দাবার চাল - অধ্যায় ১৪
৬.৯
মাহেন্দ্রা স্ক্রোপিও ২০১৮ মডেলের গাড়িটার জায়গায় জায়গায় ঘসার দাগ আর জানালার গ্লাসগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো,
পুলিশ ক্রেন দিয়ে তা তুলেনিলো ৷
জাবেদ সেখানে পৌছাতেই তার চোখ ছলছল করে উঠলো,কিছুক্ষণ আগে দেওয়া ,গ্লিসারিনের প্রভাবে ৷
মুকবুল জাবেদের কাধে হাত রাখলেন,
—দেখো তুমি আমার ছেলের মতোই, তাছাড়া চৌধুরী সাহেব আমার খুব প্রিয় একজন ব্যাক্তি ৷ এবস্থায় তোমাকে শক্ত হতে হবে ৷
ধীরেধীরে জাবেদ কিছুটা স্বাভাবিক হলো!
—তোমার কি কারো উপর সন্দেহ?
— বাবা একজন সফল ব্যবসায়ী, উনার তো আর কোনো শত্রু নেই, তাছাড়া গত বছরও ব্যবসাসমিতির মিটিংয়ে মির্জাগ্রুপের সাথে আমাদের ঝামেলাহয়েছিলো, কিন্তু গতকয়েক মিটিংও বাবা অসুস্থ থাকায়এটেন্ড করতে পারেননি,আমিই ছিলাম ৷
—সম্প্রতি কারো সাথে কোনো ঝামেলা?
—সম্প্রতি.....
একটু চিন্তা করে জাবেদ বলতে লাগলো,
সম্প্রতি মামাদের সাথে নানার সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে একটু কথা কাটাকাটি হয়,
—তোমার মামা, মোমেন শেখের নামে এমনিতেই অস্ত্র মামলা পেন্ডিং আছে ৷ চৌধুরী সাহেবের কথাতেই তদন্ত তেমন ভাবে এগুয়নি ৷
মুকবুল তার ডাইরিতে লাল কালিতে লিখলেন,
১৷মুমেন শেখ
২৷মির্জা গ্রুপ
সাসপেক্ট!!
আর কোনো ঘটনা ?
—আসলে আঙ্কেল, ভালো মানুষের তো শত্রুর অভাব হয়না!
—তা অবশ্য ঠিক বলেছো ৷
মুকবুল ঘটনা থেকে দুটি সম্ভবনা কল্পনা করালো,
১৷ হতে পারে টাকার বা ব্যবসার জন্যে কিডন্যাপ!
২৷ নাহলে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই হামলা ৷
৩৷ হতে পারে চৌধুরী সাহেব গাড়িতেই ছিলেন না,
তবে হাসানের খুন হওয়া কিডন্যাপের বিষয় টাকে বাতিল করে দিচ্ছে, যদি কিডন্যাপেই করবে তাহলে খুন কেনো?
আবার চৌধুরী সাহেবকেও যদি খুন করে থাকে তাহলে লাশটা কোথায় ?
আপাতত বিষয়টা তালগোল পাকানো,
আবার এও তো হতে পারে তিনি অন্য কোথাও গিয়েছেন!!
মুকবুল তার ক্যারিয়ারে কম ঘটনার জট খুলেনি, আদালতে যেই রিপোর্টই তিনি সাবমিট করুকনা কেনো দিন শেষে কিন্তু তিনি ঘটনার জড় পর্যন্ত পৌছেই দম নেয় ৷
—যেহেতু চৌধুরী সাহেবের লাশ পাইনি তাই,উনি আইনের চোখে জিবীতই আছেন,
আর তোমাদের ড্রাইভারের লাশ ময়নাতদন্তের পর দেখি কি রিপোর্ট আসে ৷
—আঙ্কেল, এমন কাজ যারাই করেছে আমি তাদের শেষ না দেখে ছাড়বো না ৷ আপনার যখন যা সহযোগীতা লাগবে আমাকে বলবেন ৷
—তোমার সহযোগীতা তো লাগবেই!
অপেক্ষা করো, যদি উনি কিডন্যাপ হয়ে থাকেন, কেউ তো তোমার সাথে কন্ট্রাক করার চেষ্টা করবেই ৷