশটা দেখেছে?
আশেপাশে কেউ ছিলো কিনা?
এইসব ৷
নামকরা ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান চৌধুরীর ড্রাইভারের মৃত্যু, অবশ্যই চাঞ্চল্যকর একটা ঘটনা ৷
মুকবুল চৌধুরী সাহেবের সাথে ফোনে কন্টাক্ট করার চেষ্টা করলেন,কিন্তু তার ফোন বন্ধ!
যার ফলে, তিনি জাবেদকে ফোন দিলেন ৷
—জাবেদ কোথায় আছো ?
— আঙ্কেল
একটা ব্যবসায়ীক মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি
—তোমাদের ড্রাইভার, খুন হয়েছে!
—হোয়াট !!
হোয়াট আর ইউ সেয়িং ৷
—হুম, হাসানের লাশটা মাত্রই ময়নাতদন্তের জন্যে পাঠালাম ৷
— বাবা কোথায়?
— কেনো তোমার বাবা বাসায় নেই!
—না যে সকালে বের হলেন আর তো ঘরে যায়নি ৷
মুকবুল তার ডাইরি তে লাল কালিতে লিখলেন,
"আখতারুজ্জামান চৌধুরী নিখোজ !! "
— তোমাদের গাড়িটা এখানেই আছে,
হয়তো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উপর থেকে পড়েছে ৷
—আচ্ছা, আমি এখনই আসছি ৷